Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বগুড়া অঞ্চলে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ কমেছে

বগুড়া অঞ্চলে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ কমেছে
বগুড়ায় গমের চাষ, ছবি: বার্তা২৪
গনেশ দাস
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মাঠে রকমারি ফসল শোভা পেলেও ইদানীং বগুড়ায় গমের ক্ষেত তেমন একটা চোখে পড়ে না। নানা কারণে গম চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন কৃষকেরা। শুধু বগুড়া নয়, আশেপাশের জেলাগুলোতেও গম চাষ দিনকে দিন কমছে। কৃষকেরা বলছেন, ইরি-বোরো চাষ বেড়ে যাওয়ায় গমের আবাদ কমে যাচ্ছে।

তবে, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে গমের ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেওয়ায় কৃষকেরা গম চাষ আর করতে চাচ্ছেন না। এভাবে বগুড়াসহ আশেপাশের চার জেলায় গত পাঁচ বছরে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ কমেছে। এতে উৎপাদনও কমে এসেছে ৬২ হাজার মেট্রিক টন।

যেসব এলাকায় এক সময় প্রচুর গম চাষ হতো সেসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষক গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। সেসব জমিতে এখন আলু, বেগুন, কপি, সিম আর টমেটোর চাষাবাদ। শীতকালীন এসব সবজি এখন অনেক লাভজনক কৃষকের কাছে।

শিবগঞ্জ উপজেলার গনেশপুর গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন জানান, পাঁচ বছর আগেও তিনি ৩-৪ বিঘা জমিতে গম চাষ করতেন। সেখানে এবার চাষ করেছেন মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে। আশেপাশের জমিতে ইরি-বোরো চাষ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। ইরি ধানের সেচের পানি গমের জমিতে প্রবেশ করায় এবং গমের জমিতে ইঁদুরের উৎপাত হওয়ায় এর চাষ অলাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে।

তবে বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট থানার চরাঞ্চলে এখনও চোখে পড়ার মত গম চাষ হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর চরের জমিতে পলি থাকায় তাদের জন্য গম চাষ লাভজনক। এছাড়া, চরের জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ না হওয়ায় জমি ফেলে না রেখে গম চাষ করে থাকেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ বছরে বগুড়া, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলায় ২০ হাজার ১১৪ হেক্টর জমিতে গম চাষ কমে এসেছে। এরমধ্যে ২০১৫ সালে আবাদ হয়েছে ৫৫ হাজার ৮৪৭ হেক্টর জমিতে। ২০১৬ সালে ৫১ হাজার ১৩২ হেক্টরে, ২০১৭ সালে ৪৪ হাজার ৪৪০ হেক্টরে, ২০১৮ সালে ৩৫ হাজার ৬৫১ হেক্টরে এবং চলতি মৌসুমে গমের আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার ৭৩৩ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে চার জেলায় গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৯ হাজার ৫৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে। এবার আবাদ হয়েছে ৩৮ হাজার ২৩৮ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে গম চাষ কম হয়েছে।

তবে এ মৌসুমে বগুড়া ও জয়পুরহাটে গম চাষ সামান্য বেড়েছে। অন্যদিকে, সবচেয়ে বেশি গমের আবাদ হতো পাবনা ও সিরাজগঞ্জে, কিন্তু এ বছর এই দুই জেলায় গমের আবাদ একেবারেই কমে গেছে। ২০১৫ সালে পাবনায় গম চাষ হয়েছিল ৪৩ হাজার ৩২২ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে আবাদ হয়েছে ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে এ জেলায় গম চাষের পরিমাণ কমে গেছে ১৫ হাজার ৮২২ হেক্টর জমিতে। একইভাবে, ২০১৫ সালে সিরাজগঞ্জে গমের আবাদ হয়েছিল ৮ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে। এ জেলাতেও ৫ বছরের ব্যবধানে গম চাষের পরিমাণ কমে গেছে ২ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মতিয়ার রহমান বলেন, গত কয়েক বছর যাবৎ আবহাওয়ার বৈরিতার কারণে অর্থাৎ গম চাষের মৌসুমে অতিরিক্ত ঘন কুয়াশার কারণে গমের জমিতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়। এতে অনেক কৃষকই ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার পর থেকে এ অঞ্চলে গম চাষ সার্বিকভাবে কিছুটা কমে এসেছে। তাছাড়া কৃষকরা মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, কপি ইত্যাদি লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়াও গম চাষ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

আপনার মতামত লিখুন :

বগুড়ায় আমন চাষের ধুম পড়েছে

বগুড়ায় আমন চাষের ধুম পড়েছে
জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কৃষক ঘরে বসে নেই, চলছে আমনের চারা রোপণ/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতের পর বগুড়ায় আমন চাষের ধুম পড়েছে। জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কৃষক ঘরে বসে নেই। একদিকে চলছে জমি চাষ অন্যদিকে চলছে চারা রোপণের কাজ। চারা এবং শ্রমিকের মূল্য কম থাকায় কেউ জমি ফেলে রাখছেন না। বোরো চাষের লোকসান আমন চাষের পুষিয়ে নেয়ার জন্যই কৃষকের এই উদ্যোগ। তবে এবার বন্যার কারণে বগুড়া জেলার পূর্ব অঞ্চলের সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় আমন চাষ দেরিতে শুরু হবে।

বগুড়া জেলার অধিকাংশ জমি তিন ফসলি। এ কারণে কৃষক বোরো ধান ঘরে তোলার পর এক থেকে দেড় মাস জমি ফেলে রাখে। আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি থেকে আমন চাষ শুরু করেন। কিন্তু এবার আষাঢ় মাসে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেকেই আগাম চাষের জন্য সেচ মেশিনের পানি দিয়ে আমন চাষ শুরু করেন।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, আমন চাষের মৌসুম পহেলা শ্রাবণ থেকে শুরু হয়। কিন্তু  আলু চাষের কারণে বগুড়া অঞ্চলের কৃষক ১৫-২০দিন আগে থেকেই আমন চাষের প্রস্তুতি নেন। এবার আষাঢ় মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আগাম আমন চাষ করতে পারেন নি। তবে মৌসুমের শুরুতেই ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষক ঘরে বসে নেই।

গাবতলী উপজেলার খলিশাকুড়ি গ্রামের শাহিন ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, তিনি পেশায় গৃহ নির্মাণ শ্রমিক। অন্যের জমি পত্তন নিয়ে তিনি চাষাবাদ করেন। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে থাকায় শ্রমিক না নিয়ে নিজেই আমন চারা রোপণ করছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563539343944.gif

শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির বার্তা টোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, এবার আমন চাষে খরচ তেমন হবে না।জমিতে পর্যাপ্ত পানি এবং ঘরের বীজ রয়েছে। শুধু চারা রোপণের শ্রমিক এবং জমি চাষের খরচ। পাওযার টিলার দিয়ে এক বিঘা জমি চাষ করতে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ হয়। এবার শ্রমিকের দাম কম রয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোন জমি ফাঁকা নেই, কেউ চাষ করছেন আবার কেউ চারা রোপণ করছেন। নন্দীগ্রাম উপজেলার রিধইল গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বোরো চাষ করে লোকসান হয়েছে। দাম কম থাকায় এখনও ধান বিক্রি করা হযনি। লোকসান পুষিয়ে নেয়ার জন্য এবার ১৭ বিঘা জমিতে আমন ধানের চারা রোপণের কাজ শুরু করেছি। আমন ধান ঘরে তোলার পর একই জমিতে আলু চাষ করবো।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পহেলা শ্রাবণ থেকে আমন চাষ শুরু করা হয় এবং তা চলে ভাদ্র মাসের ১ম সপ্তাহ পর্যন্ত। এছাড়াও বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর চরে আশ্বিন মাস পর্যন্ত গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু বন্যার কারণে এবার চরাঞ্চলের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আমন মৌসুমে জেলার ১২ উপজেলায় এক লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

 

নুসরাতের সেই মাদরাসায় সিসি ক্যামেরা

নুসরাতের সেই মাদরাসায় সিসি ক্যামেরা
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসায় ১০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখতেই মাদরাসার বিভিন্ন স্থানে এসব ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকালে মাদরাসাটি সম্পূর্ণ সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে আনার কাজ শেষ হয়।

এই মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। তারপর থেকেই আলোচিত হয়ে ওঠে মাদরাসাটি। তবে সিসি ক্যামেরার স্থাপনের কারণে মাদরাসায় যেকোনো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা।

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ হোছাইন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, গভর্নিং বডির সর্বসম্মতিক্রমে মাদরাসা পুরোপুরি সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। আশা করি, এবার কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে প্রমাণ হিসেবে সিসিটিভিতে রেকর্ড থাকবে, কেউ অপরাধ করেও পার পাবে না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র