বর্ষাই এই মাঠটির জন্য অভিশাপ!

ডিস্টিক করেসপন্ডেন্ট

  • Font increase
  • Font Decrease

লক্ষ্মীপুর: জেলার সবচেয়ে বড় বিদ্যাপীঠ লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির সামনেই রয়েছে বিরাট খেলার মাঠ। যেখানে কলেজ শিক্ষার্থীরা ছাড়াও স্থানীয় শিশু-কিশোর ও যুবকরা খেলাধুলা করেন। তবে বর্ষা এলেই সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুপানিতে ডুবে থাকে মাঠটি। তখন এটিকে মাঠ মনে হয় হয় না। মনে হয় একটি বিশাল দিঘী। পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী কোনো ব্যবস্থাও নেই। মাঠটিতে অসংখ্য গর্তে ভরা। যার কারণে পানি জমে থাকে এবং কাদা সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুমই যেন এই মাঠটির জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়।

গেল বছর কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের জন্য অস্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়। এতে পানি নেমে গেলেও মাঠটি কাদাপানিতে খেলাধুলার জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সেখানে ফুটবল নিয়ে খেলতে নামলে কাদায় বলটি আটকে যায়। অল্প সময়ে খেলোয়াড়রা দুর্বল হয়ে পড়ে। কাদাপানি জমে থাকায় কলেজের সৌন্দর্যে বিঘ্ন ঘটে।

জানা গেছে, ১৯৬৪ সালের ১ জুলাই বর্তমান লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের যাত্রা শুরু হয়। যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মরহুম অধ্যাপক আবদুল জব্বার। কলেজের জমির পরিমাণ ৮ একর ৬৩ শতাংশ। এরমধ্যে রয়েছে বিরাট খেলার মাঠ। কলেজের আশপাশের এলাকায় বহুতল ভবন রয়েছে। তবে সেখানে নেই কোনো খেলার মাঠ। যার কারণে খেলা প্রিয় শিশু-কিশোর-যুবকরা এ মাঠটিতে খেলতে আসে। বড় মাঠ হওয়ায় এক পাশে একেক রকম খেলায় মগ্ন থাকে তারা। এছাড়াও শুষ্ক মৌসুমে কলেজ মাঠটি যেন একটি পার্কে পরিণত হয়। দূর-দূরান্ত থেকে নিরিবিলি একটু সময় কাটানোর জন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে কলেজ আঙিনায় দেখা যায়। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাঠে বসে আড্ডা দিয়ে সময় পার করে দেন। তবে বর্ষা এলে এই মাঠে যাওয়া আর সম্ভব হয় না।

খেলাপ্রেমী কয়েকজন জানান, মাঠটির পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা দরকার। এছাড়া মাঠটিতে থাকা গর্ত ভরাট করলে আর কাদাপানির সৃষ্টি হবে না। তখন সারাবছর মাঠটি খেলাধুলার উপযোগী থাকবে বলে আশাবাদী তারা।

লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাইন উদ্দিন পাঠান জানান, মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য অস্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন আর পানি জমে থাকে না। তবে কাদাপানিতে মাঠটিতে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ড্রেন ও মাঠ ভরাটের কাজ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :