শীতের তীব্রতার সাথে বাড়ছে অগ্নিদগ্ধের ঘটনা

ছবি: বার্তা২৪

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর, বার্তা ২৪.কম

দিন যতই গড়াচ্ছে ততই বাড়ছে শীতের প্রকট। কনকনে শীত আর হিমেল হাওয়ায় নাকাল হয়ে পড়েছে উত্তর জনপদ। নিম্ন আয়ের মানুষরা পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে কাহিল। তাই খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের উত্তাপ পেতে ঝুঁকছে শীতার্তরা। আর এতে বাড়ছে অগ্নিদগ্ধে হতাহতের ঘটনা।

গত এক সপ্তাহে রংপুর বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলাতে আগুন পোহানোর সময় অন্তত ১৫ জন নারী ও শিশু দগ্ধ হয়েছে। এরমধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতে মারা গেছেন লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার রাজিয়া বেগম (২৭), একই জেলার আদিতমারীর মোমেনা বেগম (৩২) এবং দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার স্বপ্না রানী (৩৪)। বাকিরা আগুন যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন হাসপাতালের বেডে। কেউ কেউ বেড না পেয়ে বারান্দাতে পড়ে আছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগীদের অধিকাংশ অগ্নিদগ্ধ। এদের মধ্যে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের রোগী বেশি রয়েছে। যারা আগুন পোহানোর সময় অসাবধানতা বশতঃ দগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। হাসপাতালের ৬, ১৬ ও ১৮নং ওর্য়াডে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

রংপুর বিভাগে গত এক সপ্তাহ তাপমাত্রা ৭ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করায় শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে বাতাসের বেগ। এতে ভোর থেকে শীতের ঝাঁকুনি অনূভূত হলেও তীব্রতা বাড়ছে বিকেলের পর। বিশেষ করে এই বিভাগের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও দিনাজপুর ও লালমনিরহাটে দিন দিন শীতের তীব্রতা বেড়েছে কয়েকগুণ।

বার্ন ইউনিট ঘুরে দেখা গেছে, বেড সংকুলান না হওয়ায় সার্জিকাল ওয়ার্ডের বারান্দায় রাখা হয়েছে রোগীদের। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী এলাকার অগ্নিদগ্ধ লাবণ্য বেগম জানান, ‘তীব্র শীতে উপশম পেতে ধানের খড় দিয়ে আগুন পোহাতে গিয়ে অসাবধানতা বশতঃ শরীরে আগুন লেগে যায়। পুড়ে যায় কোমরের নিচ থেকে পা পর্যন্ত।’

একই কথা অন্যদের কন্ঠে। জানা গেছে চিকিৎসাধীনদের অধিকাংশই শীত থেকে রক্ষা পেতে ধান মাড়ানো পোয়াল, ধানগাছের ছোবড়া ও খড়কুটা জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধ লোকজনের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, সহকারী অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম জানান, ‘শীতের কবল থেকে রক্ষা পেতে আগুন পোহানোর সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে গত বছর ১২ জন মারা যান। এ বছর এখন পর্যন্ত ১৫ জন অগ্নিদগ্ধ রোগী ভর্তি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী আসছেন। ওয়ার্ডে মোট বেড সংখ্যা ২৬টি থাকায় অধিকাংশ রোগীদের অনেকটা বাধ্য হয়ে ফ্লোরে রাখতে হচ্ছে।’ 

জেলা এর আরও খবর