সদরঘাটে উপচে পড়া ভিড়, ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চের ছাদে যাত্রা

স্টাফ করেসপেন্ডন্ট,বার্তা২৪.কম
সদরঘাটে ঈদযাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ছবি: মেহেদী হাসান।

সদরঘাটে ঈদযাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ছবি: মেহেদী হাসান।

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাড়ি ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড় জমেছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। প্রতিটি লঞ্চ যাত্রী বোঝাই, পা ফেলবার জায়গাটুকু নেই। এর মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চের ছাদে উঠেছে যাত্রীরা। ছাদ থেকে নামিয়ে দিলেও তারা মানছে না প্রশাসনের নির্দেশনা।

সোমবার (২০ আগস্ট)  সকাল থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল যাত্রীদের নিয়ে রওনা প্রতিটি লঞ্চেই এমনই চিত্র দেখা যায়।

দু-একটি লঞ্চের ছাদে যাত্রী উঠতে গেলে তাদেরকে নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের লোকজন নামিয়ে দেন। কিন্তু যাত্রীরা আবারও উঠে পড়ে।

এছড়াও বিআইডব্লিউটিএ’র পরিবহন পরিদর্শকের রুম থেকে মাইকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে কিন্তু কোনো ভাবেই মানছে না যাত্রীরা, শুনছে না প্রশাসনের নির্দেশনা। যাত্রীদের চাপ থাকায় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে নৌ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।

তবে ঈদের যাত্রায় সিট না পেলেও কষ্ট করেও বাড়ি যেতে চায় যাত্রীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/20/1534741502643.gif

ঢাকা–কালাইয়া রুটের এম ভি বন্ধন-৫ যাত্রী বেসরকারি চাকুরিজীবী আফজাল হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, সবাই পরিবার পরিজনের সঙ্গে ঈদে করতে বাড়িতে যাচ্ছে। কিন্তু সবার জন্য সিট হয় না; তবুও কষ্ট করে যেতে হয়; তাই অনেকে আবার ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠছে। যাত্রী হিসাব বলব; সবার সহযোগিতা করা উচিত; সর্তক থাকাও উচিত।

এদিকে, সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-মনপুরা রুটের এম ভি তাসরিফ-১ লঞ্চর যাত্রীতে পূর্ণ হলেও ছাড়ছিল না মালিক পক্ষ। এসময় যাত্রীরা সরগোল করতে থাকে। পরে যাত্রীদের সরগোল শুনে ঘাটে থাকা নৌ পুলিশ সদস্যরা লঞ্চ মালিকে দ্রুত লঞ্চ ছাড়ার নির্দেশ দেয়।

ভিআইপি যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম জানিয়ে এম ভি তাসরিফ-১ জসিম উদ্দিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, এই লঞ্চ ছাড়ার সময় বিকালে ৬টার দিকে। কিন্তু যাত্রীতে দ্রুত ভর্তি হয়েছে। পুলিশ দ্রুত ঘাট ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এখনেই ছাড়াব। তবে অনেক ভিআইপি এখন পর্যন্ত লঞ্চ ঘাটে পৌঁছাতে পারেনি। নৌ পুলিশ পরিদর্শক আশরাফ বার্তা২৪.কমবে বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার জন্য লঞ্চ মালিকে লঞ্চ ছাড়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। লঞ্চ মালিক ভিআইপি যাত্রীর কথা বলে ছাড়তে দেড়ি করছিল। পরে বলেছি- এই লঞ্চের ভিআইপি তালিকা চেয়েছি; তাদের অন্য লঞ্চ তুলে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, সকাল থেকে যাত্রীরা আসছে; চাপ বাড়ছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। যাতে যাত্রীদের কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।

পরে সাড়ে ৭ টার দিকে ঢাকা- মনপুরা-এমরুদিন এম ভি তাসরিফ-১ লঞ্চ যাত্রীতে রওনা দেয়। এর আগে সকালে মূলাদী ও ওয়াপদা আগামী ৪টি লঞ্চ গেছে বলে বার্তা২৪.কমকে জানান বিআইডব্লিউটিএ বন্দর ট্রফিকের যুগ্ম পরিচালক আলমগীর হোসেন।

তিনি বলেন, ছাদ থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়েছি। আমরা চলে এলে যাত্রীরা আবার গিয়ে উঠে পড়ে। তবে আমরা বসে নেই। একটি লঞ্চেও অতিরিক্ত যাত্রী উঠতে দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, যাত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন; সেজন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি।

আপনার মতামত লিখুন :