Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সবুজ আর হলুদের মিতালি যেখানে

সবুজ আর হলুদের মিতালি যেখানে
সবুজ আর হলুদের মিতালিতে পরিপূর্ণ সরিষা ক্ষেত। ছবি: বার্তা২৪.কম
হাসান মাহমুদ শাকিল
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
লক্ষ্মীপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সবুজ আর হলুদের মিতালিতে পরিপূর্ণ সরিষা ক্ষেত। যেখানে রয়েছে চোখ জুড়ানো অপার সৌন্দর্যের সমারোহ। সরিষা ক্ষেতের ওপর ভেসে থাকা কুয়াশা সকালবেলার প্রকৃতিকে মনোমুগ্ধকর করে তোলে। প্রাকৃতিক এ সৌন্দর্য অবলোকনে ভারাক্রান্ত মনটিও যেন আনন্দে ভরে উঠবে।

হলুদ-সবুজের মিতালির দেশে সেলফিবাজরাও নানা ভঙ্গিমা ধারণ করে। সরিষা ক্ষেতে নানা প্রজাতির মাছি-মৌমাছি ও প্রজাপতির আনাগোনার শ্রেষ্ঠ স্থানও বলা চলে। সকালের সূর্যের ছোঁয়া পেতে গাঁয়ের বিভিন্ন বয়সীরা সরিষা ক্ষেতের পাশে বসে থাকে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধুরীর হাট স্লুইস গেটের দক্ষিণ পাশের সরিষা ক্ষেতে গিয়ে এসব দৃশ্য দেখা যায়।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, সরিষা ক্ষেতের মাঝ দিয়ে আঁকাবাঁকা রাস্তায় ছুটোছুটি করে স্কুলে যাচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। তখন বই হাতে ও স্কুল ড্রেসে ছাত্র-ছাত্রীদের দেখে মনে হয় তারা হলুদের রাজ্যে মিশে গেছে। আবার বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে সরিষা ফুল ছেঁড়া নিয়ে ভাই-বোনের খুনসুটিও বেশ মানানসই। ওই রাস্তাগুলো ব্যবহার করতে ভুলে না গ্রামের মেয়ে-বউসহ নানা বয়সী মানুষ। ওই পথ দিয়েই মাথায় বস্তাভর্তি মালামাল নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন গ্রামের কোনো এক মুরব্বি। শুকনো মৌসুমে সহজ যোগাযোগের মাধ্যমই ফসলের মাঝ দিয়ে যাওয়া আঁকাবাঁকা রাস্তা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/17/1547725687264.jpg

দূর থেকে দেখা যায়, গরু ও লাঙ্গল দিয়ে জমিতে হাল চাষ দিচ্ছেন এক কৃষক। যার চারপাশেই সরিষা ক্ষেত। দূর থেকে মনে হচ্ছে, সরিষা ক্ষেত মাড়িয়ে ফসল নষ্টের কাজে ব্যস্ত তিনি। কিন্তু তা নয়, তিনি তার খালি জমিতে অন্য ফসল আবাদের লক্ষ্যে জমি প্রস্তুত করছেন।

অপরদিকে মৌমাছি মৌমাছি, কোথা যাও নাচি নাচি- ‘নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের’ সেই কবিতার মতো মধু সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে মৌমাছির দল। পুরোদমে তারা মধু সংগ্রহে সময় পার করছে। মনের অগোচরে তারা সরিষা ক্ষেতে এসে লুকোচুরি খেলছে। এর মাঝে যখন তারা হাঁপিয়ে যায় তখন নিরিবিলি হয়ে ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। মধু সংগ্রহ করে আবার তারা উড়ে চলে যায় আপন নীড়ে। একই সঙ্গে সরিষা ক্ষেতে নানা প্রজাতির মাছি ও প্রজাপতির আনাগোনা অবিরত থাকে। বাদ যায় না পাখিরাও।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/17/1547725708524.jpg

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলাতে ২৭১ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ৭৫, রায়পুরে ১৬০, রামগঞ্জে ১৫, রামগতি ৫ ও কমলনগর ১৬ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/17/1547725726192.jpg

লক্ষ্মীপুর মজু চৌধুরীর হাট এলাকায় সরিষা ক্ষেতে ছবি তুলতে আসা আরাফাত রহমান অমি বলেন, ‘সরিষা ক্ষেত দেখতে খুব সুন্দর। ফুলের ঘ্রাণ বেশ মনোমুগ্ধকর। এ জন্য এখানে বন্ধুকে নিয়ে ছবি তুলতে এসেছি। এই জায়গায় বিভিন্ন মৌসুমে নানা প্রজাতির ফসলের চাষাবাদ হয়। সেসব ফসলের ক্ষেত দেখতেও ভালো লাগে। তাই মাঝে মাঝে এখানে আসি।’

আপনার মতামত লিখুন :

সিরাজগঞ্জে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

সিরাজগঞ্জে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সিরাজগঞ্জে স্ত্রী হত্যার দায়ে কামরুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত কামরুল ইসলাম সদর উপজেলার কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের বনবাড়িয়া গ্রামের আবুল হোসেন ডিলারের ছেলে।

আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আনোয়ার পারভেজ লিমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৮ সালে কামরুল ইসলামের সঙ্গে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার দিয়ারধানগড়া মহল্লার আব্দুল আজিজের মেয়ে মুন্নী
খাতুনের (৩২) বিয়ে হয়। বিয়ের সময় দুই লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। বিয়ের পর থেকে আব্দুল আজিজ আরো যৌতুকের জন্য মুন্নীকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। এরই জের ধরে ২০১২ সালের ১২ জুলাই তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি। টাকা এনে দিতে রাজি না হওয়ায় ওই দিন মুন্নীকে মারপিট করে গলা টিপে হত্যা করেন কামরুল। এ ঘটনায় মুন্নীর বড় বোন পারুল বেগম বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে মঙ্গলবার এ রায় দেন আদালত।

মামলার বাদী পারুল এ রায়ের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আসামির দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দাবি জানান।

বেনাপোলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৬০২৮ কোটি টাকা

বেনাপোলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৬০২৮ কোটি টাকা
বেনাপোল কাস্টম হাউজ/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশের সর্বববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি পণ্যের উপর ছয় হাজার ২৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এত বড় অংকের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব জানালেও ব্যবসায়ীরা বলছেন অনশ্চিয়তার কথা।

এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এখানে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে চার হাজার ৪০ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল এক হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা।

ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট, এক্সপোর্ট সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, এ পথে বাণিজ্য আরও গতিশীল করতে ভারত-বাংলাদেশ সরকার উভয় আন্তরিক। ইতোমধ্যে তার ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান চার দেশের বাণিজ্য চুক্তিও বাস্তবায়ন হয়েছে। কিন্তু বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানির ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সমস্যায় ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় সুফল পাচ্ছেন না। অবকাঠামোর উন্নয়ন না হলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নাও হতে পারে।’

বেনাপোল সিআ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘বন্দরের ধারণ ক্ষমতা ৩৮ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু এখানে সবসময় পণ্য থাকে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। জায়গার অভাবে খোলা আকাশের নিচে রোদ, বৃষ্টি, কাদায় পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হয়। অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে বর্তমানে যে রাজস্ব আদায় হয়, তখন তার দ্বিগুণ হবে।’

বেনাপোল বন্দরের আমদানিকারক উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, ‘বন্দরে পরীক্ষাগার না থাকায় পণ্যের নমুনা পরীক্ষণের জন্য ঢাকাতে পাঠাতে হয়। রিপোর্ট হাতে পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন, কখনো মাসের অধিক সময় লেগে যায়। এতে আমদানি পণ্য বন্দরে আটকে থেকে যেমন লোকসান গুনতে হয়, তেমনি পণ্যের মান নষ্ট হয়।’

বেনাপোল বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) প্রদোষ কান্তি দাস বলেন, ‘পূর্বের চেয়ে বন্দরে নিরাপত্তা বেড়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নের বেশ কিছু কাজও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বন্দরের জায়গা বাড়াতে জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র