ঈদ আইলে মোগো ইনকাম ভালো হয়

ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশাল: ‘ভাই বোতল টোহাই পেডের দায়ে। এই টাহায় তো মুই বাড়ি ঘর করতে পারুম না। তিনবেলা খাওনের জন্য কয়ডা টাহা হইলেই হয়। তয় ঈদ আইলে মোগো ইনকাম ভালো হয়।’

বার্তা২৪.কমের সঙ্গে একান্তে কথাগুলো বলছিল বরিশাল লঞ্চ টার্মিনালে অভিভাবকহীন ভাবে বেড়ে ওঠা আব্দুর রহিম (১২) নামে এক শিশু। যে বয়সে তার বই সামনে নিয়ে টেবিলে পড়ার কথা, সেই বয়সে সে এক লঞ্চ থেকে আরেক লঞ্চে ছোটাছুটি করে সংগ্রহ করছে যাত্রীদের ফেলা দেয়া প্লাস্টিকের বোতল। কারণ এই খালি বোতলই যে তার জীবিকার একমাত্র মাধ্যম।

শুধুমাত্র আব্দুর রহিমই নয় তিনবেলা খাওয়ার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে বরিশাল লঞ্চ টার্মিনালে অভিভাবকহীন ভাবে বেড়ে ওঠা আরও অনেক শিশু। এদের মধ্যে কেউ ৬ মাস, কেউ ১ বছর, আবার কেউ কেউ জন্মের পর থেকেই এই বোতল সংগ্রহ করছে।

বরিশাল নদী বন্দর এলাকায় শুধু বোতল সংগ্রহ ও পানি ভরে বিক্রির কাজের সঙ্গে প্রায় ৩০ জন শিশু-কিশোর জড়িত রয়েছে। যাদের বেশিরভাগই অসহায়-দরিদ্র পরিবারের সন্তান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/20/1534758244156.jpg

দেখা গেছে, প্রতিদিন ভোর রাতে রাজধানী ঢাকা থেকে লঞ্চগুলো বরিশাল নদী বন্দরের টার্মিনালে ঘাট দিতে না দিতেই শিশু ও কিশোর বয়সী এই শিশুরা হুড়োহুড়ি করে লাফ দিয়ে লঞ্চে উঠে পড়ছে। জীবনের ঝুঁকি থাকলেও পিঠে কম্বল বা চাদর জড়িয়ে এর মধ্যে করেই ব্যবহৃত বোতল নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে সঙ্গে তাড়াও পন্টুনে নেমে আসে।

আব্দুর রহিম নামের ওই শিশু জানায়, প্রতিদিন সে প্রায় দুই থেকে তিন শতাধিক ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করতে পারে। এর মধ্যে বেশি মচকানো বোতলগুলো প্রতিটি দেড় টাকা থেকে ২ টাকা হারে বিক্রয় করে। এছাড়াও দেড় থেকে ২ লিটারের ভালো বোতলে খাবার পানি ভরে তারা লঞ্চের যাত্রীদের কাছে ১০-১৫ টাকায় বিক্রি করে।

এদিকে লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় বোতল সংগ্রহকারী শিশু-কিশোরদের পরিচালনা করার জন্য রয়েছে কয়েকটি গ্রুপ। এই গ্রুপই কাজের বিনিময়ে নির্দিষ্ট হারে মজুরি দেয় শিশু-কিশোরদের। তা দিয়ে পরিবারে সামান্য আর্থিক সাপোর্টও দিচ্ছে তারা।

তাছাড়া আবার এ কাজের নেতৃত্বে ৩/৪ জন মহাজন রয়েছে লঞ্চঘাট এলাকায়। যাদের আলাদা আলাদা লোকও রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপ আলাদাভাবে একটি লঞ্চ থেকে বোতল সংগ্রহ করে পল্টুনে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে আবার আরেক লঞ্চে উঠে যায়। স্বাভাবিক সময়ে কয়েকশ বোতল সংগ্রহ করা গেলেও ঈদ বা কোরবানির সময় এসব বোতলের সংখ্যা কয়েক হাজারে দাঁড়িয়ে যায়।

ব্যবহৃত খালি বোতলে নতুন করে পানি ঢুকিয়ে তা বিক্রি করা যৌক্তিক নয়। কিন্তু এভাবে বোতল সংগ্রহ করার ফলে বন্দর এলাকা ও কীর্তনখোলা নদী পরিষ্কার থাকছে। এ কারণে বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের অবাধ বিচরণে কিছু বলছেন না। তবে তাদের গতিবিধি সর্বদাই পর্যবেক্ষণ করেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন :