Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

অবাধে উজাড় হচ্ছে টেংরাগিরি বনের সুন্দরী গাছ

অবাধে উজাড় হচ্ছে টেংরাগিরি বনের সুন্দরী গাছ
উজার হচ্ছে টেংরাগিরি বনের সুন্দরী গাছ, ছবি: বার্তা২৪
ইমরান হোসেন
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সমুদ্র উপকূলের বনগুলোতে বনদস্যুদের একমাত্র লক্ষ্য সুন্দরী গাছ সংগ্রহ করা। বরগুনার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বন থেকেও তাই তারা অবাধে সুন্দরী গাছ কাটছেন। কেউই বাঁধা দিচ্ছেন না।

জানা গেছে, মূল্য বেশি ও চাহিদা থাকায় বনদস্যুরা শুধু সুন্দরী গাছই কাটছে। এক্ষেত্রে বড় বা ছোট গাছ বিবেচনা করা হচ্ছে না। তবে বনদস্যুরা বলছে, বন বিভাগের অনুমতি নিয়েই তারা গাছ কাটছেন। আর সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শিগগিরই বন উজাড় বন্ধ না হলে সবাইকে চরম মূল্য দিতে হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547445953825.jpg

বরগুনার তালতলী উপজেলার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনের গভীরে সুন্দরী গাছ কাটা হচ্ছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বনের প্রবেশ পথে তাদের বাঁধা দেন একজন বনরক্ষী। কিন্তু কয়েকজন সাংবাদিক কৌশলে বনের ভেতর প্রবেশ করতে পারেন। বনের ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায়- প্রক্যাশ্যেই সুন্দরী গাছ কেটে ট্রলার বোঝাই করেছেন ৬ জন। তবে বনের যত গভীরে যাওয়া যায় গাছ কাটার নির্মমতাও তত বোঝা সম্ভব হবে। বনের ভেতর গেওয়া, পশুর, কেওড়াসহ বিভিন্ন গাছ অক্ষত অবস্থায় থাকলেও নেই সুন্দরি গাছ। আছে শুধু সদ্য কাটা গাছের গুড়ি।

কথা বলতে চাইলে বনদস্যু মো. কিবরিয়া (৪০), মো. সগির (৪৪), নাযির সোহেল (২৮), হালিম দফাদার (৫৬) জানান, তারা বন বিভাগকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যেই গাছ কাটছেন।

তবে বন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বনরক্ষীরা জানান, তারা শুধু পাহারার দায়িত্বে। সুতরাং কে বা কারা বনের ভেতর গাছ কাটছে এটা তাদের জানা নেই। তারা শুধু কুয়াকাটা থেকে আসা পর্যটকদের টিকিট কাটার দায়িত্ব পালন করছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547446078337.jpg

এসময় তাদের নাম জানতে চাইলে তারা নাম বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে কথা বলতে তালতলী বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি।

এদিকে, বন বিভাগের এমন কার্যক্রমে হতাশা প্রকাশ করেছেন বরগুনার সচেতন মহল। তাদের দাবি, বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যবস্থা না নিলে শিগগিরই বন বিলীন হয়ে যাবে।

বরগুনা সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুর রব ফকির বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা সুন্দরী গাছ বিক্রির সাথে সরাসরি জড়িত। আর তাদের সহযোগিতা করছে বনরক্ষীরা। তারা যুগের পর যুগ এমনটা করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547446109391.jpg

এ বিষয়ে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাফিজ বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘অল্প টাকার বিনিমেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পরিবেশ ও দেশের বড় ক্ষতি করছে। অন্যান্য গাছের তুলনায় সুন্দরি গাছের দাম বেশি হওয়ায় দস্যুরা শুধু সুন্দরি গাছ কাটছে। অচিরেই কাটা বন্ধ না হলে হুমকির মুখে পড়বে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল।’

বরগুনা জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘আমি কিছুদিন হলো কাজে যোগ দিয়েছি। তবে বিষয়টি জেনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

ঘাট ইজারাদারের নেতৃত্বে লঞ্চে হামলা, আহত ১০

ঘাট ইজারাদারের নেতৃত্বে লঞ্চে হামলা, আহত ১০
ইজারাদারকে অবৈধভাবে কেবিন সুবিধা না দেওয়ায় হামলার শিকার সুপারভাইজার ও শ্রমিকরা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

পটুয়াখালী লঞ্চ ঘাটের ইজারাদার গাজী হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এম ভি কুয়াকাটা লঞ্চের কেবিন সুপারভাইজারসহ লঞ্চটির শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৭ আগস্ট) বিকাল ৪টায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এম ভি কুয়াকাটা লঞ্চের কেবিন সুপারভাইজার ও পৌর কাউন্সিলর এস এম ফারুক জানান, গাজী হাফিজুর রহমান প্রতি লঞ্চ থেকে পাঁচটি ডাবল ও সিঙ্গেল কেবিন অবৈধভাবে দাবি করেন। কিন্তু তিনি কেবিন দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এ নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে গাজী হাফিজুর রহমান সহ তার লোকজন লঞ্চের সুপাইভাইজারসহ অন্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে সুপারভাইজার ও তার ছেলেসহ লঞ্চের ১০ শ্রমিক আহত হন।

এদিকে এ হামলার পর থেকে লঞ্চঘাট এলাকায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

লঞ্চে সিট বাণিজ্য, গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ টাকা

লঞ্চে সিট বাণিজ্য, গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ টাকা
লঞ্চে ঢাকাগামী মানুষের দুর্ভোগ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকাগামী মানুষ কর্মস্থানে ফিরে যেতে শুরু করেছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বরগুনার লঞ্চে শুরু হয়েছে সিট বাণিজ্য, যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ টাকা। লঞ্চের একটি সিন্ডিকেট চক্র এ কাজ করছে বলে জানা যায়।

শনিবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ২টায় বরগুনা লঞ্চ টার্মিনালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডেকের ভাড়া নির্ধারিত হল ৪০০ টাকা কিন্তু সেই ডেকেই লঞ্চের একটি সিন্ডিকেট তাদের নিজস্ব বিছানার চাদর দিয়ে সাধারণ যাত্রীদের থেকে নিচ্ছে দ্বিগুণ টাকা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566040981376.jpg

 

এখানে চারটি লঞ্চ টার্মিনালে আছে। সব লঞ্চগুলোতেই বিছানার চাদর দিয়ে সিট বুক করা। সাধারণ যাত্রীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, সকালে এসে দেখি এগুলো দিয়ে সিট দখল করা দুপুর গড়িয়ে গেলেও পাওয়া যায়নি এর যাত্রী। এদিকে কেবিনের পাশেও দেখা যায় কেবিনবয় এর নির্ধারিত তোষক ও বিছানার চাদর।

কেবিনবয় লেখা টি-শার্ট পরা এক যুবকে কেবিনের পাশে একটি বিছানার চাদর দিয়ে সিট দখল করতে দেখা যায়। তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে আমি নিজের ঘুমানোর জন্য এ সিট রেখেছি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566040998728.jpg

 

বরগুনা লঞ্চ টার্মিনালের সুন্দরবন-২, এমভি সপ্তবর্ণা-৯, বোগদাদীয়া-১২, প্রিন্স-অব-রাসেল প্রতিটি লঞ্চেই একই চিত্র দেখা যায়।

সকাল হতেই জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বরগুনা লঞ্চ টার্মিনালে আসেন ঢাকামুখী মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে পৌঁছাতে ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে এসব যাত্রীদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566041021460.jpg

 

সাধারণ যাত্রীরা অভিযোগ করেন লঞ্চের একটি সিন্ডিকেট তার তাদের বিছানার চাদর দিয়ে সিট বুক করে রাখেন, সেগুলো আমাদের যা নির্ধারিত ভাড়া তার চেয়ে দ্বিগুণ দাম দিয়ে কিনে ঢাকা যেতে হয়। একদিকে যেমন কষ্ট করে ঈদে বাড়িতে আসছি তেমনি দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে যেতে হয়। সিট দখল করে যদি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০০ টাকা বেশি নিলে হতো কিন্তু নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566041035737.jpg

 

আবুল হোসেন, রাজু, ফেরদাউসসহ একাধিক যাত্রী বলেন, সেই সকাল ৮টায় লঞ্চে এসে একটু বসার জায়গা পেয়েছি। যদিও সবখানে বিছানার চাদর দিয়ে জায়গা দখল করে রাখা হয়েছে। এই দখল করা সিট কার কেউ জানে না।

বরগুনা নৌবন্দরের কর্মকর্তা মো. মামুন অর রশিদ এ বিষয়ে বলেন এমন কোনও অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন,

নির্ধারিত সময়ের আগেই ছাড়ছে লঞ্চ

ঢাকায় পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলো ফিরছে বিলম্বে

আজও ঢাকায় ফিরছে মানুষ, ভোগান্তি ট্রেনে

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র