Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর বঞ্চিতদের হামলা

মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর বঞ্চিতদের হামলা
রাজশাহীতে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর দুই সমর্থক/ ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর দুর্গাপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছেন মনোনয়নবঞ্চিত নিজ দলীয় অন্য নেতার অনুসারীরা।

শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দুর্গাপুর বাজার সংলগ্ন সিংগাহাটে এ ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের তিন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় প্রতিপক্ষের মোটরসাইকেল ও সড়কে অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়।

আহতরা হলেন- মনোনয়ন পাওয়া নজরুল ইসলামের অনুসারী মাসুদ রানা, আবুল কালাম ও ইউসুফ আলী। তাদেরকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুরে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দুর্গাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ার খবর এলাকায় পৌঁছালে আনন্দ মিছিল বের করেন তার কর্মী-সমর্থকরা।

একই সময়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন মনোনয়নবঞ্চিত জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরদারের সমর্থকরা। তারা দুর্গাপুর বাজার সংলগ্ন সিংগাট এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

এক পর্যায়ে দুই পক্ষই উপজেলার প্রধান ব্রিজের কাছাকাছি পৌঁছালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা সড়কে যানবাহন ভাঙচুর চালান। এ সময় মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলামের সমর্থকরা পিছু হটেন। 

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকেনো সময় ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘দুই পক্ষ পাল্টা-পাল্টি মিছিল বের করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দু’পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’ অনকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

আপনার মতামত লিখুন :

বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার

বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার
লাইনে দাঁড়িয়ে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করছেন বন্যা কবলিত জনগণ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

বন্যায় গাইবান্ধা জেলার প্রায় চার লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের টিউবয়েলগুলো পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ফলে বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। বিশুদ্ধ পানির জন্য তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে হাহাকার।

ডেভিট কোম্পানিপাড়ার বাসিন্দা স্বপন মিয়া বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘এমনিতে আমাদের অন্নের সঙ্কট, সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব।’

এদিকে দূষিত পানির কারণে কারো যাতে ডায়রিয়া বা অন্য কোনো পানিবাহিত রোগ না হয়, সে জন্য কাজ করে যাচ্ছে ‘এভারগ্রিন জুম বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ ও ভলান্টিয়াররা প্লাবিত এলাকার মানুষদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। শুধু পানিই নয়, তারা দিচ্ছেন পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন, কার্বলিক এসিড, অ্যামোডিস ও প্যারাসিটামলসহ বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ সামগ্রী।

এরই মধ্যে জেলার গোদারহাট, পুলবন্দি, ফারাজিপাড়া ও কোটিপাড়া এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় এক হাজার ৩০০ পরিবারের মধ্যে এসব বিতরণ করেছে সংগঠনটি।

গাইবান্ধা শাখার এ সংগঠনের সমন্বয়ক মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন দাতদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং সংগঠনের অর্থ সমন্বয় করে বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে নিরাপদ পানিসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করে আসছি। দানশীল মানুষরা সহযোগিতা করলে এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।’

বন্যা: মশালের চরে তিন শতাধিক পরিবারের নৌকায় বসবাস

বন্যা: মশালের চরে তিন শতাধিক পরিবারের নৌকায় বসবাস
বন্যায় নৌকায় আশ্রয়, , ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দুই শিশু সন্তানসহ পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে নৌকায় সংসার পেতেছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মশালের চরের মরিয়ম বেগম (৪০)। ১২ দিন আগে বন্যার পানি বিছানা পর্যন্ত ওঠায় পরিবারের সদস্যরা মিলে নিজেদের মাছ ধরার ছোট ডিঙ্গি নৌকায় উঠেছেন। সেই থেকে নৌকাতেই কাটছে দিন-রাত। রান্না, খাওয়া এমনকি টয়লেটের কাজও সারতে হচ্ছে নৌকাতেই।

শুধু মরিয়মের পরিবারই নয়, তার মতো প্রায় তিন শতাধিক পরিবার ১২ দিন ধরে নৌকায় বাস করছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, নিকটবর্তী সব উঁচু বাঁধ ও উঁচু জায়গা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে ডুবে যাওয়া ঘর-বাড়ির পাশেই নৌকাতে বসবাস করছে এসব পরিবার। আর বন্যা দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। ঘরে সঞ্চিত শুকনা খড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্নাও হচ্ছে না ঠিক মতো। ফলে কোনও রকম একবার রান্না করে দিন পার করতে হচ্ছে সবাইকে।

জমিয়ে রাখা শুকনা খাবারও শেষ হয়ে গেছে। তবে কিছু পরিবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের মাধ্যমে সরকারি ত্রাণের আট-১০ কেজি চাল পেয়েছেন, যা অনেক পরিবারের ভাগ্যে জোটেনি। অন্যদিকে নৌকায় বসবাস করায় বন্ধ রয়েছে মাছ ধরা। ফলে বন্ধ আছে আয় রোজগারও। আর বিকল্প নৌকা না থাকায় বাজার থেকে শুকনো খড়ি বা শুকনা খাবার কিনতে যাওয়ার কোনও উপায় নেই।

আরও জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নৌকায় বসবাস করতে হওয়ায় শিশুরা ডায়রিয়া, জ্বরসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দ্রুত বন্যার পানি নেমে না গেলে খাওয়ার সমস্যাসহ রোগব্যাধিতে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

https
বন্যায় নৌকায় আশ্রয়, , ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

মশালের চরের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘নিকটবর্তী কোনও শুকনা জায়গা না থাকায় এই চরের লোকজন নৌকায় আশ্রয় নিয়েছেন। ডিঙ্গি নৌকায় সব সময় সাবধান না থাকলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। নৌকায় বসবাসকারী বেশির ভাগ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। যারা পাননি তারা পরবর্তী ত্রাণ সহায়তা এলে পাবেন।’

উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. বেলাল হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘এ ইউনিয়নে কমপক্ষে ছয়শ’ পরিবার ছোট নৌকায় উঠেছে। এর মধ্যে মশালের চরেরই রয়েছে তিন শতাধিক পরিবার। নৌকায় বসবাসকারী বেশির ভাগ পরিবার তাদের মাছ ধরার নৌকায় সংসার পেতেছেন। রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম সব নৌকাতেই। আর যাদের নৌকা নেই, তারা দূরবর্তী উঁচু জায়গা বা আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। পর্যাপ্ত সহায়তা না আসায় প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ত্রাণ দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র