Barta24

রোববার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

বগুড়ায় অপহৃত কলেজ ছাত্র উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

বগুড়ায় অপহৃত কলেজ ছাত্র উদ্ধার, গ্রেফতার ৩
ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা২৪


  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ায় মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ছাত্রকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে গ্রেফতার করেছে অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে। অপহরণকারীদের কবল থেকে উদ্ধারকৃত সাকিবুল ইসলাম বগুড়ার একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্র।

পুলিশ সূত্র জানায়, বগুড়া শহরের শেরপুর রোডে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (বিআইআইটি) নামে বেসরকারি পলিটেকনিক এর ছাত্র সাকিবুল শনিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে পরীক্ষা শেষে রিকশা যোগে স্টেডিয়ামে যাচ্ছিলেন খেলা দেখার উদ্দেশ্যে। শহরের খান্দার এলাকায় অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা সাকিবুলকে চাকু দেখিয়ে অপহরণ করেন। এরপর মোবাইল ফোনে তার বাবার কাছে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেন। পরে সাকিবুলের বাবা বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার দামরুল গ্রামের রফিকুল ইসলামকে ছেলেকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে অপহরণকারীদেরকে বিকাশের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু অপহরণকারীরা সাকিবুলকে ফেরত না দিয়ে আরও টাকা দাবী করে এবং টাকা না পেলে ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে রফিকুলকে জানায়।

শনিবার রাতে রফিকুল ইসলাম বিষয়টি বগুড়া সদর থানায় জানায়। এরপর পুলিশ মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে অপহরণকারীদের অবস্থান সনাক্ত করে। কিন্তু অপহরণকারীরা বার বার সাকিবুলকে নিয়ে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে। একপর্যায় শনিবার গভীর রাতে শহরের খান্দার এলাকার একটি বাড়ি থেকে অপহৃত সাকিবুল ইসলামকে উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে অপহরণের ঘটনায় জড়িত খান্দার চাপড়পাড়ার আবুল কালামের ছেলে রেজাউল ইসলাম ওরফে রিয়াদ(২৪), মালগ্রাম দক্ষিণপাড়ার ওয়াদুদ সরকারের ছেলে ওয়াহেদ ফারুকী ওরফে মেঘ (১৯) ও মালগ্রাম চাপড়পাড়ার ইদ্রিস আলীর ছেলে মোহাম্মদ সাজিবকে (২৫) গ্রেফতার  করে পুলিশ।

অপহৃত সাকিবুল উদ্ধারের কাজে নেতৃত্বদানকারী পুলিশ কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা বার্তা২৪কে বলেন, পুলিশ অপহরণকারীদের অবস্থান সনাক্ত করার পরে তারা সাকিবুলকে নিয়ে একটি জঙ্গলে অবস্থান নেন। এরপর বিকাশে টাকা দেয়ার আশ্বাস পেলে অপহরণকারীরা তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে যায় এবং অপর এক অপহরণকারী বিকাশে টাকা নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।

রোববার (২৭জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া সদর থানায় এ ব্যাপারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) বদিউজ্জামান বার্তা২৪কে বলেন,  গ্রেফতারকৃতরা সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য।  গ্রাম থেকে শহরে লেখাপড়া করে আসা ছাত্রদেরকে তারা টার্গেট করে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করে থাকে। এর আগে তারা একাধিক অপহরণের সাথে জড়িত ছিল। তাদেরকে এর আগেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে থানায় অপহরণ মামলা হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের হয়েছে উল্লেখ করে ওসি বলেন, ওই ঘটনায় আরও কারা জড়িত সেই বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

জামানত হারাচ্ছেন সাবেক চিফ হুইপসহ ৫ প্রার্থী

জামানত হারাচ্ছেন সাবেক চিফ হুইপসহ ৫ প্রার্থী
সাবেক চিফ হুইপ ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর, ছবি: সংগৃহীত

সদ্য সমাপ্ত বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী জামানত হারাচ্ছেন বিরোধী দলের সাবেক চিফ হুইপসহ পাঁচজন প্রার্থী। মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

এরা হলেন- বিরোধী দলের সাবেক চিফ হুইপ ও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মনসুর রহমান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের রফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিনহাজ এবং সৈয়দ কবির আহম্মেদ।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে সেই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সোমবার (২৪ জুন) অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭০। সে অনুযায়ী জামানত ফেরত পেতে প্রার্থীকে ১৬ হাজার ৭৩৩ ভোট পেতে হবে। পাঁচ জন প্রার্থীর কেউ সেই পরিমাণ ভোট পাননি।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুরুল ইসলাম ওমর (লাঙল) নির্বাচন করে ভোট পেয়েছেন ৭ হাজার ২৭১ভোট। এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে নির্বাচন করে তিনি ৪০ হাজার ৩৬২ ভোট পেয়ে জামানত ফেরত পেয়েছিলেন। মির্জা ফখরুল শপথ না নেওয়ায় শূন্য ঘোষিত আসনে উপ-নির্বাচনে তিনি আবারও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছিলেন।

জামানত হারানো অপর চার প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম (হারিকেন) পেয়েছেন ৫৫৪ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মনসুর রহমান (ডাব) পেয়েছেন ৪৫৬ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ কবির আহম্মেদ নির্বাচনের কয়েকদিন আগে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে তিনি (ট্রাক) পেয়েছেন ৬৩০ ভোট। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিনহাজ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২০ ভোট।

সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি ছাড়া অন্য প্রার্থীরা সব কেন্দ্রে নির্বাচনী এজেন্ট দিতে পারেনি। তবে এবারের নির্বাচনে ইভিএম’র মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করায় স্মরণকালের শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠু হয়েছে। এ কারণে কোনো প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি।

১০ বছরেও চালু হয়নি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুল

১০ বছরেও চালু হয়নি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুল
বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুলটি নির্মাণের ১০ বছরেও চালু হয়নি, ছবি: বার্তা২৪

নির্মাণের ১০ বছরেও চালু হয়নি ঝিনাইদহ বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুল। শহরের সার্কিট হাউস সড়কের পাশে তিন একর জমির ওপর সমাজসেবা অধিদফতরের মুক-বধির আবাসিক স্কুল স্থাপন প্রকল্পের আওতায় স্কুলটি নির্মাণ করা হয়।

জেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্কুলটির নির্মাণ শুরু হয় ২০০২ সালে, যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০০৬ সালের মধ্যে। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০০৯ সালে। ব্যয় হয় চার কোটি ১৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় একাডেমিক ভবন, দুটি আবাসিক হলসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়।

স্কুলটিতে প্রতিবছর যশোর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা থেকে মোট ৫০ জন ছেলে ও ৫০ জন মেয়ে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীকে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল।

আরও জানা গেছে, স্কুলের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই আসবাপত্র ও শিক্ষার্থীদের বিছানাপত্র সরবরাহ করা হয়। কিন্তু স্কুল চালু না হওয়ায় সেগুলো সমাজসেবা অধিদফতরের মধুপুর শিশু পরিবারে রাখা হয়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় যার অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। যার মধ্যে দুটি ল্যাপটপও রয়েছে।

স্কুলের জন্য একজন প্রধান শিক্ষক, একজন হাউস প্যারেন্ট, দুই জন শিক্ষক, দুই জন কারিগরি শিক্ষক, একজন হিয়ারিং এইড টেকনিশিয়ান, একজন মেট্রন কাম নার্সসহ ১৮টি পদ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু আজও কোনো লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

স্কুলটি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের হলেও এখানে দুইজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয়। যাদের অন্যত্র ডেপুটেশনে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ২৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু তাদের এক দিনও ক্লাস হয়নি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের খোরাকি বাবদ চলতি অর্থ বছরে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ আসলেও তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জেলা সমাজসেবা অফিসের একজন সহকারী পরিচালক স্কুলটি দেখভাল করছেন।

এ ব্যাপারে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সুষেন্দু কুমার ভৌমিক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এটি একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। নির্মাণের পর দীর্ঘদিন পড়ে আছে। চালু হলে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা উপকৃত হতো।’

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় স্কুলটি চালু করা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে সমাজসেবা অধিদফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র