রাজমিস্ত্রি রাবেয়া

ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

খুলনা: ‘সামনে ঈদ একটু ঝুঁকি নিয়ে কাজ তো করতিই হবে। না হলি ঈদের খরচ আসবে ক্যামনে? আমার আপন বোলতি ওই ছেলে-মেয়েই সব। যা করি ওদের জন্যই করি।’

খুলনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের দশতলা নতুন ভবনের ৬ষ্ঠ তলার বাইরে দড়িতে ঝুলে প্লাস্টার করার সময় কথাগুলো বলছিলেন নির্মাণ শ্রমিক রাবেয়া বসরী (৩০)।

স্বামী পরিত্যক্তা রাবেয়ার দুই কূলে আপন বলতে কেউ নেই। তাইতো জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত তাকে কাজ করতে হয়। বহুতল ভবন নির্মাণে রাজমিস্ত্রি, রং মিস্ত্রির কাজসহ এমন কোনো কাজ নেই যা করতে পারেন না তিনি।

প্লাস্টার কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় রাবেয়া বলেন, ‘কাজের শুরুতে একবার পঞ্চাশ কেজি সিমেন্টের বস্তা নিয়ে দোতলা বিল্ডিং থেকে পড়ে গিয়েছিলাম। সেবার মাথা কেটে গিয়েছিল। তখন ডেইলি মজুরি ছিল দেড়শ টাকা। এখন প্রতিদিন চারশ টাকা পাই। তাতে কোনো রকমে চলে আমার সংসার।’

তিনি বলেন, ‘শহরের একটা ঝুপড়িতে ভাড়া থাকি। ছয় বছরের ছেলেটা এতিমখানায় থেকে লেখাপড়া করে। তাকে মাসে এক হাজার টাকা করে দিতে হয়। আর আট বছরের মেয়েটা দৌলতপুরের ঠিকাদার টুটুলের বাসায় কাজ করে। রান্না-বান্না ঠিক মতো করি না। দু’একটা রুটি খেয়ে বেঁচে আছি। দুই বেলা বাসায় ভাত রান্না করে খেতে গেলে এতো টাকা কই পাব? কারণ আমারতো সব সময় কাজ থাকে না।’
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Aug/20/1534762499821.jpg

আবেগ-আপ্লুত হয়ে নারী শ্রমিক রাবেয়া বলেন, ‘বাবা-মার স্মৃতি তেমন মনে পড়ে না। অন্যের বাসায় কাজ করে বড় হয়েছি। তারাই বিয়ে দেয় ৬নং কয়রার শফিকুল ইসলামের সঙ্গে। স্বামী তো না সে ছিল জল্লাদ। ওর সঙ্গে থাকার সময় অনেক কষ্ট করেছি। সুন্দরবনে মাছ ধরেছি, কাঁকড়া ধরেছি, কাঠ কেটেছি, তবুও সংসার টেকেনি। আমাকে তালাক দিয়েছে পাঁচ বছর হল। এখন আপন বলতে দুই ছেলেমেয়েই আছে।’

তিনি বলেন, ‘দড়িতে ঝুলে ঝুলে কাজ করি। এতে ভয়ের কী আছে? আর তাছাড়া ভয় করলেতো আর খাবার জুটবে না। ঈদের সময় যদি ছেলেমেয়ের জন্য কিছু কিনতে না পারি তাহলে হবে? এজন্য একটু বেশি কষ্ট করতেছি। কন্ট্রাক্টরের কাছ থেকে টাকা পেলে বাচ্চাদের জন্য কিছু কিনব।’

তিনি আরও বলেন,‘মানুষ নিচে দাঁড়িয়ে থেকে আমার কাজ দেখে। দুনিয়াতে আমার কোনো ঠিকানা নেই। আজ কোর্টে কাজ করছি, এখানে কাজ শেষ হলে দৌলতপুরে নতুন কাজে যাব।’

রাবেয়া বলেন, ‘কারো কাছে আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। শুনেছি, প্রধানমন্ত্রীর খুব দয়া-মায়া। তিনি যদি আমাকে একটু থাকার জায়গা করে দিতেন।’