সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন

ঢাকা: ধারাবাহিক কয়েকটি সিটি নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবার পূর্ণ মনোনিবেশ করেছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে। আগামী ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচন হতে পারে। এ হিসাব অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি গুছিয়ে নিতে চায় ইসি।

কমিশন কর্মকর্তারা বলছেন, সংসদ নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। সিটি নির্বাচনের পর এখন জাতীয় নির্বাচনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় নির্বাচনের কর্মকাণ্ডের মধ্যে থাকছে নির্বাচনী সামগ্রীসহ সবস্তরের কেনাকাটা ইত্যাদির সামগ্রিক প্রস্তুতি। আসছে অক্টোবরে চলবে শুধু রুটিন কাজ। কারণ অক্টোবরের শেষের দিকে তফসিল ঘোষণার জন্য সম্ভাব্য সময় ধরা আছে। এবারের নির্বাচনে ভোটার বেড়েছে প্রায় এক কোটি। সে কারণে বেড়েছে ভোটকেন্দ্রও। আর ভোটকেন্দ্র বাড়ার কারণে বেড়েছে ভোট গ্রহণকর্মী।

চলতি মাসে শুরু হয়েছে ৩শ’ সংসদীয় আসনের ভোটকেন্দ্র স্থাপনের কাজ। সেটির প্রাথমিক কাজ শেষে কিছু জায়গায় প্রকাশ পেয়েছে খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা। অল্প কিছু দিনের মধ্যে চূড়ান্ত হবে এ কর্মযজ্ঞ। একই সঙ্গে চলছে ভুলত্রুটি সংশোধন করে ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণের কাজ। এ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় বছর বছর ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ করা থেকে এবার বিরত থেকেছে কমিশন। ফলে বিদ্যমান তালিকা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন।

গত দশম জাতীয় সংসদের চেয়ে এবার নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ও ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে। সে হিসাবে বাড়তি ভোটার ও কেন্দ্রের জন্য নির্বাচন সামগ্রী কেনা হচ্ছে বেশি। এছাড়া গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে ব্যয়ও বাড়ছে। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে ইসি দু’টি নির্বাচনের প্রস্তুতি একসঙ্গে নিচ্ছে।

এবার আরপিও সংশোধন না হলেও জাতীয় নির্বাচনের কিছু আসনে ইভিএমে নির্বাচন করতে প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে ইসি। এজন্য থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতিকরণ প্রশিক্ষণ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে সেনাবাহিনী নামানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত তফসিলের পর নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা।

সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, বড় পরিসরের স্থানীয় নির্বাচন শেষ। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে যত ধরনের প্রস্তুতির দরকার সবই নেওয়া হচ্ছে। ডিসেম্বরে ভোট গ্রহণের সময় ধরে নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা করা হবে। এর জন্য সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সামগ্রীসহ সবস্তরের কেনাকেটা শেষ করা হবে। কারণ অক্টোবরে রাজনৈতিক দলসহ নির্বাচনের টুকিটাকি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে কমিশনকে।

তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে ভোটকেন্দ্রগুলো স্থাপন করা এবং ভোটার তালিকার ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করে তা চূড়ান্ত করার কাজ করছি। পাশাপাশি নির্বাচনের কেনাকাটা সবই করা হচ্ছে।

ভোট কর্মকর্তাদের তালিকা তফসিল ঘোষণার আগে করার পরিকল্পনা আছে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে এই তিনি বলেন, বিতর্ক সব সময় থাকবে। কারণ সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে এ কাজটি করা হয়। ৩শ’ সংসদীয় আসনের প্রায় ৪০ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের জন্য প্রায় ৬-৭ লাখ ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা লাগে। এতো কিছুর পরও তফসিল ঘোষণার পরে এসব তালিকা করা হবে।

এদিকে খুলনা, গাজীপুর ও সর্বশেষ তিন সিটি (বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট) নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে আমলে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন ইসি। এর মধ্যে কয়েকটি কেন্দ্রে পড়েছে অস্বাভাবিক ভোট। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।

জাতীয় এর আরও খবর