Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘বেঁচে না থাক, অন্তত লাশটা যেন পাই’

‘বেঁচে না থাক, অন্তত লাশটা যেন পাই’
ছবি: বার্তা২৪.কম
আরিফ আহমেদ সিদ্দিকী
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
 পাবনা
বার্তা২৪.কম 


  • Font increase
  • Font Decrease

গত সোমবার স্বামী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে সর্বশেষ কথা বলেছেন স্ত্রী আসমা খাতুন। জীবিকার তাগিদে মাটিকাটা শ্রমিক হিসেবে গেল ১০ দিন আগে তার স্বামী ২০-২৫ জনের সঙ্গে মুন্সিগঞ্জে গেছেন। তবে গত ১৫ জানুয়ারি তার স্বামীকে বহনকারী ট্রলারটি ডুবে গেছে এমন সংবাদে তার ভেতরে বইছে স্বজন হারানোর বেদনা।

শুধু আসমা খাতুনই নন, তার মতো বাকিদের পরিবারেও চলছে শোকের মাতম। কেউবা বিলাপ করছেন, কেউবা স্বজন ফিরে পাওয়ার আশায় কোরআন তেলাওয়াত করছেন।

মাটিকাটা শ্রমিক রফিকুলের স্ত্রী আসমার মতোই স্বামী, দুই ছেলে ও ভাই নিখোঁজে পাগলের মতো প্রলাপ করছেন হানুফা খাতুন। দুই ছেলে নিখোঁজে জব্বার আলীর অবস্থাও করুন। প্রতিবেশী স্বজনরা তাদের সান্ত্বনা দিতে এসে নিজেরাই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন। চলছে গগন ফাটানো কান্না। এলাকার আকাশে-বাতাসে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্বামী, ভাই, সন্তান হারানো পরিবারগুলোর সদস্যরা স্বজনদের নিখোঁজের খবর মেনে নিতে পারছেন না। তাদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকেই। কেউ বা হারাচ্ছেন সজ্ঞা। আর কেউ প্রলাপ বকছেন।

নিখোঁজ স্বজনরা দাবি নিয়ে বলেন, ‘বেঁচে না থাক, অন্তত লাশটা যেন পাই।’

জানা গেছে, পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের মুণ্ডুমালা, দাসমরিচ, চণ্ডীপুর আর মাদারবাড়ীয়া গ্রামের বাতাস গত দু’দিন ধরে ভারী হয়ে আছে। গেল সোমবার গভীর রাত থেকে এসব গ্রামের ১৭ জন ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন। যাদের হদিস এখনো মেলাতে পারেনি উদ্ধারকারীরা।

বৃহস্পতিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত কেউই এই নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি।

নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা জানান, জীবিকার তাগিদেই ২০-২৫ জনের একটি দল একত্রে মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে মাটিকাটার কাজ করতেন। নিখোঁজদের মধ্যে মুণ্ডুমালা গ্রামের একই পরিবারের দুই সহোদরসহ ৯ জন, দাসমরিচ গ্রামের একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন, চণ্ডীপুর গ্রামের দুজন এবং মাদারবাড়ীয়া গ্রামের একজন নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন।

নিখোঁজ ১৭ জন শ্রমিকরা হলেন- পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের মুণ্ডুমালা গ্রামের গোলাই প্রামাণিকের ছেলে সোলেমান হোসেন, জব্বার ফকিরের ছেলে আলিফ হোসেন ও মোস্তফা ফকির, গোলবার হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন, আব্দুল মজিদের ছেলে জাহিদ হোসেন, নূর ইসলামের ছেলে মানিক হোসেন, ছায়দার আলীর ছেলে তুহিন হোসেন, আলতাব হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন, লয়ান ফকিরের ছেলে রফিকুল ইসলাম, দাসমরিচ গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে ওমর আলী ও মান্নাফ আলী, তোজিম মোল্লার ছেলে মোশারফ হোসেন, আয়ান প্রামাণিকের ছেলে ইসমাইল হোসেন, সমাজ আলীর ছেলে রুহুল আমিন, মাদারবাড়িয়া গ্রামের আজগর আলীর ছেলে আজাদ হোসেন, চণ্ডীপুর গ্রামের আমির খান ও আব্দুল লতিফের ছেলে হাচেন আলী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/17/1547722007461.jpg

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে খান মরিচ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে খবর আসার সঙ্গে সঙ্গে আমি আমার ছোট ভাই রতন রহমানকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়াতে পাঠিয়েছি। গজারিয়ার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আমার এলাকার নিখোঁজদের নাম পরিচয় উল্লেখ করে একটি তালিকা দেয়া হয়েছে।

এদিকে ট্রলারডুবিতে বেঁচে যাওয়া শ্রমিক পাবনার ভাঙ্গুড়ার হাবিবুর রহমান ও পরশ কুমার সিং জানান, নদীতে প্রায় এক ঘণ্টা সাঁতার কেটে একটি বালুর জাহাজে উঠে প্রাণে বাঁচেন তারা।

বেঁচে যাওয়া আরেক শ্রমিক মামুন আলী জানান, তারা ১৪ জন প্রাণে বেঁচে গেলেও কেবিনের ভেতরে থাকা ২০ জনের কেউই বেরোতে পারেনি।

মামুন আরও জানান, তেলের ট্যাংকারটি দেখতে পেয়ে ট্রলারের চালক বিপদ সংকেত বাজান। এ সময় তারা তাড়াহুড়া করে ওপরে উঠে আসার আগেই ট্যাংকারটি ট্রলারকে ধাক্কা দেয়। এরপরই ট্রলারের বাইরে থাকা শ্রমিকরা ছিটকে নদীতে পড়ে যায়। আর ডুবে যায় ট্রলারটি। কিন্তু তেলের ট্যাংকারটি তাদের উদ্ধারে কোনো ধরনের সাহায্য করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এ দুর্ঘটনাটি মর্মান্তিক। খবরটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই মুন্সিগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’

উল্লেখ্য, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরঝাপটার কাছে মেঘনা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় মাটিবোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় ২০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। সাঁতরে তীরে উঠে এসেছেন ১৪ জন। ১৫ জানুয়ারি রাত ৩টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ট্রলারে মাটি নিয়ে ৩৪ জন শ্রমিক যাচ্ছিলেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলীতে। নিখোঁজ ২০ শ্রমিকের মধ্যে ১৭ জনের বাড়ি পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।

আপনার মতামত লিখুন :

নোয়াখালীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

নোয়াখালীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াাখালীর সেনবাগে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়ার পশ্চিমপাড়ার ও দিঘিরপাড়ার লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ফয়েজ, মামুন, ফিরোজসহ পাঁচজনকে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় কথা কাটাকাটির জের ধরে ছাতারপাইয়া পশ্চিমপাড়ার সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে দিঘিরপাড়ার ফয়েজ নামে এক ছেলেকে মারধর করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে উভয়পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে আহত হন অন্তত ১০ জন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বিয়ের আসর থেকে বরের পলায়ন

বিয়ের আসর থেকে বরের পলায়ন
ছবি: সংগৃহীত

রান্না বান্না প্রায় শেষ। বরসহ কয়েকজন বরযাত্রী উপস্থিত হয়েছেন। অতি গোপনে হলেও বিয়ে বাড়ি বলে কথা। তাই লোকজনের আনাগোনা। এর মধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু। টের পেয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেলেন বর।

ঘটনাটি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী খাসমহল গ্রামের। রোববার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ফেলে পালিয়ে যায় বরপক্ষ।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুখময় সরকার বলেন, খাসমহল গ্রামের কালু মণ্ডলের মেয়ে স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার বিয়ে ঠিক হয় বাঁশবাড়িয়া গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে। রাতে কালু মণ্ডলের বাড়িতে গোপনে বিয়ের আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে সেখানে আমরা অভিযানে গেলে বরপক্ষ পালিয়ে যায়। মেয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না বলে মেয়ের বাবা-মা লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন। এরপরও যদি তারা বিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেন, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র