কেমন কাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঈদ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪ ডটকম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা: মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই পবিত্র দিনে পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি খুঁজছেন মুসলমানরা। পশু কোরবানির পর প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ব্যস্ত সবাই। তবে এরই মাঝে পেশাগত কাজে ব্যস্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের জীবনে নেই অবসর, মিলেনা ছুটি।

সবাই ঈদের জামাত পড়তে পারলেও সুযোগ পাননি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য। মুসল্লিদের নিরাপত্তায় ব্যস্ত থাকলেও নামাজের জন্য অনেকে পাঁচ মিনিট সময় পাননি।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে কর্তব্যরত শাহাবাগ থানার পুলিশ কর্মকর্তা মো. জিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সকাল থেকে জামাতের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছি। সুযোগ করে নামাজও পড়েছিলাম। এছাড়া সারাদিন ডিউটি ছিল। ঈদে ছুটি না পাওয়ায় বাড়ি যেতে পারিনি। গত ঈদেও ছুটি পাইনি। ফলে সেভাবে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করা হয়ে উঠে না।’

মিরপুর থানার ইন্সপেক্টর মো. রেজাউল বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ঈদের সময় নিরাপত্তার দায়িত্বটি বেড়ে যায়। পরিবারের সঙ্গে ঈদের দিনটি উদযাপন করতে না পেরে খারাপ লাগে। কিন্তু চাইলেও কিছু করার থাকে না।’

তবে পরিবার ছাড়া ঈদ করলেও বিষয়টি উপভোগ করেন শাহাবাগ থানার এসআই মনসুর আহমেদ। বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন,‘ঈদে এতোগুলো মানুষের মাঝে দায়িত্ব পালন করতে ভালোই লাগে। মানুষের সেবা করাই আমাদের প্রধান কাজ। সেটি করতে পারলেই বেশি খুশি হই। ঈদের দিনে একটু ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে বায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাতটি আদায় করেছি। আর সারাদিন নিরাপত্তার কাজেই ব্যস্ত থাকা হবে। ফলে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার সুযোগ নেই।’

র‌্যাব-৩ এ কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন বার্তা২৪.কমকে জানান, দায়িত্বটা যথাযথ পালন করতে পারলেই বেশি আনন্দ পান তিনি। গত ঈদের মতো এই ঈদেও ছুটি পাননি।

তার অপর এক সহকর্মী র‌্যাব-৩ এ কর্মরত নাঈম হোসেন বলেন, ‘দুই ঈদেই ছুটি পাইনি। কিন্তু তাতে বিন্দুমাত্র মন খারাপ হয়নি। কারণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্বটা যথাযথ পালন করতে পারলেই আমরা সন্তুষ্ট। পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারলে অবশ্যই বেশি ভালো লাগত। কিন্তু এতোগুলো মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করাও কম আনন্দের নয়।’

আব্দুর রহমান নামে এক আর্ম পুলিশ বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের মাঝেই কোনো রকমে ঈদের দুই রাকাত নামাজ আদায় করেছি। মহান আল্লাহর কাছে দেশবাসীর জন্য দোয়া করলাম। আর ঢাকায় পরিবার ছাড়াই দুই ঈদ করতে হল। ডিউটি শেষে একটু বিশ্রাম করব।’

এদিকে সকালে ঈদগাহ ময়দানের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও দোয়ায় শরিক হয়েছিলেন। তারা অনেকেই মোনাজাতে অংশ নিয়ে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর