Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও ‘ভাড়ানি খাল’ অবৈধ দখলে!

হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও ‘ভাড়ানি খাল’ অবৈধ দখলে!
হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও ‘ভাড়ানি খাল’ অবৈধ দখলে/ছবি:বার্তা২৪
  ইমরান হোসেন
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বরগুনা


  • Font increase
  • Font Decrease

দক্ষিণ বাংলার যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনে একদা গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ ‘ভাড়ানি খাল’ এখন ভোগান্তির অন্য নাম। দখল, দূষণ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং প্রশাসনের উদাসীনতায় নিশ্চিহ্নের পথে বরগুনার ঐতিহ্যবাহী জল-যোগাযোগ রুটটি। ‘ভাড়ানি খাল’ দখল ও দূষণ মুক্ত করতে আন্দোলন হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে প্রশাসনের সহযোগিতা না থাকায় কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

বার বার ‘ভাড়ানি খাল’ দখল ও দূষণ মুক্ত করে নৌ-পথটিকে বাঁচাতে জোরালো জনদাবি উঠেছে। এমন কি, গত ৭ জানুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জালিল সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ খালটির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ৩০ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। তারপরেও উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়নি। হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও বরগুনার ‘ভাড়ানি খাল’ অবৈধ দখলদারদের কবলে! 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/15/1547548814647.jpg

বরগুনার সব কটি উপজেলা ও পার্শবর্তী পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলাসহ কয়েকটি জেলা থেকে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বরগুনার খাকদোন নদী থেকে নানা ধরনের নৌযান খুব সহজে পায়রা নদীতে বের হয় বলে এই খালটির নাম ‘ভাড়ানি খাল’। নদীবহুল বৃহত্তর বরিশালের যোগাযোগের অন্যতম সংযোগ সূত্র এই খালটি প্রকৃতির এক অমূল্য সম্পদ। মানুষ ও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে আর্শীবাদ স্বরূপ খালটির এখন চলছে চরম দুর্দিন।

নৌযান চালকদের সাথে কথা বললে জানা যায়, খালটি দখল ও ময়লা আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় বর্তমানে পণ্য ভর্তি নৌযান আটকে থাকছে প্রতিদিন। এরপর ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় থাকতে হয় জোয়ারের। আগে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘন্টার পথ এখন অতিক্রম করতে হয় এক থেকে দেড় দিনে। জলপথকে মুক্ত রাখার বদলে নানা অসাধুচক্র তা দখল করছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে জলযোগাযোগের নানা সমস্যা ও বিড়ম্বনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/15/1547548831162.jpg

নৌযান চালকরা আরও জানান, বাঁশ-খুটি আর সিমেন্টের পাইল বশিয়ে খালটির মাঝ পর্যন্ত দখলে নেয়ায় একদিকে কমছে খালটির প্রস্থ, অন্যদিকে বাঁধা প্রাপ্ত হচ্ছে খালটির পানি প্রবাহ। ফলে খালটিতে পলি ও ময়লা জমে ভরাট হচ্ছে দিন দিন। আর পৌর শহরের বর্জ্য নির্দিষ্ট ডাস্টবিন বা ভাগারে নয় ফেলা হচ্ছে এই খালে। খালটি যেন উন্মুক্ত ময়লার পাহাড়। এতেও ভরাটের সাথে সাথে দুষিত হচ্ছে খালটির পানি।

নৌযান চালক সোহাগ মোল্লা, নাসির গাজী, ইসাহাক হাওলাদারসহ একাধিক চালক অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার পাশের দোকানীরা খাল ভরাট করে থাকছেন পরিবার নিয়ে। তাই এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ খালটি এখন সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে। দিনে দিনে খাবলে খাওয়া হচ্ছে খালটিকে। আর বাড়ছে চলাচলের ভোগান্তি।

নৌযান চালক ইকবাল মাঝি বলেন, পার্শ্ববর্তী সবকটি জেলায় যোগাযোগের সহজ মাধ্যম এ খালটি। তবে দখলদারদের কবলে পড়ে খালটি এখন বিলুপ্ত প্রায়। বেশিরভাগ সময় নৌযান আটকে যাচ্ছে পণ্য নিয়ে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/15/1547548848325.jpg

নদী ও খাল দখল ও দূষণ রোধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসা নদী পরিব্রাজক কমিটির সভাপতি সোহেল হাফিজ বলেন, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে দখল মুক্ত হচ্ছে না খালটি। তাই নদী পথে চলাচলের এ খালটি দিয়ে এখন পণ্য আসা-যাওয়া কমে গেছে অনেক। ফলে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে সড়ক পথে। সড়ক পথে দূর্ঘটনাও বাড়ছে দিন দিন।

ভাড়ানি খালের ব্যাপারে সামাজিক আন্দোলনের নেতা মুশফিক আরিফ বলেন, কিছু প্রভাবশালী খালটি দখল করে প্রথমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পরে তার পিছনে বসতবাড়ি বানিয়ে বসবাস করছে। দু’পাশের এসব অবৈধ দখলদাররা খালের অস্তিত্ব বিপন্ন করছে।

এ বিষয়ে বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসান ঝন্টু বলেন, ভাড়ানি খাল দখল মুক্ত করতে আন্দোলন করেছেন তারা। তবে অজানা কোন কারণে দখল ও দূষণ বন্ধ হচ্ছে না। শহরের মধ্য দিয়ে এ খালটি রক্ষা করতে না পারলে সৌন্দর্য হারাবে বরগুনা।

তবে বরগুনা জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদের দাবি, ‘এ খালটি শুধু দখল মুক্তই নয়, করা হবে সৌন্দর্য্যবর্ধনও। তবে দখলদারদের সরে যাওয়ার জন্য বলেছেন তিনি। যদি তারা সরে না যায় তবে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযানে নামবে প্রশাসন।’

আপনার মতামত লিখুন :

ডেঙ্গু: প্রাইভেট ক্লিনিকে একই রোগীর ভিন্ন রিপোর্ট

ডেঙ্গু: প্রাইভেট ক্লিনিকে একই রোগীর ভিন্ন রিপোর্ট
বরগুনার দুটি প্রাইভেট ক্লিনিকে শিশু মারিয়ার ডেঙ্গু ভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল/ ছবি: সংগৃহীত

বরগুনা শহরের ফায়ার সার্ভিস সড়কের মহিউদ্দিন জ্বরে আক্রান্ত আড়াই বছরের মেয়ে মারিয়াকে নিয়ে গত সোমবার বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহরাফ হোসেনের ব্যক্তিগত চেম্বারে যান। সেখানে চিকিৎস্যক ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে বলেন। পৌর শহরের রংধনু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েনি। তবে মনের সন্দেহ দূর করতে একই এলাকার শরীফ এক্সরে ও প্যাথলজিতে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। পরে এই নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে মারিয়াকে ঢাকায় নিয়ে যায় তার পরিবার।

শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক গত ৫ আগস্ট জ্বর নিয়ে রংধনু ডায়াগনস্টিকে পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে রক্তের প্লাটিলেট দেখায় দুই লাখ ৫৬ হাজার। পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েনি তার। সন্দেহের বশে শরীফ এক্সরে ও প্যাথলজিতে পরিক্ষা করালে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়েনি।

পরে হলি কেয়ার ডায়াগনস্টিক ও উপকূল ডায়গনস্টিকের পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে আব্দুর রাজ্জাকের। এরপরে বরিশাল শেরে-ই-বাংলায় ভর্তি হয়ে ৯ আগস্ট মেডি এইড ডিজিটাল ডায়গনিস্টিকে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু নেগেটিভ আসলেও ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে তার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566694640978.jpg
বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু ভাইরাস টেস্টে পজিটিভ রোগীরা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

সদর হাসপাতালে সরেজমিনে রোগীদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নার্সরা বলছেন, চিকিৎসকরা পাঠাচ্ছেন। আর চিকিৎসরাক দুষছেন নার্সদের।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মেডিকেল পরীক্ষা হাসপাতালে বিনা খরচে করার নিয়ম থাকলেও বরগুনায় কৌশলে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো হচ্ছে। ডাক্তারের নির্দেশানুযায়ী নার্সরা তাদের পছন্দের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো একই রোগীর আলাদা আলাদা রিপোর্ট দিচ্ছে। এতে নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। তাদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে কিট থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার জন্য চিকিৎসক ও নার্সরা রোগীদের পাঠাচ্ছেন ঐসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, বরগুনা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট থাকলেও কমিশনের জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566694758980.jpg

বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোহরাফ হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্ত করার কিট শেষ হয়ে গেছে। তাই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল।’

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ূন হাসান শাহীন বলেন, ‘ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিম্নমানের কিট ব্যবহার করা হচ্ছে, তাই রিপোর্ট আলাদা আলাদা আসছে।’

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ্ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে আইগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’

কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া: রাতেও চলছে স্পিড বোট

কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া: রাতেও চলছে স্পিড বোট
রাতের অন্ধকারে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া ঘাটে চলছে স্পিড বোট/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে রাতের অন্ধকারেও কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটের পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে চালানো হচ্ছে স্পিড বোট। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব বোট চালকদের নেই কোনো প্রশিক্ষণ, নেই কোনো লাইসেন্স।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমতি ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এ নৌযান চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নৌরুটে প্রায়ই স্পিড বোটের সাথে স্পিড বোট ও স্পিড বোটের সাথে অন্যান্য নৌযানের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

রাজধানী ঢাকার সাথে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ কাঠালবাড়ি-শিমুলিয়া ঘাট দিয়ে যাতায়াত করে। নদী পার হওয়ার জন্য ফেরি ও লঞ্চের পাশাপাশি দেড় শতাধিক স্পিড বোট চলাচল করে। পাঁচ কিলোমিটারের পথ দ্রুত পার হওয়ার জন্য যাত্রীরা স্পিড বোট ব্যবহার করেন।

প্রতিদিন ভোর ৬টা হতে রাত ৯/১০টা পর্যন্ত পদ্মা নদীতে বোটগুলো চলাচল করে। দিনে যাত্রীদের কাছ থেকে ১৩০ টাকার ভাড়া নেওয়া হয় ১৫০ টাকা। রাতে ২০০ টাকা ৩০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, স্পিড বোটে যাত্রী পার করা হচ্ছে। প্রতিটি বোট সিরিয়াল করে রাখা হয়েছে। একটির পর একটি ছাড়া হচ্ছে। প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া বাবদ দুইশত টাকা আদায় করা হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566690803164.jpg

শিমুলিয়া ঘাট থেকে স্পিড বোটে আসা যাত্রী রাহাত খান বলেন, ‘দ্রুত খুলনা যেতে হবে, তাই ঝুঁকি নিয়ে স্পিড বোটে এলাম। ভাড়া দুইশত টাকা রাখছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বোট চালক জানান, স্পিড বোট চলাচলের জন্য প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেই। যারা বোটগুলো চালায় তাদের এ বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণও নেই। রাতে নদীতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্পিড বোট চলাচলের কারণে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটে।

বিআইডব্লিউটিএ'র কাঁঠালবাড়ি ঘাট সূত্রে জানা যায়, নদীতে ইঞ্জিনচালিত যেকোনো নৌযান চালাতে হলে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর থেকে রেজিস্ট্রেশন ও চালকদের লাইসেন্স নিতে হয়। বিআইডব্লিউটিএ শুধু নৌপথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়। কিন্তু এ নৌপথে স্পিড বোট চলচলাচলের কোনো অনুমতি নেই।

এ বিষয়ে শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। পদ্মায় অবৈধভাবে স্পিড বোট চলাচল করছে ব্যাপারটা আমি জানতাম না। খুব শীঘ্রই এটি বন্ধ করব।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র