Alexa

বরগুনার মুক্তিযোদ্ধা পল্লীতে নানা সংকট

বরগুনার মুক্তিযোদ্ধা পল্লীতে নানা সংকট

নানা সমস্যায় জর্জরিত বরগুনার মুক্তিযোদ্ধা পল্লী/ ছবি: বার্তা২৪.কম

পানির সংকট, খারাপ ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ নানা সমস্যায় দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন বরগুনার মুক্তিযোদ্ধা পল্লীর বাসিন্দারা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় ময়লা-আবর্জনার স্তুপ হয়ে যায়, মশার উৎপাত, ভাঙা রাস্তা ও বেড়িবাঁধ না থাকায় বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত এলাকাটি। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যার প্রতিকার চেয়েও কোনো লাভ হয়নি।

জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার খাজুরতলা গ্রামে ২০০০ সালে মুক্তিযোদ্ধা পল্লীর উদ্বোধন করেন তৎকালীন খাদ্য উপমন্ত্রী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু। পুনর্বাসন করা হয় ৩৪টি যুদ্ধাহত ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে। যেখানে বসানো হয় ৬টি গভীর নলকূপ ও একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/08/1546965840071.gif

মুক্তিযোদ্ধা পল্লীর বাসিন্দারা জানান, সময়ের ব্যবধানে অকেজো হয়ে গেছে সবকটি নলকূপ। আর ময়লা-আবর্জনার নিচে চাপা পড়েছে ড্রেনটি। নেই পয়:নিষ্কাসন ব্যবস্থা। ফলে ময়লা পানি জমে জন্ম নিচ্ছে নানা রোগের বাহক মশা। এছাড়া বেড়িবাঁধ না থাকায় সামান্য জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় এই পল্লীর ঘড়বাড়ি, ভেঙে  যায় রাস্তাঘাট। ফলে সমস্যার যেন শেষ নেই এই পল্লীতে।

মুক্তিযোদ্ধা আ. খালেক বার্তা২৪কে বলেন, ‘এখন এই পল্লীতে বসবাস করা আর কোনো অপরাধের শাস্তি ভোগ করা সমান মনে হয়। একদিকে ড্রেনের পঁচা গন্ধ আর অন্যদিকে মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ আমাদের জীবন।’

মুক্তিযোদ্ধা সুশিল মণ্ডল বার্তা২৪কে বলেন, ‘নামমাত্র মুক্তিযোদ্ধা পল্লী এটি। এখানে মুক্তিযোদ্ধারা অসহায়ত্ব বরণ করে দিন কাটাচ্ছেন। প্রত্যেক জোয়ারে সামান্য পানি বাড়লেই ডুবে যায় এলাকার রাস্তাঘাট। নলকূপগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গোসলের জন্য নেই কোনো ঘাটলা। একটু পানি পেতে যেতে হয় প্রায় এক কিলোমিটার দূরত্বে। সেখানে পানি আনতে গিয়ে মানুষের নানান কথাও শুনতে হয়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/08/1546965867722.gif

একাধিক মুক্তিযোদ্ধা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, ‘আগে মাঝে মাঝে প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা এখানে পরিদর্শনে আসতেন। তবে এখন আর কেউ আসেন না। ফলে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান উপাধি পেয়েও বৃদ্ধ বয়সে সমস্যার মধ্যেই দিন পার করতে হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের।’

তারা আরো অভিযোগ করেন, সমস্যার সমাধানের জন্য জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধরনা দিয়ে এখন সবাই ক্লান্ত।

আর জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বার্তা২৪কে বলেন, ‘খুব শিগগিরই মুক্তিযোদ্ধা পল্লীর সব সমস্যার সমাধান করা হবে।’

জেলা এর আরও খবর