Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

নয় বছর ধরে বন্ধ তিনটি ছাত্রাবাস

নয় বছর ধরে বন্ধ তিনটি ছাত্রাবাস
বন্ধ হয়ে থাকা ছাত্রাবাস, ছবি - বার্তা ২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজনৈতিক সহিংসতার আশংকায় বিগত নয় বছর যাবৎ বন্ধ হয়ে থাকা বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের তিনটি ছাত্রাবাস চালু করা হচ্ছে না। ফলে গরীব ও মেধাবী ছাত্রদেরকে অধিক ভাড়া দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

বন্ধ হয়ে থাকা তিনটি ছাত্রাবাসের মধ্যে ইতোমধ্যেই একটি ছাত্রাবাসের দরজা জানালা পর্যন্ত চুরি হয়ে গেছে। ফলে ছাত্রাবাসটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে। বন্ধ থাকা ছাত্রাবাসগুলো সংস্কার কাজ শুরু করা হলেও চালু করা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সাধারন ছাত্ররা।

সাধারন ছাত্ররা বলছেন, কলেজ প্রশাসন রাজনৈতিক সহিংসতার আশংকায় ছাত্রাবাসগুলো চালু করবে না। বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সরকারি আজিজুল হক কলেজে (নতুন ভবন) বিভিন্ন বিভাগে প্রায় ৩০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী লেখা পড়া করে। সেখানে ছেলেদের ২৪০ জনের জন্য তিনটি এবং মেয়েদের ২০০ জনের জন্য ২টি হল রয়েছে। তার মধ্যে ছেলেদের তিনটি হল গত ৯ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/07/1549493538389.jpg

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৯ সালের শুরু থেকেই ছাত্রাবাসের দখল নিয়ে ছাত্রলীগের সাথে ছাত্রশিবিরের মাঝে মধ্যে সংর্ঘষ শুরু হয়। মার্চ মাসে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ ছাত্রাবাস তিনটি তাদের দখলে নেয়। এরপর থেকে ছাত্রশিবির পুনরায় ছাত্রাবাস তাদের দখলে নেয়া চেষ্টা করলে একই বছরের ২০ ডিসেম্বর কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রাবাস তিনটি আনুষ্ঠানিক ভাবে বন্ধ ঘোষনা করে।

তিনটি ছাত্রাবাসের মধ্যে একতলা বিশিষ্ট শেরেবাংলা ছাত্রাবাসটির জানালা দরজা পর্যন্ত চুরি হতে শুরু করে। অপর ২টি ছাত্রাবাস শহীদ তিতুমীর ও শহীদ আকতার আলী মুন ছাত্রাবাস থেকেও আসবাবপত্র বিভিন্ন কৌশলে চুরি হয়। এভাবে বছরের পর বছর কেটে গেলেও ছাত্রাবাসগুলো চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয় সহিংসতার আশংকায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/07/1549493559597.jpg

কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবী সংস্কার ও আসবাবপত্রের অভাবে ছাত্রাবাসগুলো চালু করা যাচ্ছে না। কিন্তু সাধারন ছাত্ররা বলছেন ভিন্ন কথা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্র এবং শিক্ষকরা জানিয়েছেন, কলেজের নিয়ম অনুযায়ী ছাত্রদের মাঝে সিট বরাদ্দ দেয়া হলে ছাত্র শিবিরের অধিকাংশ ছেলেরা বরাদ্দ পেয়ে যাবে। আর তখনই আবারো শুরু হবে রাজনৈতিক সহিংসতা। সহিংসতা এড়াতেই কৃর্তপক্ষ ছাত্রাবাস চালুর বিষয়ে অনাগ্রহ দেখায়।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র রবিউল ইসলাম বার্তা২৪ কে জানান, ছাত্রাবাসগুলো বন্ধ থাকায় তাদেরকে বাহিরে অধিক ভাড়া দিয়ে বসবাস করে লেখাপড়া করতে হচ্ছে। ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র শহিদুল ইসলাম বলেন, গরিব এবং মেধাবী ছাত্ররা কলেজের ছাত্রাবাসে বসবাস করতে পারলে তাদের পরিবারের উপর অর্থনৈতিক চাপ অনেকটা কমে যেত।

এদিকে শেরেবাংলা ছাত্রবাসের জানালা দরজা না থাকায় সেটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে অনেকদিন আগেই। অপর দুইটি ছাত্রবাস চালু করার জন্য ইতিমধ্যে সংস্কার কাজ চলছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, শহীদ তিতুমীর ছাত্রাবাস ২১ লাখ ২৪ হাজার এবং আকতার আলী মুন ছাত্রাবাস ২১ লাখ ৫০ টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে। ২০১৬ সালেও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ছাত্রাবাস ২টি সংস্কার করেছিল। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রাবাস ২টি চালু করেননি।

ছাত্রাবাস দুইটি চালু করার ব্যাপারে শহীদ তিতুমীর ছাত্রাবাসের সুপার ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক শফি মাহমুদ বার্তা২৪ কে বলেন সংস্কার কাজ শেষ হলে ছাত্রাবাস চালু করার উদ্যোগ নেয়া হবে। তবে আসবাবপত্র না থাকায় চালু করতে আরো কিছুদিন সময় লাগতে পারে।

এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ছাত্রাবাসগুলো চালু এবং নতুন ছাত্রাবাস নির্মান ছাড়াও বিভিন্ন দাবীতে বুধবার (০৬ ফেব্রুয়ারী) কলেজ ক্যাম্পাসে মিছিল সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন কলেজ শাখার নেতাকর্মীরা। তারা অবিলম্বে সেমিনার ও লাইব্রেরীতে পর্যাপ্ত বই এর ব্যবস্থা এবং ছাত্র অনুপাতে শিক্ষক বৃদ্ধির দাবী জানান।

জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নাদিম মাহমুদ বার্তা২৪ কে বলেন উপরোক্ত দাবী ছাড়াও কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষনা ও ভোটার তালিকা তৈরীর দাবীতে ছাত্র ইউনিয়নের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :

কেরামত আলী ফেরিতে আগুন

কেরামত আলী ফেরিতে আগুন
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরি ঘাট/ ফাইল ছবি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া অভিমুখী একটি ফেরির ইঞ্জিনের সাইলেন্সার পাইপে আগুন ধরে যাওয়ায় ফেরিটি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) রাত ৯টার দিকে ফেরিটি পাটুরিয়া ফেরিঘাট পন্টুনে এসে পৌঁছায়।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়া কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মহিউদ্দিন রাসেল বলেন, ‘কেরামত আলী ফেরি ছোট বড় ২০টি যাত্রীবাহী গাড়ি নিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

প্রবল স্রোতের বিপরীতে ফেরিটি দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর দৌলতদিয়া ঘাটের কাছে যায়। কিন্তু দৌলতদিয়া ঘাটের কাছে নদীতে স্রোত বেশি থাকায় ফেরিটি বার বার চেষ্টা করেও ঘাটে ভিড়তে পারেনি।

স্রোতের বিপরীতে দফায় দফায় চেষ্টা করার কারণে এক পর্যায়ে ফেরিটির ইঞ্জিনের সাইলেন্সার পাইপে আগুন ধরে যায়। ইঞ্জিন দুর্বল থাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

তবে এতে ফেরির বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। ফেরিতে থাকা গাড়ি বা যাত্রীদেরও কোনো ক্ষতি হয়নি। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফেরিটি দৌলতদিয়া থেকে রাতেই পাটুরিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

ফেরিতে থাকা গাড়ি ও যাত্রীদের অন্য ফেরিতে নিরাপদে দৌলতদিয়া ঘাটে পাঠানোর সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান মহিউদ্দিন রাসেল।

এদিকে ফেরির যাত্রীরা মোবাইল ফোনে কিংবা মেসেঞ্জারে ফেরিতে আগুন ধরার খবর তাদের পরিবার ও স্বজনদের জানালে মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে। এতে খুবই চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে যাত্রীদের পরিবার।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম আজমল হোসেন বলেন, ‘তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি পারাপারে সময় লাগছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ। ফলে বিপুল সংখ্যক গাড়ি পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি পারের অপেক্ষায় আছে।’

ভাসমান কারখানার নির্বাহী প্রকৌশলী স্বদেশ প্রসাদ মণ্ডল বলেন, ‘পাটুরিয়া দৌলতদিয়া নৌপথে যে ফেরিগুলো আছে তার অধিকাংশই পুরাতন। স্রোতের বিপরীতে চলতে যেয়ে মাঝে মধ্যেই ফেরি বিকল হয়ে পড়ছে। ছোট ফেরি স্রোতের প্রতিকূলে চলতেই পারছে না। তবে ফেরি মেরামতে সাধ্যমত চেষ্টা করা হচ্ছে।’

পাটুরিয়া ঘাট পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আরাফাত রাসেল বলেন, ‘নদীতে তীব্র স্রোত ও ফেরি সংকটে ফেরি চলাচল ব্যহত হচ্ছে। পানি বাড়ার ফলে পন্টুন ডুবে যাচ্ছে। এ কারণে প্রতিদিনই পন্টুন সরিয়ে উপরে উঠানো হচ্ছে।’

পঞ্চগড়ে মাতৃত্বকালীন ভাতা উত্তোলনে ভোগান্তি

পঞ্চগড়ে মাতৃত্বকালীন ভাতা উত্তোলনে ভোগান্তি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

পঞ্চগড়ে দুস্থ গর্ভবতী নারীদের মাতৃত্বকালীন ভাতা দিচ্ছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। কিন্তু এই ভাতা নিতে এসে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় গর্ভবতী নারীদের। সোনালী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় মাতৃকালীন ভাতা নিতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাদের।

মাত্র একজন কর্মকর্তা দিয়ে দেড় হাজার দুস্থ নারীকে এই ভাতা দেওয়া হয়। ফলে ভাতা বিতরণ প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয় গর্ভবতীদের।

বৃহস্পতিবার (১৮জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, ভাতা উত্তোলন করতে আসা নারীদের দীর্ঘ লাইন, ভাতা বিতরণেও ধীর গতি। লাইনে থাকা বেশিরভাগ নারীই সন্তান প্রসবের শেষ সময়ের দিকে। ফলে ভাতার অপেক্ষায় নাজেহাল অবস্থা তাদের। প্রচণ্ড গরমে অনেকেই অসুস্থপ্রায়!

Panchagar

মাতৃত্বকালীন ভাতা নিতে আসা সদর উপজেলার জগদল এলাকার সেলিনা পারভিন বলেন, 'এক দিনে সব এলাকার মহিলাদের ভাতা প্রদান করায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ফলে বিপাকে পড়েছি আমরা।'

একই উপজেলার গোয়াঝাড় এলাকার মনিরা বেগম বলেন, 'মাত্র একজন দিয়ে ভাতার টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় দাঁড়িয়ে আছি আমি। আমাদের দাবি- সরকার যদি মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান সহজ করে তাহলে আমাদের দুর্ভোগ হবে না।’

পঞ্চগড় সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক এ কে এম মতিয়ার রহমান জানান, 'আমাদের জনবল সংকট ও অন্য কাজের চাপ থাকায় একজন অফিসার দিয়েই ভাতার টাকা বিতরণ করা হচ্ছে।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র