চুক্তিতে চালক বিলুপ্তিসহ পদ্ধতিগত পরিবর্তন চান বিশেষজ্ঞরা

ঢাকা: রাজধানীতে সাম্প্রতিক বেশ কিছু দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বাসের পাল্লাপাল্লিকে দায়ী করে চুক্তিতে বাস চালানো উঠিয়ে দিতে পরামর্শ এসেছিলো। মালিক সমিতি এ ব্যবস্থার বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু চুক্তিভিত্তিক পদ্ধতি বাতিল ছাড়াও গণ পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে পরিবহন খাতে শত শত কোম্পানির পরিবর্তে ফ্রাঞ্চাইজ পদ্ধতির বাস নামানো দরকার বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আর বাস রুটের অনুমোদন প্রক্রিয়াতে পরিবর্তন আনতে হবে। এসব পদ্ধতিগত পরিবর্তন আসলেই সড়ক দুর্ঘটনারোধ হতে পারে- এমন মত তাদের।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, ‘চুক্তিভিত্তিতে চালক যখন বাস চালায় তখন দিনে তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হতো। এরপর সে (চালক) যা আয় করবে সেটা তার ও হেল্পারদের মধ্যে ভাগাভাগি হতো। এতে ওই পরিমাণ টাকা আয়ের জন্য চালক দ্রুত বাস চালিয়ে রেষারেষি করতো।

‘এ অবস্থায় রাজধানীতে প্রায় ৩০ ভাগ গাড়ি চলছিলো বলে সমিতির কাছে তথ্য আসে। এরপর এখন আর এ পদ্ধতি নেই। যারা চুক্তিভিত্তিক চালাচ্ছে এখনও তাদের নিবন্ধন বাতিল করে দিচ্ছি’- বলেন খন্দকার এনায়েত।

বুয়েটের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুর কৌশল বিভাগের অধ্যাপক পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সামছুল হক চুক্তিভিত্তিক পদ্ধতি বিলুপ্তিকে সমর্থন করে বলেন, এরকম আরও কিছু পদ্ধতিগত পরিবর্তন দরকার। যেমন, বাস রুটের অনুমোদন দেওয়া হয় প্রভাবশালীদের। যারা আরও মালিক নিয়ে একটি কোম্পানি গড়ে চাঁদা তুলেন পরিবহন খাত থেকে।

এই কোম্পানি প্রথা বাদ দিয়ে ফ্রাঞ্চাইজি বাস পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে। তখন গণ পরিবহন খাতে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে। এখন সরকার এটা করতে বেশি দেরি করে ফেলেছে।

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের উদ্যোগে ফ্রাঞ্চাইজি বাস প্রকল্পের কনসালটেন্ট ছিলেন পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।

বার্তা২৪.কমকে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরে এ প্রকল্পে গতি এসেছে। তিনদিন আগে একটি বৈঠক হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। এটি বাস্তবায়ন করতে সিটি কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই।

সরকার লেগে থাকলে এ বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির তথ্যে, ঢাকায় ১৯৪টি রুটে ২৪৬টি কোম্পানির ৮ হাজার বাস চলে। প্রতিদিন যাত্রী হয় এক কোটি।

ফ্রাঞ্চাইজি পদ্ধতি হলে পাঁচ রংয়ে তিন ধরণের বাস হবে। একটি ৫২ সিটের, আরেকটি ৪০ থেকে ৪২ সিটের এসি গাড়ি এবং তৃতীয়টি আর্টিকুলেটেড বাস।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বীকার করেছেন, গেলো ৫ থেকে ৭ বছরে সড়কে বিশৃঙ্খলা থামানো যায়নি। ছাত্রদের আন্দোলন পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে। এরকম আন্দোলন দরকার ছিলো। তবে শৃঙ্খলা ফেরাতে আওয়ামী লীগ সরকারের আরও একবার ক্ষমতায় আসা বা আরও ৫ বছর দরকার হবে মনে করেন তিনি।

জাতীয় এর আরও খবর