তলদেশে অসংখ্য ছিদ্র, শ্যালো মেশিনে পানি সেচে চলছে ফেরি

কান্ট্রি ডেস্ক, বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নড়াইল: শ্যালো মেশিন দিয়ে সাধারণত খাল-বিল বা পুকুর থেকে পানি সেচে জমিতে ফসল লাগানো বা মাছ ধরা হয়। কিন্তু ছবির এ দৃশ্যটি বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। এখানে শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে ফেরি থেকে পানি সেচে ফেলা হচ্ছে যাতে করে এটি নদীতে ডুবে না যায়।

বলছি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কালানা ঘাটের ফেরির কথা। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার পূর্বপাশে এবং গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পশ্চিমপাশে ঠিক কালনা ফেরিঘাটের অবস্থান। অথচ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ ঘাটে জরাজীর্ণ ফেরিতে পারাপার করা হচ্ছে ছোট বড় বিভিন্ন যানবাহন। ফেরির তলদেশে রয়েছে অসংখ্য ছিদ্র, আবার পাটাতন পুরোটাই জোড়াতালি দিয়ে তৈরি করা। এ অবস্থায় ফেরিগুলো থেকে পানি সেচে তা চালাতে হয়।

এ রকম ঝুঁকিপূর্ণ ফেরি দিয়েই পারাপার হচ্ছে যানবাহন। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও পরিস্থিতি পরিবর্তনে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ। পারাপারের সময়ে আতঙ্কে থাকেন যাত্রীরা।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নড়াইল-গোপালগঞ্জের মাঝে অবস্থিত কালনা ফেরিঘাট দিয়ে চলাচলে ঢাকার সঙ্গে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর নওয়াপাড়া এলাকার দূরত্ব অনেক কম হয়। এ কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার বাস-ট্রাক, ট্যাংক-লরি, কাভার্ড ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে থাকে।

ফেরির তত্ত্বাবধায়ক বিল্লাল হোসেন জানান, এ ঘাটে বর্তমানে দুটি ফেরি আছে। একটি ইউটিলিটি টাইপ-১ এর ১৬ নাম্বার ফেরি। এটি ছোট, এতে ৭-৮টি গাড়ি ধরে। অন্যটি ইউটিলিটি টাইপ-১ এর চার নাম্বার ফেরি। এটি বড়, এ ফেরিটিতে ১৬-১৭টি গাড়ি ধরে। দুটি ফেরি দিয়েই পানি ওঠে। বড় ফেরিটি বেশি জরাজীর্ণ। এর তলদেশে অসংখ্য ছিদ্র এবং পাটাতনে পুরোটাই জোড়াতালি দেওয়া।

তিনি আরও জানান, ১৯৮৬ সালে নির্মাণ করা হয় এসব ফেরির পাটাতন। ৩০ টনের বেশি ওজনের ট্রাক এ পাটাতন সইতে পারে না। বর্তমানে এ ধরনের ট্রাক বেশি চলে। এ জন্য পুরো পাটাতন ফেটে গেছে। আর যেখানে ফাটে সেখানে জোড়াতালি দেওয়া হয়। এভাবে এখন পুরো ফেরির পাটাতন জোড়াতালি দেওয়া। তাই বৃষ্টি হলেই পাটাতন দিয়ে পানি ঢোকে। এছাড়া পুরনো হওয়ায় তলদেশে অসংখ্য ছিদ্র হয়েছে। তলদেশ দিয়েও পানি ঢোকে। তাই সব সময় পানি সেচে সেচে এ ফেরি চালাতে হয়। ঝুঁকিও রয়েছে ডুবে যাওয়ার।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১৮ জুন গভীর রাতে এ ধরনের জরাজীর্ণ ইউটিলিটি টাইপ-১ এর ১৪ নাম্বার ফেরিটি পানি উঠে ছয়টি ট্রাকসহ ডুবে গিয়েছিল। ফেরিতে বাস বা যাত্রী ছিল না। যাত্রী থাকলে প্রাণহানি ঘটতে পারত।

এ সড়কে চলাচলকারী বাস চালক সুজন বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিন কালনা ফেরি পার হতে হয়। যাত্রীদের নিয়ে যেকোনো সময় ফেরি ডুবে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। তাই ভয়ে থাকি।’

যাত্রী আবুল খায়ের, মৌমিতা বিশাস বলেন, ‘চাকরির প্রয়োজনে প্রতিদিন কালনা ফেরি পার হতে হয়। তবে ভয়ে থাকি কখন ফেরি ডুবে যায়। অবিলম্বে কালনা ঘাটে নতুন ফেরি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

ফেরিঘাটের ইজারাদার মঞ্জুরুল হাসান বলেন, ‘আগামী তিন বছরের জন্য প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা দিয়ে ফেরিঘাট ইজারা নিয়েছি। কিন্তু ফেরির দৈন্যদশায় ঝুঁকির মধ্যে চলতে হচ্ছে। ফেরির জন্য অনেকবার বলেছি। ফেরি বিভাগের গাফিলতির জন্য এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।’

গোপালগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) এ ঘাটের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ সহকারী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান জানান, এ ঘাটে ফেরি মূলত তিনটি। এর একটি মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেটি ফিরে এলে আরেকটি মেরামত করতে পাঠানো হবে। সংস্কার বা মেরামত করা হলে ফেরির সমস্যা থাকবে না।