উসকানি মামলা, গ্রেফতার আতঙ্কে খুলনার শিক্ষার্থীরা

ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

খুলনা: নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫০ থেকে ৬০ জনের নামে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আসামির ফাঁক-ফোঁকরের কারণে গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছে খুলনার শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, মামলায় খুলনার খালিশপুর সিটি পলিটেকনিক কলেজের ইলেকট্রিক বিভাগের ৫ম সেমিস্টারের ছাত্র ইবনে খালিদকে (১৮) গ্রেফতার করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেছে তদন্ত কর্মকর্তা এস আই রহিত কুমার বিশ্বাস। নগরীর খানজাহান আলী থানার আটরা মাশিয়ালী পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা মো. নুর উদ্দিন মোল্যার ছেলে খালিদের রিমান্ড শুনানি হবে আগামী রোববার। বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) আদালতের বিচারক মহানগর হাকিম মো. আমিরুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন- খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল নোমান (২২), পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র নাবিদ হাসান (২১), ফার্মেসি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র নাহারুল ইসলাম (২২) ও ইংরেজি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র ইমরান হাসান (২৩), নগরীর টুটপাড়ার দারোগা পাড়ার আজিজুর রহমান সড়কের মৃত হারুনার রশিদের ছেলে চৌধুরী হাবিবুর রহমান ওরফে রুমান (২৮), মিউনিসিপ্যাল ট্যাংক রোডের চুন্নুর বাড়ির ভাড়াটিয়া রফিকুল ইসলামের ছেলে তন্ময় হোসেন মুরাদ (২৪), মিস্ত্রি পাড়ার আকাশ (২৪), মুন্সি পাড়ার তাসদিক (২৩), টুটুপাড়া দিলখোলা রোডের রিকি (২১), সাইফুল (২৫), রাতুল (২৪), হামিম (২৬) ও হাজী মহসীন রোডস্থ আরজেন আলী লেনের রনি (২৫)।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২ আগস্ট দেশব্যাপী নিরাপদ সড়ক চাই উপলক্ষে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে সকাল ৯টায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন পালন করে। দুপুর ১টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে অন্যান্য আসামিরাসহ অজ্ঞাত ৫০ থেকে ৬০ জন পুলিশের ব্যারিকেড সরিয়ে দিয়ে যশোর রোডে জনগণের ওপর হামলা, পুলিশের গাড়িসহ অন্যান্য যানবাহন ভাঙ্চুর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের খেপিয়ে তোলার মাধ্যমে উস্কে দেয়ার চেষ্টা করে।

এছাড়াও তারা পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল কুদ্দুস মৃধার বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ধরে টানাটানি করে তাকে লাঞ্ছিত করে। দুই পুলিশ সদস্যের নেমপ্লেট ছিনিয়ে নেয় ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে সরকারি কাজে বাধা দেয়।

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমতাজুল ইসলাম জানান, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ঈদের ছুটি হয়ে যাওয়ায় গ্রেফতারে বিলম্ব হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।