খুলনায় পশুর সংকট, দুশ্চিন্তায় ক্রেতা-বিক্রেতারা

খুলনা: খুলনায় এবার পশুর সংকট রয়েছে। তবে সংকট থাকলেও কোরবানিতে নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে খুলনার ২৭টি পশুরহাটে সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে মেডিকেল টিম। এছাড়া পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি একাধিক সংস্থার নজরদারি থাকবে।

ইতোমধ্যে পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী, ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর খর্ণিয়া, বটিয়াঘাটা উপজেলার বারোআড়িয়ায় পশুর হাট বসেছে। তবে চাহিদার তুলনায় হাটে গরু আমদানির পরিমাণ কম। মূলত ভারতীয় গরুর ওপরে নির্ভরশীল খুলনার পশুর হাট। এ কারণে পশুর দাম ওঠা-নামা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাপ্তাহিক হাটে চাহিদার তুলনায় গরু আমদানির পরিমাণ কম। তবে কোরবানি ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে আমদানির পরিমাণ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ীরা।

এবারে জেলায় হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে নগরীর জোড়াগেট, বটিয়াঘাটার খারাবাদ বাইনতলা, বারোআড়িয়া, ডুমুরিয়া আঠারো মাইল, খর্ণিয়া, শাহপুর, পাইকগাছার জিরোপয়েন্ট, চাঁদখালী, কাসিমনগর, বাঁকা, গদাইপুর, কয়রার বামিয়া, দেওলিয়া, ঘুগরাকাটি, দাকোপের বাজুয়া, চালনাবাজার, পুটিখালী, রূপসার কাজদিয়া, আমতলা, তেরখাদার ইখড়িকাটেঙ্গা, ফুলতলার জামিরা, উপজেলা সদর, দিঘলিয়ার পথের বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাজী জালালউদ্দিন কলেজ মাঠ, এমএ মজিদ কলেজ মাঠ ও ফুলবাড়ী গেট।

খুলনা সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত জোড়াগেটে পশুর হাট বসবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী- ফুলতলা উপজেলায় এক হাজার ৬২০টি গরু ও ১৫০০টি ছাগল, দিঘলিয়া উপজেলায় ২ হাজার ১০৯টি গরু ও এক হাজার ১৩৭টি ছাগল, তেরখাদা উপজেলায় ৩ হাজার ১৫০টি গরু ও ২ হাজার ৬৭৩টি ছাগল, রূপসা উপজেলায় ৬৯০টি গরু ও দেড়শ’ ছাগল, দাকোপ উপজেলায় ৮৭০টি গরু ও ৮৫০টি ছাগল, কয়রা উপজেলায় ৪ হাজার ৭৭৯টি গরু ও ২ হাজার ১৩৭টি ছাগল, পাইকগাছা উপজেলায় ২ হাজার ৯১টি গরু ও ২ হাজার ২৮৩টি ছাগল, ডুমুরিয়া উপজেলায় তিন হাজার ১২০টি গরু ও এক হাজার ৩০২টি ছাগল, বটিয়াঘাটা উপজেলায় ২ হাজার ৪২৭টি গরু ও ৮৪৩টি ছাগল ও মহানগরী এলাকায় ৩৩০টি গরু ও ১০২টি ছাগল কোরবানির হাটের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এবার জেলার ৪ হাজার ৫৫২ জন খামারি ফেব্রুয়ারি থেকে কোরবানির পশু লালনপালন করছে।

পশু সম্পদ অধিদপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী- ২০১৭ সালে ৪৩ হাজার ৪৪০টি গরু এবং ৩৬ হাজার ৫০৭টি ছাগল কোরবানি হয়। ২০১৬ সালে জেলায় কোরবানি করা পশুর সংখ্যা ছিল এক লাখ ১২ হাজার।

বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার রায় জানান, বারোআড়িয়া, খারাবাদ বাইনতলায় দু’একদিন পর থেকে পশুর হাট বসতে শুরু করবে। নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে খামারিদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জেলায় কোরবানির পশুর সংকট রয়েছে। তবে তা নিরসনে প্রতিবারের মতো এবারও যশোর, নড়াইল থেকে গরু এনে জেলার জোড়াগেট, শাহাপুর, খর্ণিয়া, আঠারো মাইল, জামিরা, দিঘলিয়া এমএম মজিদ কলেজ মাঠ, কাজদিয়া হাটে বিক্রি করা হবে।

তিনি জানান, নিরাপদ মাংসের জন্য মহানগরীর ৩৫ জন কসাইকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রেজাউল করিম জানান, জোড়াগেট বাজারে আগত প্রত্যেকটি পশুকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। পশু অসুস্থ হলে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হবে।

জাতীয় এর আরও খবর

//election count down