জীবনের চেয়ে কি সময়ের মূল্য বেশি!

ঢাকা: বেলা তখন ১২টা। সন্তানকে স্কুল থেকে নিয়ে বাসায় ফিরছেন লাইজু আক্তার। বাংলামোটর মোড়ে ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও মূলসড়ক দিয়ে রাস্তা পার হন তিনি। শুধুমাত্র কিছুটা সময় বাঁচানোর জন্যই এমনটা করেছেন বলে জানান লাইজু। তবে কাজটি করে তিনি কিছুটা লজ্জিত।

লজ্জা মেশানো কন্ঠে লাইজু আক্তার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে পার হতে বেশি সময় লাগে। তাছাড়া সিঁড়িগুলো একটু উঁচু হওয়ায় বাচ্চাকে নিয়ে পার হতে কষ্ট হয়। কিন্তু কাজটি ঠিক হয়নি বুঝতে পারছি। পরবর্তীতে আর এমনটা করবো না।

লাইজু আক্তারের মতো বেশিরভাগ পথচারীই ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে মূল সড়ক দিয়ে রাস্তা পার হয়ে থাকেন। একই চিত্র দেখা যায় রাজধানীর ফার্মগেট, শাহবাগ, নিউমার্কেট ও আসাদগেটসহ বেশিরভাগ এলাকায়।

আর তাই প্রতি বছর রাজধানীতে চার শতাধিক দুর্ঘটনা হচ্ছে বলে উঠে এসেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের এক গবেষণায়।

বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী প্রতি বছর ঢাকায় শুধুমাত্র ফুটওভার ব্রিজ না ব্যবহার করে মূল সড়ক দিয়ে রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে চারশ’রও বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। পঙ্গু হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। অকালে মারা যাচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু তারপরও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামান্য সময় বাঁচাতে পথচারীরা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে ব্যস্ত সড়কে যানবাহন চলমান অবস্থায় রাস্তা পার হচ্ছেন।

ফুটওভার ব্রিজগুলোতে হকার ও ভিক্ষুকদের দখলে থাকায়, পথচারীদের ওভার ব্রিজ ব্যবহারে অনীহা দেখা যায়। এর সঙ্গে রয়েছে নিরাপত্তাহীনতা। রাত হলেই ফুটওভার ব্রিজগুলোতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম বেড়ে যায় বলে জানান পথচারী ফরিদ আহমেদ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/10/1533897599924.jpg

শাহবাগের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে নিচ দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার পর তিনি বলেন, অবশ্যই পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করা উচিত। কিন্তু রাতের বেলা এসব ফুটওভার ব্রিজে ছিনতাইকারীরা ওত পেতে থাকে। প্রতিদিন এসব ফুটওভার ব্রিজে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে তাই আমরা নিচ দিয়ে পার হই।

তবে ফুটওভার ব্রিজগুলোকে আরও আধুনিক করা গেলে মানুষ তা ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠবেন বলে জানান বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের গবেষণা কেন্দ্রের শিক্ষক সাইফুন নেওয়াজ।

তিনি বলেন, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করায় প্রতি বছর চার শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, যেসব জায়গায় ফুটওভার ব্রিজগুলো আধুনিক করা হয়েছে সেখানে পথচারীদের আগ্রহ বেড়েছে। আবার শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য উপযোগী কোনো ফুটওভার ব্রিজ এখনও নির্মিত হয়নি। তারা কিভাবে রাস্তা পারাপার হবেন সে বিষয়েও সরকারকে ভাবতে হবে। অন্যদিকে মানুষকে সচেতন করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা যেতে পারে। কারণ অনেক সময় শাস্তির অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ বেশি কাজে লাগে মানুষের ক্ষেত্রে। কিন্তু এক্ষেত্রে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

বর্তমানে রাজধানীতে ৮৩টি ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। এসব ফুটওভার ব্রিজে তৈরিতে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা।

জাতীয় এর আরও খবর