Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

বঙ্গোপসাগরের বুকে ‘বঙ্গবন্ধু চর’

বঙ্গোপসাগরের বুকে ‘বঙ্গবন্ধু চর’
বঙ্গোপসাগরে অনিন্দ্যসুন্দর ‘বঙ্গবন্ধু চর’
আবু হোসাইন সুমন
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বাগেরহাট


  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মোংলা থেকে প্রায় ১৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে প্রায় দেড় যুগ আগে জেগে ওঠে বিশাল এক বালুচর। এক সময়, এর নামকরণ করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু চর’। সুন্দরবনের দুবলারচর ও হিরণ পয়েন্ট থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে এর অবস্থান। এর দৈর্ঘ্য ৮ মাইল ও প্রস্থ ৬ মাইল। 

প্রতিদিনের জোয়ার ভাটায় চরটিতে ভেসে আসে নানা প্রজাতির ফলের গাছপালা, লতাপাতা ও গুল্ম। আর এসবেই চরটিতে জন্ম নিচ্ছে নানা জাতের বৃক্ষ। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সুন্দরী, কলা, কচু ও বাদাম গাছ বেড়ে উঠছে সেখানে। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পাখির বসাবসও। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/29/1548761388057.jpg

পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের সিএফ আমির হোসাইন চৌধুরী জানান, ১৮ থেকে ২০ বছর আগে বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা চরটিতে কয়েকজন জেলে ‘বঙ্গবন্ধুর চর’ নামকরণ করেন। সেই থেকে চরটি এ নামেই পরিচিত। এ চরে এখন ইকো-ট্যুরিস্টদের (প্রতিবেশ পর্যটক) পদচারণা বেড়েই চলছে। তবে আপাতত সেখানে কোনো পর্যটন স্পট করার পরিকল্পনা নেই।

আমির হোসাইন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু চরের পাশে বনবিভাগের নীল কমল অভয়ারণ্য রয়েছে। ওই চরটাও অভয়ারণ্যের অংশ এবং এটা বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। যেহেতু ওটা (বঙ্গবন্ধুর চর) ন্যাচারাল ফরেস্ট, তাই ওটাকেও সংরক্ষণ করা আমাদের কাজ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/29/1548761515548.jpg

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বাগেরহাটের মোংলা অঞ্চলের সমন্বয়কারী নুর আলম শেখ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে ইকো-ট্যুরিষ্ট ও জেলেদের রক্ষায় বঙ্গবন্ধুর চরে সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, জলসীমায় চোরাচালান রোধ, মোংলা ও পায়রা বন্দরগামী দেশি-বিদেশি জাহাজ এবং জেলেদের নিরাপত্তার দাবির বিষয়টি দিনকে দিন গুরুত্ব পাচ্ছে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে সমুদ্রগামী জেলেদের জীবনমান উন্নীত হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/29/1548761653873.jpg

বাগেরহাটের মোংলা কোষ্টগার্ড সদর দপ্তরের অপারেশন কর্মকর্তা লে. মো. বায়েজীদ জানান, বাংলাদেশ জলসীমায় চোরাচালান রোধ, মোংলা ও পায়রা বন্দরগামী দেশি-বিদেশি জাহাজসহ বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তায় সরকার সাগর বক্ষে জেগে ওঠা বঙ্গবন্ধু চরে কোষ্ট গার্ডের বেইজের নির্মাণ করতে যাচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, কোস্ট গার্ডের বেইজ নির্মাণ হলে মোংলা ও পায়রা বন্দরে দেশি ও বিদেশি জাহাজের নিরাপত্তার জন্য মনিটরিং সহজ হবে। জাহাজগুলো নজরদারির মধ্যে রাখার পাশাপাশি রাডারের মাধ্যমে এর গতিবিধিও ট্র্যাক করা যাবে। সমুদ্রগামী জাহাজ ও জেলেদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। 

আপনার মতামত লিখুন :

কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি-লঞ্চ সংর্ঘষ, রক্ষা পেল ৩০০ যাত্রী

কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি-লঞ্চ সংর্ঘষ, রক্ষা পেল ৩০০ যাত্রী
কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি-লঞ্চ সংর্ঘষ

মাদারীপুর শিবচরে রোববার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে লৌহজং টার্নিং-এ যাত্রী বোঝাই এমভি সুরভী ও এমভি আশিক দুটি লঞ্চের সঙ্গে ফেরির সংর্ঘষ হয়। এতে লঞ্চে থাকা ৫ জন যাত্রী আহত হন। তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান প্রায় ৩০০ যাত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লৌহজং টার্নিং-এ ডাম্ব ফেরি রায়পুরার সঙ্গে এমভি আশিক লঞ্চের ধাক্কা লাগে। ফেরির সঙ্গে লঞ্চের ধাক্কা লাগলে কিছু যাত্রীরা একে অন্যর উপর পড়ে যায়। এতে পাঁচজন যাত্রী আহত হন।

ডাম্ব ফেরির চালক মো: হারুন অর রশিদ জানান, শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে টার্নিং পয়েন্টে আসার কিছুক্ষণ পরই রং সাইড থেকে আসা একটি লঞ্চ আমার ফেরির পিছনের অংশে ধাক্কা খায় এতে লঞ্চটির সামান্য ক্ষতি হয়। এর কিছুক্ষণ পর আবার একটু সামনে আসলে এমভি সুরভী নামের আরেকটি লঞ্চ আমার ফেরি ডান দিক থেকে বাম দিকে ক্রসিং করতে গেলে আবার ধাক্কা লাগে। কিন্তু লঞ্চ দুটোই অক্ষতভাবে যাত্রী নিয়ে আবার শিমুলিয়া প্রান্তে পৌঁছে যায়।

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ি ঘাটের ব্যবস্থাপক আবদুস সালাম বলেন, রাতে ফেরির সাথে দুটি লঞ্চের সংঘর্ষ হয় তবে কেউ মারাত্মক আহত হননি। বর্তমানে লঞ্চ দুইটি শিমুলিয়া ঘাটেই রয়েছে। দুইটি লঞ্চে মোট ৩০০ যাত্রী ছিলেন।

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে শিশু নাহিদ

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে শিশু নাহিদ
নাহিদুজ্জামান নাহিদ, ছবি: সংগৃহীত

সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মাসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হারিয়ে ভাগ্যগুণে বেঁচে যাওয়া তিন বছরের শিশু নাহিদুজ্জামান নাহিদ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। রাজধানী ঢাকার অ্যাপেলো হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন আছে শিশুটি। দুর্ঘটনায় আহত নাহিদের চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে। আগামী সোমবার (১৯ আগস্ট) তার সার্জারি অস্ত্রোপচার করবেন চিকিৎসকরা।

রোববার (১৮ আগস্ট) রাতে বার্তা২৪.কমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাহিদের চাচা নুরুজ্জামান।

নাহিদের বাড়ি নেত্রকোনার জেলার দূর্গাপুরে। তার বাবা রফিকুজ্জামান নরসিংদী জেলার একটি টেক্সটাইল মিলের মালিক।

গত ১৬ আগস্ট শুক্রবার নাহিদের পরিবার প্রাইভেটকারযোগে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ময়মনসিংহ কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের গাও রামগোপালপুর এলাকায় যাত্রীবাহী এমকে সুপার নামের একটি বাস ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটিকে চাপা দেয়। এ সময় প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে যায়।

আরও পড়ুন: গৌরীপুরে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫

দুর্ঘটনায় নাহিদের মা শাহীনা আক্তার বাবা রফিকুজ্জামান, বড় ভাই নাদিম মাহমুদ, বোন রওনক জাহান ও মামা জিসান কবীর আশরাফ প্রাণ হারান। ভাগ্যগুণে বেঁচে যায় শিশু নাহিদ ও চালক স্বপন মিয়া।

নাহিদ রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। চালক স্বপন মিয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অপরদিকে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো নাহিদের বাবা-মা, ভাই-বোন ও মামাকে শনিবার নেত্রকোনার দূর্গাপুরে দাফন করা হয়েছে। সব হারানো নাহিদ এখন তার দাদা-দাদির তত্ত্বাবধানেই থাকবে।

নাহিদের চাচা নুরুজ্জামান বলেন, ‘নাহিদ এখনো আইসিইউতে আছে। তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়েছে। এখনো জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসকরা বলেছেন আমাদের ধৈর্য ধরতে। সবাই আমাদের নাহিদের জন্য দোয়া করবেন।’


এদিকে, মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় শুক্রবার রাতে বাসের চালককে (অজ্ঞাতনামা) আসামি করে গৌরীপুর থানায় মামলা করেছেন রফিকুজ্জামানের ছোট ভাই নুরুজ্জামান। কিন্তু পুলিশ রোববার রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেননি।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র