Alexa

হাজীগঞ্জে দুই মাদ্রাসার দুই ছাত্র নিখোঁজ

হাজীগঞ্জে দুই মাদ্রাসার দুই ছাত্র নিখোঁজ

ছবি: বার্তা২৪

 

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার দুই মাদ্রাসার দুইজন ছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। পৃথকভাবে হাজীগঞ্জ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে। নিখোঁজ ছাত্ররা হলো মাতৈন দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানার ছাত্র মো. রায়হানের (১৫) ও হাজীগঞ্জ আল-কাউসার মাদ্রাসা হেফজ বিভাগের ছাত্র সফিউল আলম (১২)।

সফিউল আলম গত ১১ জানুয়ারি শুক্রবার মকিমাবাদ ভাড়া বাসা থেকে জুমার নামাজে পড়তে গিয়ে আর বাসায় ফিরেনি। ১২ জানুযারি শনিবার রাতে তার বাবা হাজীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ৫৩২) করেছেন। গত ৬ জানুয়ারি রোববার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে মাতৈন মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের আবাসিক শাখা থেকে নিখোঁজ হয়। পরদিন ৭ জানুয়ারি সোমবার রায়হানের বাবা সোহাগ হাজীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ৩০৫) করেছেন।

রায়হান ৫নং সদর ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের বড় বাড়ির সোহাগ ও রত্না দম্পতির বড় ছেলে। তিন ভাই বোনের মধ্যে রায়হান সবার বড়। সে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না। তাই তার সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। রায়হানের খোঁজে অসুস্থ বাবা ও মা পাগল প্রায়।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা আবু ইউছুফ জানান, রোববার জোহরের ফরজ নামাজ আদায়ের পূর্বে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেয়া কথা বলে রায়হান মসজিদ থেকে বের হয়ে যায়। এরপর নামাজ শেষে মসজিদ ও মাদ্রাসায় দেখতে না পেয়ে তার বাবা-মাকে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়।

এদিকে সফিউল আলমের বাবার বাড়ী কচুয়া উপজেলার কান্দিরপাড় এলাকা। তারা হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ শাহআলম সাহেবের ভাড়া বাসায় থাকতো। শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে হাজীগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনালের মসজিদে যায়। তারপর আর বাসায় ফিরেনি। সে লম্বায় ৪ ফুট, পরণে কালো রঙ্গের হাফ হাতা গেঞ্জি, পরণে চেক লুঙ্গী ও গাযের রং শ্যামলা।

তার বাবা জসিম বলেন, সে আল কাউসার মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে পড়তো। নিখোঁজের পর তাকে স্বজনদের বাড়ি খোঁজ-খবর নিয়েছি। কোথাও কোন খোঁজ পাইনি। সে কখনও এভাবে কোথাও যায়নি।

আল-কাউসার মাদ্রাসার হেফজ শাখার দায়িত্বরত ফারুক আহম্মেদ ইয়াহিয়া বলেন, সফিউল আলম নিখোঁজের কয়েকদিন পূর্বেই বাসায় যায়। তার বাবা আমাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। আমরাও নিখোঁজের বিষয়টি জেনেছি।

জানতে চাইলে হাজীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবদুল মান্নান বলেন, রায়হানের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ফোন করে ভুল তথ্য দেয়া হচ্ছে। ফোনকারীরা পরে মোবাইল বন্ধ করে রাখে। ধারণা করা হচ্ছে সে কোন প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছে। নিখোঁজের ডায়েরিগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।