Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

কোটালীপাড়ায় শুঁটকি তৈরিতে স্বাবলম্বী শতাধিক পরিবার

কোটালীপাড়ায় শুঁটকি তৈরিতে স্বাবলম্বী শতাধিক পরিবার
শুঁটকিখোলায় ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা
মাসুদুর রহমান
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
গোপালগঞ্জ


  • Font increase
  • Font Decrease

নিম্ন জলাভূমি বেষ্টিত গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় রয়েছে অসংখ্য খাল-বিল। প্রায় বারো মাসই পানি থাকে অধিকাংশ বিলেই । এ কারণে এসব বিলে প্রচুর দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এই মাছকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে উঠেছে প্রায় শতাধিক শুঁটকিখোলা। পুরো শীতকাল জুড়েই এসব শুঁটকিখোলায় মাছ শুকানো হয়। এলাকার শতশত নারী-পুরুষ এসব শুঁটকিখোলায় কাজ করে তাদের সংসার চালায়। অনেক এলাকায় স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরাও লেখাপড়ার পাশাপাশি শুঁটকিখোলায় মাছ ধোঁয়া, বাছাই ও শুকানোর কাজ করে।

উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের ধারাবাশাইল, মাচারতারা, তালপুকুরিয়া, ভেন্নাবাড়ি, নয়াকান্দি, গজালিয়া, আমবাড়ি, পিঞ্জুরী ইউনিয়নের দেওপুরা, ছত্রকান্দা, সোনাখালী, কোনের বাড়ি, তারাইল, রামশীল ইউনিয়নের রামশীল, রাজাপুর, মুশুরিয়া, জহরের কান্দি, ত্রিমূখী, সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের লাটেঙ্গা, লখন্ডা, নৈয়ারবাড়ি, ভাঙ্গারহাট, কলাবাড়ি ইউনিয়নের কালিগঞ্জ, রামনগর, রুথিয়ারপাড়, মাছপাড়া, বুরুয়া, হিজলবাড়ি, শিমুলবাড়ি, তেতুলবাড়ি, বৈকণ্ঠপুর, কুমুরিয়াসহ প্রায় অর্ধশত গ্রামে ছোটবড় শতাধিক শুঁটকিখোলায় এখন মাছ শুকানোর কাজ শুরু হয়েছে।

এ সকল এলাকার নিম্ন জলাভূতিতে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যায়। মৎস্যজীবীরা এলাকার নিম্ন জলাভূমি বা বিল থেকে মাছ ধরে ছোট ছোট হাট বাজারে বিক্রি করে। এই মাছ কিনে অনেকে শুকিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজারের আড়তে বিক্রি করে। অনেক মৎস্যজীবী আবার বিল থেকে মাছ ধরে নিজেরাই বাড়িতে শুকায়।

মিঠা পানির মাছ হওয়ায় কোটালীপাড়ার শুঁটকি খুব সুস্বাদু। তাই এই শুঁটকির দেশে-বিদেশে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। দেশের গন্ডি পেরিয়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে কোটালীপাড়ার শুঁটকি। এমনটাই জানালেন, কালিগঞ্জ বাজারের আড়তদার কৃষ্ণ কান্ত বাড়ৈ।

তিনি বলেন, আমরা এখানের বিভিন্ন শুঁটকিখোলার মালিকদের কাছ থেকে শুঁটকি কিনে চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া, সিলেট, চাপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহীতে বিক্রি করি। এসব জেলার অনেক ব্যবসায়ী এই শুঁটকি ভারতেসহ বিভিন্ন দেশে পাঠায়।

কলাবাড়ি ইউনিয়নের কুমুরিয়া গ্রামের স্কুল ছাত্র দিপ্র বিশ্বাস বলেন, আমার বাবা বিল থেকে মাছ ধরে বাড়িতে শুকায়। আমি লেখা পড়ার পাশাপাশি বাবাকে মাছ শুকানোর কাজে সহযোগিতা করি।

কলাবাড়ি ইউনিয়নের কালিগঞ্জ গ্রামের শুঁটকিখোলার মালিক গৌতম হাজরা বলেন, আমরা গ্রাম থেকে ৪/৫ হাজার টাকা করে কাঁচা পুঁটির মন ক্রয় করি। এই পুঁটি আমরা শুকিয়ে ১২/১৪ হাজার টাকা করে মন বিক্রি করি। এছাড়াও খৈলশা, শোল, গজাল, টেংরাসহ নানা প্রজাতির স্বাদু পানির মাছ এখানে শুকিয়ে থাকি।

একই এলাকার শুঁটকিখোলার অপর এক মালিক অজয় হালদার বলেন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও পুঁজির অভাবে আমরা অনেক সময় শুঁটকির ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হই। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমরা এই ব্যবসায় আরো লাভবান হতে পারতাম।

উপজেলা মৎস্য অফিসার প্রশান্ত কুমার সরকার বলেন, শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ বা সংরক্ষণের জন্য এ উপজেলায় সরকারি কোন প্রকল্প নেই। সরকার যদি এখানে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করে তা হলে এই এলাকার শুঁটকি ব্যবসায়ী বা প্রস্তুতকারীরা আর্থিক ভাবে লাভবান হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

আবারো ধরলা-তিস্তার পানি বেড়েছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

আবারো ধরলা-তিস্তার পানি বেড়েছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

কুড়িগ্রামে কয়েকটি নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আবারো ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এ দুই নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ১২ ঘণ্টায় সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563872473762.jpg

অপরদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে এখনো বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিভিন্ন এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও বাড়ি ফিরতে পারছে না বানভাসিরা। কারণ তাদের ঘর-বাড়ি থেকে এখনো পানি নেমে যায়নি। এখনো তলিয়ে আছে চিলমারী উপজেলা শহরের বিভিন্ন অফিস, ঘরবাড়ি, রাস্তা-ঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563872491385.jpg

গত দুই সপ্তাহের বন্যায় মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুর খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে পানিবাহিত নানা রোগ-ব্যাধি।

এদিকে সরকারি-বেসরকারি ত্রাণের পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে চিলমারী ও উলিপুর উপজেলায় ত্রাণ বিতরণ করেছেন দলটির যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মা. জাকির হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর আলীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

সিরাজগঞ্জে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

সিরাজগঞ্জে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সিরাজগঞ্জে স্ত্রী হত্যার দায়ে কামরুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত কামরুল ইসলাম সদর উপজেলার কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের বনবাড়িয়া গ্রামের আবুল হোসেন ডিলারের ছেলে।

আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আনোয়ার পারভেজ লিমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৮ সালে কামরুল ইসলামের সঙ্গে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার দিয়ারধানগড়া মহল্লার আব্দুল আজিজের মেয়ে মুন্নী
খাতুনের (৩২) বিয়ে হয়। বিয়ের সময় দুই লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকে আব্দুল আজিজ আরো যৌতুকের জন্য মুন্নীকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। এরই জের ধরে ২০১২ সালের ১২ জুলাই তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি। টাকা এনে দিতে রাজি না হওয়ায় ওই দিন মুন্নীকে মারপিট করে গলা টিপে হত্যা করেন কামরুল। এ ঘটনায় মুন্নীর বড় বোন পারুল বেগম বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মঙ্গলবার এ রায় দেন আদালত।

মামলার বাদী পারুল এ রায়ের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আসামির দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবি জানান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র