Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হাজারো বেকারের প্রেরণা সাজ্জাদ

হাজারো বেকারের প্রেরণা সাজ্জাদ
ভেড়া পালন করে স্বাবলম্বী সাজ্জাদ, ছবি: বার্তা২৪
সাদের হসেন বুলু
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকার দোহারের সুতারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের কাজীর চর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাজ্জাদ হোসেন দীর্ঘদিন বেকার থেকে প্রবাসে যাওয়ার চিন্তা করেন। হঠাৎ একদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভেড়ার খামার সংক্রান্ত একটি পোষ্ট তার চোখে পড়ে।

এরপর সাজ্জাদ প্রবাসে না গিয়ে দেশেই উপজেলার রায়পাড়া ইউনিয়নের ইসলামপুর সাহেবখালী এলাকায় ২ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে গড়ে তোলেন একটি ভেড়ার খামার। ৫০ টি ভেড়া নিয়ে খামার শুরু করেন তিনি। এখন তার খামারে ১০০ টির বেশি বিভিন্ন জাতের ভেড়া ও গাড়ল (উন্নত জাতের ভেড়া) রয়েছে। প্রবাসে না গিয়ে ভেড়া পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন সাজ্জাদ। নিজের বেকারত্ব দূরীকরণের মাধ্যমে বর্তমানে এলাকার হাজারো বেকার তরুণের অনুপ্রেরণা তিনি।

সাজ্জাদ হোসেন বার্তা২৪.কম কে বলেন, 'গাড়ল মাঠে ঘাস খায়। ধানের খর খেয়ে থাকে তারা। তাই তাদের আলাদাভাবে খাওয়ানো জন্য তেমন কোনো খরচ নেই। রাতে (পুরুষ গাড়ল) আলাদা করে রাখা হয় এবং বাড়িতে তাদের খাবার দিতে হয়। জন্মের এক সপ্তাহ পর গাড়লের ছোট বাচ্চা আলাদা করে রাখা হয়।যে কেউ চাইলে লাভজনক এই খামার করতে পারেন। খরচ খুব কম। তবে তুলনামূলকভাবে উঁচু ও পরিচ্ছন্ন জায়গায় ভেড়া পালন করতে হবে। বছরে তিনবার কৃমির ওষুধ, একবার পিপিআর টিকা দিতে হয়। প্রতি ভেড়ার পেছনে বছরে ওষুধে ব্যয় হয় ৭০ টাকা।'

শুরুতেই মেহেরপুরের মুজিবনগর এলাকা থেকে বেশ কিছু উন্নত জাতের গাড়ল কিনে আনেন তিনি। ভেড়া ও গাড়ল বছরে দুই বার বাচ্চা প্রসব করে। প্রতিবার দুই থেকে ছয়টি বাচ্চা প্রসব করে থাকে। ১ বছর বয়সী একটি গাড়ল প্রায় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করা যায়। ভারতীয় প্রজাতির গাড়ল দেশীয় ভেড়ার মতো দেখতে। তবে এগুলো উন্নত জাতের এবং লেজ লম্বা। ভেড়ার চেয়ে গাড়ল আকারে বড় এবং গাড়লের মাংস সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। তবে ভেড়া ও গাড়ল পালনে দোহার উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস ও যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহযোগিতা পেলে ভেড়ার খামার করে দেশেই বিদেশের টাকা আয় করা সম্ভব বলেও জানান সাজ্জাদ।

নতুন খামারিদের বিষয়ে সাজ্জাদ বার্তা২৪.কম কে বলেন, 'ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে এ দেশের আবহাওয়ার যথেষ্ট মিল রয়েছে। তাই আমাদের দেশে গাড়ল চাষ হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে গাড়ল বছরে দুইবার বাচ্চা দিলেও ২-৪টির বেশি নয়। তাই দেশি ভেড়ার সঙ্গে গাড়লের সংকর করতে পারলে হয়তো বাচ্চা বেশি পাওয়া সম্ভব।'

পালে নতুন নতুন ভেড়া রাখার কথা ও কোনো ভেড়া ২ বছরের বেশি পালে না রাখার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

ভুলে বিকাশে আসা ৩০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিলেন টাইলস মিস্ত্রি

ভুলে বিকাশে আসা ৩০ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিলেন টাইলস মিস্ত্রি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

হত্যা, ধর্ষণ, মাদকসহ দুর্নীতির একের পর এক সংবাদে দেশবাসী যখন উৎকণ্ঠিত তখন বিকাশের ভুল নম্বর থেকে আসা ৩০ হাজার টাকা ফিরিয়ে সততার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের শিরফল মিয়া (৪০)।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেলে মালিকের হাতে টাকাগুলো তুলে দেন শিরফল মিয়া। শিরফল মিয়া উপজেলা সদরের বানেশ্বর বিশ্বাসের পাড়া গ্রামের ফকির চাঁন মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি।

জানা যায়, গত ১১ জুলাই রাতে শিরফল মিয়ার ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা আসে। কিন্তু এতো টাকা কিভাবে আসল তা তিনি বুঝতে পারছিলেন না। ভয়ে কারও সঙ্গে বিষয়টি আলাপও করেননি। পরদিন (১২ জুলাই) তার নম্বরে পটুয়াখালি থেকে মো. আল আমিন নামে এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে টাকার কথা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। একই সাথে বানিয়াচং ঘুরে যাওয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানান।

মঙ্গলবার টাকা ফেরত নিতে দুই বন্ধুকে সাথে নিয়ে বানিয়াচং আসেন আল আমিন (২৯)। পরে বিকেলে শিরফল মিয়া তার ৩০ হাজার টাকা ফেরত দেন। এসময় টাকা ফেরত পেয়ে খুশি হয়ে শিরফল মিয়াকে ২ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সাংবাদিক শিব্বির আহমদ আরজু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি শেখ সাগর আহমদ ও রেজাউল করিম।

এ টাকা ফেরত পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন আল আমিন মিয়া। তিনি বলেন- ‘যখন জানতে পারি ৩০ হাজার টাকা বিকাশের ভুল নম্বরে হবিগঞ্জের বানিয়াচং গিয়েছে তখন ফেরত পাব বলে বিশ্বাস ছিলো। কারণ এখানকার মানুষ অনেক সৎ ও ভালো হিসেবে জানি। সে বিশ্বাসের প্রতিফলন আজ পেয়েছি।’

এ ব্যাপারে শিরফল মিয়া বলেন- ‘ভুল করে টাকা আসতেই পারে। তাই বলে অন্যের টাকা আত্মসাৎ করব এমন শিক্ষা পেয়ে আমি বড় হইনি।’
শিরফল মিয়া বিদেশ ফেরত এক যুবক। তিনি প্রবাস থেকে অর্থ-কড়ি খুইয়ে বাড়িতে এসেছেন প্রায় ৫ বছর। পেশা হিসেবে টাইলস মিস্ত্রি। কিন্তু ৫ সদস্যের সংসারে অর্থের টানাপোড়েন লেগেই আছে। এমতাবস্থা থেকেও শিরফল মিয়া সেই টাকার প্রতি বিন্দুমাত্র লোভ করেননি। এতে তিনি টাকা ফেরত দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

নবীগঞ্জে ট্রাক চাপায় রিকশা চালক নিহত

নবীগঞ্জে ট্রাক চাপায় রিকশা চালক নিহত
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ট্রাক চাপায় জাহাঙ্গীর মিয়া (১৫) নামে এক কিশোর রিকশা চালক নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) মহাসড়কের আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজারের কাছে রাত ৮টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত রিকশা চালক আউশকান্দি ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে।

প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে রিকশা চালিয়ে আউশকান্দি বাজারে আসছিল জাহাঙ্গীর। এ সময় মুনিম ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছা মাত্রই সিলেট থেকে ঢাকাগামী দ্রুতগতির একটি ট্রাক জাহাঙ্গীরের রিকশাকে চাপা দেয়। এতে রিকশাটি দুমড়ে মুছড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই সে নিহত হয়।

মহাসড়কের প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানা ও নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। বর্তমানে মরদেহ হাইওয়ে থানায় রয়েছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র