সুন্দরবনের দস্যুদের আত্মসমর্পণ: ‘আগস্ট ইজ দ্যা লাস্ট টাইম’

ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট

  • Font increase
  • Font Decrease

খুলনা: প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের আঁধার সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে কয়েকটি বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত টাস্কফোর্স।

বনদস্যু-জলদস্যুদের সাধারণ ক্ষমায় আত্মসমার্পণে সরকারের প্রতিশ্রুতি চলতি মাসেই শেষ হচ্ছে। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া বন্ধ ঘোষণা করেই সাঁড়াশি এ অভিযানের মাত্রা আরও জোরদার হবে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

জানা গেছে, সুন্দরবনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অভিযান আবার বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোস্টগার্ড ও র‌্যাবের অব্যাহত অভিযানে কোণঠাসা সুন্দরবনের কয়েকটি বাহিনী। তবে নির্ধারিত সময়ের ভেতরেই ওইসব বাহিনী আত্মসমর্পণ করবে বলে জানা গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/16/1534398192445.jpg

বুধবার (১৫ আগস্ট) র‌্যাবের-৬ এর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বনদস্যু আলামীন বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় র‌্যাবের দু’জন সদস্য আহত হয়। সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের বেশ কয়েকটি স্থানে ওই দস্যু বাহিনীকে ধাওয়া করে র‌্যাব। অবশেষে খুলনার কয়রা উপজেলার শিবসা নদীর মারকির বাওনের খালে এসে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ২৩ জন জেলে, সাতটি নৌকা এবং বেশকিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, সুন্দরবনে জলদস্যু-বনদস্যু মুক্ত হওয়ার খবরে স্বস্তি ফিরছে বনজীবী উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের। দস্যুদের নির্যাতন নিপীড়ন ও মুক্তিপণের টাকা দেয়া থেকে রক্ষা পেতে যাচ্ছেন হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী। মুক্তিপণের টাকা দাদন নিয়ে বনদস্যুদের দিয়ে সারা বছর ধরে ঘানি টানতে হয় অসহায় এ মানুষগুলোকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/16/1534398225479.jpg

র‌্যাব, কোস্টগার্ড ও বনবিভাগের সূত্র মতে, বিশাল সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার উপকূলবর্তী মানুষ প্রতিনিয়তই বনদস্যু/জলদস্যুদের আক্রমণের শিকার হয়। সুন্দরবনসহ বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় বনদস্যু, জলদস্যুদের দমনের লক্ষ্যে র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও বনবিভাগের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে। যার প্রধান সমন্বয়কারী র‌্যাবের মহাপরিচালক।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সরকারের এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। টাস্কফোর্স প্রধান বলেন, ‘আগস্ট ইজ দ্যা লাস্ট টাইম। এরপর থেকে সুন্দরবনে যারা দস্যুতা করার সাহস দেখাবে তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি। ইতোমধ্যে যারা আত্মসমর্পণ করেছে বা নির্ধারিত সময়ের যারা করবে তারা প্রাণে বাঁচবে। সুন্দরবনে দস্যু থেকে গেলে তার রক্ষা নেই।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/16/1534398251220.jpg

তিনি আরও বলেন, ‘আত্মসমর্পণকৃত জলদস্যু-বনদস্যুদের পুনর্বাসনে ‘সুন্দরবনের হাসি’ প্রকল্প চলতি বছরের গত ১২ জুন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোসহ তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও এ প্রকল্পে অনেক সুবিধাদি রয়েছে।’ এছাড়া সরকারের নানা পরিকল্পনায় সুন্দরবন বিশ্বের পর্যটন বাজারে আরও মনোমুগ্ধকর রূপে হাজির হতে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট ২৬টি বাহিনীর ২৪৩ জন জলদস্যু সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। জব্দ হয়েছে ৩৭৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৮ হাজার ৮০৪ রাউন্ড গোলাবারুদ। আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসায় তারা সমাজের অন্যান্য অপরাধী ও বিপদজনক জনগোষ্ঠীর সামনে একটি উদাহরণ সৃষ্টি করছে।

র‌্যাব-৬ অধিনায়ক হাসান ইমন আল রাজিব বলেন, ‘সুন্দরবন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে শরণখোলা রেঞ্জ, চাঁদপাই রেঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জে পর্যবেক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা আমাদের
চ্যালেঞ্জ।’

আপনার মতামত লিখুন :