বিজয়: শঙ্কা পিছু ছাড়ছে না আরিফুলের

নূর আহমদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেট: বিজয় নিয়ে শঙ্কা পিছু ছাড়ছে না সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এগিয়ে থাকা বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর। স্থগিত হওয়া দুটি কেন্দ্রের ভোটের হিসাব নিকাশ একটু আগেভাগেই কষে নিয়েছেন তিনি। ওই দুই কেন্দ্রে মোট ভোটারের মধ্যে কয়েকজন ভোটার মারা গেছেন। এছাড়া কিছু ভোটার প্রবাসে রয়েছেন। এখন মৃত ব্যক্তিরা ভোট না দিলে বিজয় সুনিশ্চিত বলে মন্তব্য আরিফুল হক চৌধুরীর।

সিলেট সিটি করপোরেশনের স্থগিত হওয়া দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ পুনরায় আগামী ১১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে গোলযোগ ও মাত্রাতিরিক্ত জাল ভোট পড়ার কারণে তাৎক্ষণিক এই দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে দেয় নির্বাচন কমিশন।

তবে নির্বাচনের ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২টি কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে আছেন বিএনপি মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি পান ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট। আর আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন ৮৫ হজার ৮৭০ ভোট। বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে ভোটের ব্যবধান ৪৬২৬। যে দুটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন তাতে মোট ভোটার ৪৭৮৭। এই অনুপাতে ১৬১ ভোট পেলেই আরিফুর হক চৌধুরীর জয় নিশ্চিত ।

স্থগিত হওয়া এই দুটি কেন্দ্রগুলো হচ্ছে নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২৪ নং ওয়ার্ডে গাজী বুরহান উদ্দিন ও গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র। আগামী ১১ আগস্ট এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন।

বিজয়ের অনেকটা কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও আরিফুল হক চৌধুরী এই নির্বাচনকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তার পক্ষে নেতাকর্মীরা গণ সংযোগও করেছেন এই দুটি কেন্দ্রে। খুঁটে খুঁটে জয় পরাজয়ের হিসাব কষছেন তিনি। এছাড়া প্রকৃত ভোটারদের একটা তালিকা তৈরি করে রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিয়েছেন।

রিটার্নিং অফিসারের কাছে আরিফুল হক চৌধুরীর জমা দেয়া তালিকা মতে স্থগিত হওয়া হবিনন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় টুলটিকর কেন্দ্রের ২৫৬৬ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার- ১৩২৫ ও নারী ভোটার ১২৪১ জন রয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৮০ জন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছেন ৮০ জন। ওয়ার্ড ছেড়ে চলে গেছেন অন্তত আরও ২৫ থেকে ৩০ জন। চাকরি থেকে বদলি হয়েছেন আরও ৩ জন। এসব ভোটারদের নাম উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে তালিকা জমা দেন আরিফুল হক চৌধুরী।

একইভাবে হাজী বুরহান উদ্দিন ও গরম দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটারদের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে তালিকা জমা দেন আরিফুল। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২২২১। মারা যাওয়া, প্রবাসে অবস্থান মিলিয়ে প্রায় ২শ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগে বিরত থাকবেন বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়।

এদিকে এই দুই স্থগিত কেন্দ্রের নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির তৎপরতা দেখা গেলেও আওয়ামী লীগ নীরব রয়েছে।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, একমাত্র মৃত ব্যক্তিরা ভোট না দিলে তার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। তিনি স্থগিত হওয়া কেন্দ্রের সকল ভোটারদের স্বতস্ফূর্ত ভাবে ভোট প্রদানের জন্য অনুরোধ জানান।

প্রসঙ্গত, স্থগিত হওয়া দুটি কেন্দ্রের মেয়র পদ ছাড়াও কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংরক্ষিত ওয়ার্ড-৭ এর দুজন প্রার্থীর ভোট সমান সমান হওয়ায় ওই দিন এই ওয়ার্ডের ১৪টি কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন :