Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

কাঁকড়ার পেটে গ্রামীন রাস্তা!

কাঁকড়ার পেটে গ্রামীন রাস্তা!
মাটি বহনকারী এই গাড়িগুলোতেই গ্রামীণ রাস্তায় বেশিরভাগ গর্ত তৈরি হয়, ছবি: বার্তা২৪
তোফায়েল হোসেন জাকির
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
গাইবান্ধা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

গাইবান্ধা জেলায় দানব পরিবহন হিসেবে খ্যাত কাঁকড়া (ট্রাক্টর)। এই দানবরুপি কাঁকড়াগুলো হরহামেশাই চলতে গিয়ে রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে হাঁটু গর্তে পরিণত হচ্ছে। এছাড়া অদক্ষ চালকরা বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোর কারণে ছয় চাকার নিচে পড়ে অকালে নিভে যাচ্ছে অনেক প্রাণ।

সম্প্রতি শুকনো মৌসুমে জেলার গ্রাম-গঞ্জে মাটি বহনের কাজে এসব কাঁকড়া নির্বিকারে চলাচলে ধুলা-বালিতে এলাকার পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। সেই সাথে গ্রামাঞ্চলের রাস্তা-ঘাটের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি অবাধে চলাচল করায় অঘটনের আশঙ্কা জাগছে জনসাধারণের মনে। ফলে মানুষকে সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। কখন যেন কাঁকড়া আসে এমন ভীতি বিরাজ করে পথচারীদের মনে।

প্রশাসন কর্তৃক দিনের বেলায় কাঁকড়া চলাচল নিষিদ্ধ করা হলেও রহস্যজনক কারণে অবাধে চলাচল করতে দেখা গেছে গাইবান্ধা জেলা সদরের বোয়ালী ও সাদুল্লাপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায়। দানব পরিবহন হিসেবে খ্যাত এই কাঁকড়াগুলো বেপরোয়া চলাচল করার ফলে বেড়ে গেছে দুর্ঘটনা।

ভুক্তভোগী শাহিন মিয়া ও খলিলুর রহমান জানান, এলাকার প্রভাবশালী মহলের ক্রয়কৃত এসব কাঁকড়া জমি থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বহন করা হচ্ছে। এতে করে যেমন নিচু হচ্ছে জমি, অপরদিকে ভেঙ্গে যাচ্ছে গ্রাম-শহর যোগাযোগের রাস্তাঘাট। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। অকালে নিভে যাচ্ছে তাঁজা প্রাণ।

তাদের অভিযোগ, দানব পরিবহন কাঁকড়া গাড়ির মালিকরা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রাস্তার রাজা হিসেবে নির্বিকারে গাড়ী চালিয়ে আসছে। ফলে এসব গাড়ি থেকে রাস্তা-ঘাট রক্ষা কিংবা প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব নয়।

কাঁকড়া মালিক মোকছেদুল ইসলাম বলেন, 'মাটি বহনের কাজে গাড়ি চলতে গিয়ে যে সমস্ত রাস্তা খারাপ বা গর্তের সৃষ্টি হয় সেখানে আমরা পুনঃরায় মাটি ভরাট করে ঠিক করে দেই। যাতে করে মানুষের চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে এবং রাস্তা খারাপ না থাকে। এ বিষয়ে খেয়াল রাখা হচ্ছে।'

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রহিমা খাতুন বলেন, 'ওইসব কাঁকড়া রাস্তায় চলাচলে মালিকদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া আছে। কোনো রাস্তা নষ্ট না হয় এবং দুর্ঘটনা এড়াতে যানজটের সৃষ্টি না হয়, এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য গাড়ির চালক বা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

ভুলে বিকাশে আসা ৩০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিলেন টাইলস মিস্ত্রি

ভুলে বিকাশে আসা ৩০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিলেন টাইলস মিস্ত্রি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

হত্যা, ধর্ষণ, মাদকসহ দুর্নীতির একের পর এক সংবাদে দেশবাসী যখন উৎকণ্ঠিত তখন বিকাশের ভুল নম্বর থেকে আসা ৩০ হাজার টাকা ফিরিয়ে সততার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের শিরফল মিয়া (৪০)।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেলে মালিকের হাতে টাকাগুলো তুলে দেন শিরফল মিয়া। শিরফল মিয়া উপজেলা সদরের বানেশ্বর বিশ্বাসের পাড়া গ্রামের ফকির চাঁন মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি।

জানা যায়, গত ১১ জুলাই রাতে শিরফল মিয়ার ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা আসে। কিন্তু এতো টাকা কিভাবে আসল তা তিনি বুঝতে পারছিলেন না। ভয়ে কারও সঙ্গে বিষয়টি আলাপও করেননি। পরদিন (১২ জুলাই) তার নম্বরে পটুয়াখালি থেকে মো. আল আমিন নামে এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে টাকার কথা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। একই সাথে বানিয়াচং ঘুরে যাওয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানান।

মঙ্গলবার টাকা ফেরত নিতে দুই বন্ধুকে সাথে নিয়ে বানিয়াচং আসেন আল আমিন (২৯)। পরে বিকেলে শিরফল মিয়া তার ৩০ হাজার টাকা ফেরত দেন। এসময় টাকা ফেরত পেয়ে খুশি হয়ে শিরফল মিয়াকে ২ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সাংবাদিক শিব্বির আহমদ আরজু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি শেখ সাগর আহমদ ও রেজাউল করিম।

এ টাকা ফেরত পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন আল আমিন মিয়া। তিনি বলেন- ‘যখন জানতে পারি ৩০ হাজার টাকা বিকাশের ভুল নম্বরে হবিগঞ্জের বানিয়াচং গিয়েছে তখন ফেরত পাব বলে বিশ্বাস ছিলো। কারণ এখানকার মানুষ অনেক সৎ ও ভালো হিসেবে জানি। সে বিশ্বাসের প্রতিফলন আজ পেয়েছি।’

এ ব্যাপারে শিরফল মিয়া বলেন- ‘ভুল করে টাকা আসতেই পারে। তাই বলে অন্যের টাকা আত্মসাৎ করব এমন শিক্ষা পেয়ে আমি বড় হইনি।’
শিরফল মিয়া বিদেশ ফেরত এক যুবক। তিনি প্রবাস থেকে অর্থ-কড়ি খুইয়ে বাড়িতে এসেছেন প্রায় ৫ বছর। পেশা হিসেবে টাইলস মিস্ত্রি। কিন্তু ৫ সদস্যের সংসারে অর্থের টানাপোড়েন লেগেই আছে। এমতাবস্থা থেকেও শিরফল মিয়া সেই টাকার প্রতি বিন্দুমাত্র লোভ করেননি। এতে তিনি টাকা ফেরত দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

নবীগঞ্জে ট্রাক চাপায় রিকশা চালক নিহত

নবীগঞ্জে ট্রাক চাপায় রিকশা চালক নিহত
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ট্রাক চাপায় জাহাঙ্গীর মিয়া (১৫) নামে এক কিশোর রিকশা চালক নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) মহাসড়কের আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজারের কাছে রাত ৮টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত রিকশা চালক আউশকান্দি ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে।

প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে রিকশা চালিয়ে আউশকান্দি বাজারে আসছিল জাহাঙ্গীর। এ সময় মুনিম ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছা মাত্রই সিলেট থেকে ঢাকাগামী দ্রুতগতির একটি ট্রাক জাহাঙ্গীরের রিকশাকে চাপা দেয়। এতে রিকশাটি দুমড়ে মুছড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই সে নিহত হয়।

মহাসড়কের প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানা ও নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। বর্তমানে মরদেহ হাইওয়ে থানায় রয়েছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র