চামড়া যদি বেচতে হয়, লবণের টাহা দিয়া যাইয়ো

ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশাল: ‘ব্যবসায়ী নাসির ভাই কইছে খাসির চামড়া যদি বেচতে হয়, হেলে লবণের টাহা দিয়া যাইয়ো। এবার যা অবস্থা সব খরচ বাদ দিয়ে চালান উডে কিনা সন্দেহ আছে।’

বৃহস্পতিবার (২৩ আগস্ট) বার্তা২৪.কমকে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন আলী আহমদ নামে এক মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী।

প্রতি কোরবানিকে ঘিরে তিনি এই ব্যবসা করেন। বিগত বছরগুলোতে সীমিত লাভ নিয়ে ঘরে ফিরলেও এবার পুরোটাই লোকসান হবে তার। ক্রয়, যাতায়াতসহ সব খরচ মিলিয়ে চামড়া প্রতি যে খরচ পড়েছে স্থানীয় আড়তদাররা কিনছেন তার থেকে অনেক কম দামে।

শুধু এই আলী আহমদ নয়, বরিশাল মহানগরী এলাকায় এবার মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত সকলের অবস্থা একই। ঈদুল আজহায় লাভের আশায় শহরের বিভিন্ন অলিগলি এবং গ্রাম থেকে কোরবানির পশুর চামড়া ক্রয় করে চামড়াপট্টিতে বিক্রি করেন তারা। এবারও চামড়াপট্টিতে এসেছেন, কিন্তু লোকসানে চামড়া বিক্রি করে হতাশ সকলেই।

তবে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ঢাকার ট্যানারি মালিকদের নির্ধারণ করা মূল্য এবং স্থানীয় আড়তদারদের সিন্ডিকেটকে দুষছেন।

বরিশাল চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান শাহিন বলেন, ‘আমরা কী করব ভাই? ঢাকার ট্যানারি মালিকরাই তো গত তিন বছর ধরে পাওনা টাকা দিচ্ছে না। পূর্বের বছর গুলোতে চামড়া দেয়ার বিপরীতে মাত্র ১০ থেকে ১৫ ভাগ টাকা পরিশোধ করেছে। বাকি টাকা কবে পাব সেটাও নিশ্চিত নয়। তারপরেও এবার চামড়া কিনেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ও ট্যানারি মালিকরা এবার চামড়া প্রতি ৩৫ টাকা এবং লবণযুক্ত ৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। আর সে অনুযায়ী চামড়া কিনলেও সকল খরচ দিয়ে লোকসানই হবে।’

শাহিন অভিযোগ বলেন, ‘ট্যানারি মালিকদের কারণে আজ চামড়া ব্যবসা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সরকার চামড়া ব্যবসায় এতো টাকা ঋণ দেয়, তারপরেও তারা আমাদের দেনা পরিশোধ করছে না।’

এ বছর মহানগরী ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৪০ হাজার পিস চামড়া ক্রয় করা হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :