Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বৈষম্যের শিকার বগুড়ার নারী শ্রমিকরা

বৈষম্যের শিকার বগুড়ার নারী শ্রমিকরা
আলু ক্ষেতে কর্মরত নারী শ্রমিকরা/ছবি: বার্তা২৪
গনেশ দাস
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমানে ইরি-বোরো ধান চাষের ভরা মৌসুম শুরু হওয়ার পাশাপাশি জমি থেকে আলু উত্তোলনের কাজ চলছে। এ কারণে বগুড়া অঞ্চলে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এ অবস্থাতেও বৈষম্যের শিকার বগুড়ার নারী শ্রমিকরা। 

জানা গেছে, একমাস আগেও কৃষি শ্রমিকরা কাজ না পেয়ে শহরে রিকশা চালাতে আসত। কিন্তু এক মাসের ব্যবধানে এখন ৫০০ টাকা মজুরির সঙ্গে দুই বেলা খাবার দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেকেই নারী শ্রমিকদের মাঠের কাজে ব্যবহার করছে।

বগুড়া সদরের তেলীহারা গ্রামের মাঠে আলু উত্তোলন করতে দেখা যায় একই গ্রামের মনোয়ারা, সাহেরা, বেলীর মতো অনেক নারী শ্রমিককে। তারা জানান, পুরুষ শ্রমিকের দাম বেশি হওয়ায় জমির মালিক তাদেরকে কাজে লাগিয়েছেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জমি থেকে আলু তুলে দিয়ে এই নারী শ্রমিকরা পাবেন প্রত্যেকে মাত্র ১৫০ টাকা।

এদিকে ওই নারী শ্রমিকদের পাশের জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণের জন্য জমি চাষ করছেন লাল মিয়া। তিনি জানান, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জমিতে কাজ করে মজুরি পাবেন ৪৫০ টাকা। এছাড়াও সকালে এবং দুপুরে জমি মালিকের বাড়িতে ভাত খাবেন।

নারী ও পুরুষ শ্রমিকের মধ্যে এই বৈষম্যের বিষয়ে কৃষক খয়বর আলী জানান, পুরুষের তুলনায় নারী শ্রমিকদের কাজের গতি কম। এছাড়াও যে সকল নারী বাড়িতে বসে সময় কাটায় তারাই মূলত মাঠে কাজ করে থাকে।

তিনি জানান, এই অঞ্চলে নারী শ্রমিকরা কৃষি জমিতে কঠোর পরিশ্রমের কাজ করেন না। যার কারণে তাদের মজুরিও কম দেয়া হয়।

বগুড়া সদরের মহিষবাথান গ্রামের মাঠে কাজ করা কয়েকজন নারী শ্রমিক জানান, তারা নিয়মিত মাঠে কাজ করেন না। বাড়ি সংলগ্ন জমিতে কাজ পেলে মাঝে মধ্যে কাজ করে থাকেন।

গোকুল গ্রামের কৃষক ফজর আলী জানান, এখন শ্রমিক সংকট চলছে। পুরুষ শ্রমিকের দাম অনেক বেশি। এদিকে বাজারে আলুর দাম তেমন নেই। এ কারণেই তারা নারী শ্রমিককে কম দামে কাজে লাগিয়ে পুষিয়ে নিতে চান।

জানা গেছে, বগুড়া শহরের নামাজগড়, কলোনি, ফতেহ আলী মোড় এলাকায় প্রতিদিন শ্রমজীবী মানুষে হাট বসে। এসব স্থানে কেউ আসেন নিজের কায়িক শ্রম বিক্রি করতে, আবার কেউ আসেন এসব মানুষের শ্রম কিনতে। একমাস আগেও প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে কাজ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে গেছেন। সেই মানুষগুলোকে এখন সকাল ৮টার পর আসলে আর দেখা যায় না। এ অবস্থা চলবে আরও এক মাস।

আপনার মতামত লিখুন :

ভুঞাপু‌রে কম‌তে শুরু ক‌রে‌ছে যমুনার পা‌নি

ভুঞাপু‌রে কম‌তে শুরু ক‌রে‌ছে যমুনার পা‌নি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

টাঙ্গাই‌লের ভুঞাপু‌র উপজেলায় যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার (১৯ জুলাই) বি‌কে‌লের পর থে‌কেই পানি কমতে দেখা যায়।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ভুঞাপুরে যমুনা নদীর পা‌নি দুই সে‌ন্টি‌মিটার ক‌মে বিপদসীমার ৯৭ সে‌ন্টি‌মিটার ওপর দি‌য়ে বইছে। অথচ দুপুরেও এই পয়েন্টে পা‌নি ‌বিপদসীমার ৯৯ সে‌ন্টি‌মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

Tangail Flood

টাঙ্গাইলের পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, বি‌কে‌লের পর থে‌কে যমুনা নদী‌তে কিছুটা পা‌নি হ্রাস পে‌য়ে‌ছে। ধারণা করা হচ্ছে, শ‌নিবার (২০ জুলাই) থে‌কে পা‌নি আরও কমবে।

আরও পড়ুন: ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক মেরামতে সেনাবাহিনী

ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে পরিবার আটক

ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে পরিবার আটক
গুজব ছড়িয়ে এক পরিবারের চার সদস্যকে আটক করে স্থানীয়রা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বগুড়ায় ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে প্রাইভেট কারসহ একটি পরিবারকে আটক করে স্থানীয় পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নেতৃত্বে এলাকাবাসী। এ সময় অল্পের জন্য গণপিটুনী থেকে রক্ষা পেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরতলীর সাবগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য সরোয়ার হোসেন প্রাইভেট কার যোগে স্ত্রী সন্তান নিয়ে সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীতে বন্যার পানি দেখতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে গাবতলী পৌর সভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহেল রানার মোটরসাইকেলের সাথে প্রাইভেট কারের ধাক্কা লাগে।

এ সময় প্রাইভেট কার থামাতে বললে চালক সরোয়ার হোসেন না থামিয়ে বগুড়া শহরের দিকে যেতে থাকেন। সোহেল রানা মোটরসাইকেল নিয়ে প্রাইভেট কারের পিছু ধাওয়া করেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রাইভেট কারটি সাবগ্রাম দ্বিত্বীয় বাইপাস মহাসড়কে যানজটে আটকা পড়লে সোহেল রানা ছেলে ধরা গুজব ছড়ান। এ সময় স্থানীয় জনগণ প্রাইভেট কারে দুই শিশু দেখে তাদেরকে আটক করে। মুহূর্তের মধ্যে ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে পড়লে শত-শত জনগণ তাদেরকে ঘেরাও করে।

সরোয়ার হোসেন এ সময় স্ত্রী সন্তান নিয়ে দৌড়ে একটি দোকান ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘থানায় আসার পর ভুল বোঝাবুঝির অবসান হলে সরোয়ার হোসেন স্ত্রী সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র