Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

গোলপাতা আহরণ মৌসুমে তেমন সাড়া নেই বাওয়ালীদের

গোলপাতা আহরণ মৌসুমে তেমন সাড়া নেই বাওয়ালীদের
গোলপাতা আহরণ, ছবি: বার্তা২৪
আবু হোসাইন সুমন
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বাগেরহাট


  • Font increase
  • Font Decrease

সুন্দরবনে চলতি গোলপাতা আহরণ মৌসুমে তেমন সাড়া মিলছে না বাওয়ালীদের। বনবিভাগের কড়াকড়ি আরোপ ও তুলনামূলকভাবে গোলপাতার চেয়ে টিনের দাম কম হওয়াতে দিনকে দিন এর ব্যবহার কমছে। তারপরও জীবিকার তাগিদে পুরানো পেশা টিকিয়ে রাখতে ও নিতান্তই দরিদ্র মানুষের চাহিদা মেটাতে সংশ্লিষ্ট মহাজন-বাওয়ালীরা তাদের ব্যবসা ধরে রেখেছেন।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল হাসান ও চাদপাই রেঞ্জ’র সহকারী বন সংরক্ষক মো: শাহিন কবির জানান, পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে শরণখোলা, চাদপাই ও শ্যালা নামক তিনটি গোলপাতা কূপ রয়েছে। এর মধ্যে অভয়ারণ্য ঘোষিত শরণখোলা গোলপাতা কূপে গত তিন বছর ধরে গোলপাতা আহরণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। শরণখোলার ৯৫ ভাগ এলাকাই অভয়ারণ্য হওয়ায় সেখানে মাছ ও গোলপাতাসহ সকল ধরণের বনজ সম্পদ আহরণে সরকারের পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/11/1549882819085.jpg

এছাড়া অপর দুই কূপ শ্যালা ও চাদপাই থেকে গোলপাতা আহরণের জন্য ২৮ ফেব্রুয়ারি হতে বাওয়ালীদের পাস পারমিট দেয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে শুধু শ্যালা কূপের পাতা আহরণের জন্য পাস দেয়া হচ্ছে। এ কূপের আহরণ শেষ হওয়ার পর চলতি মাসের শেষ দিকে চাদপাই কূপের পাস দেয়া হবে। এ পর্যন্ত শ্যালা কূপে ৪১টি নৌকার পাস দেয়া হয়েছে। যারা প্রতিদিন সেখান থেকে পাস অনুযায়ী নৌকা প্রতি ৫০০ মণ গোলপাতা কেটে বোঝাই করছেন। বনবিভাগের হিসেব মতে গত মৌসুমে এই দুই কূপ থেকে প্রায় ৪০ হাজার মণ গোলপাতা আহরণ হয়েছিল। এবারও বনবিভাগের আহরণ লক্ষ্যমাত্রা ৪০ হাজার মণেই রয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/11/1549882903740.jpg

মুলত নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সুন্দরবনে গোলপাতা আহরণ মৌসুম। কিন্তু নানা কারণে চলতি মৌসুমে বাওয়ালীরা বেশ দেরিতেই শুরু করেছেন গোলপাতা কাটার কাজ। বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মাদ্রাসা রোডের গোলপাতা ব্যবসায়ী ইমন হোসেন, কুমারখালীর শাহজাহান ও মাকড়ঢোনের আবুল মৃধা বলেন, গোলের ব্যবসার জন্য বাওয়ালীদের প্রচুর টাকা দাদন দিতে হয়। দাদন নিয়েও তারা বন থেকে কেটে আনা গোল ঠিকমত আড়তে দেন না, পথে চুরি করে বিক্রি করে নিজের পকেট ভারি করেন। এছাড়া বাওয়ালীরা সুন্দর-সুশৃঙ্খলভাবে পাতা না কেটে দায়সারাভাবে কাটায় সেগুলোর বাজারে তেমন চাহিদাও থাকে না। যা ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত হওয়ার অন্যতম কারণ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/11/1549882836922.jpg

এ সকল ব্যবসায়ীরা আরো বলেন, আগে গোলপাতা বহনকারী নৌকার দুই পাশে ঝুল (ভারসম্য) হিসেবে বনের বিভিন্ন ধরণের গাছ কেটে আনা হতো। কিন্তু এখন সেগুলো কাটা নিষিদ্ধ করায় দেশীয় গাছ নিয়ে ঝুল হিসেবে ব্যবহার করায় খরচও বাড়ছে ব্যবসায়ীদের। এসব কারণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় এখন মংলা শহরে হাতে গোনা দুই একজন আড়তদার তাদের ব্যবসা ধরে রেখেছেন মাত্র।

চাদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: শাহিন কবির বলেন, আগে বড় বড় নৌকা নিয়ে এসে বাওয়ালীরা তাদের পাস পারমিট ছাড়া অতিরিক্ত গোলপাতা কেটে নিতেন। এতে তারা অধিক লাভবান হলেও বনবিভাগ প্রকৃত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতো। যার ফলে গত বছর থেকে বড় নৌকা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ১৪ মিটার দৈর্ঘ্যের নৌকার ব্যবহার ও বনের কোন ধরনের গাছ না কেটে দেশীয় গাঠ/কাঠ দিয়ে নৌকার ঝুল ব্যবহারের কড়াকড়ি নিয়ম করায় বাওয়ালীদের সংখ্যা এবার কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/11/1549882857576.jpg

এছাড়া বাওয়ালী কমার অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা বড় নৌকা ব্যবহার করে আসছিল। বড় নৌকার ব্যবহার বন্ধ করায় অনেকে ছোট নৌকা সংগ্রহ করতে না পারায় বাওয়ালী নৌকার সংখ্যা গতবারের তুলনায় এবার কম। যারা আগেভাগে এসেছে তারা তাদের বড় নৌকা কেটে ছোট করে নিয়ে এসেছে।

এদিকে চলতি মৌসুমে গোলপাতা আহরণে বাওয়ালী/নৌকা কম হওয়ার কারণ হিসেবে পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো: মাহমুদুল হাসান বলেন, তুলনামুলকভাবে গোলপাতার চেয়ে টিনের দাম কম। দুই বছর পর গোলপাতা পাল্টাতে হয় আর টিনের ব্যবহার দীর্ঘস্থায়ী হওয়াটাই অন্যতম একটা কারণ। তিনি আরো বলেন, আগে ঘরবাড়ীতে গোলের ব্যবহার হতো, এখন উঠে গেছেই বললেই চলে। শুধুমাত্র উপকূলের দরিদ্র শ্রেণির মানুষই এর ব্যবহার ধরে রেখেছেন। আর ধনীরা ব্যবহার করছেন চিংড়ি ঘেরগুলোর ঘরে।

আপনার মতামত লিখুন :

ফরিদপুরের বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি

ফরিদপুরের বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি
পানিতে তলিয়ে গেছে পদ্মার পাড়ের বাড়ি-ঘর, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে নদীর পানি। ফলে ফরিদপুরের বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুরে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর নিম্নঞ্চালের পানিবন্দি মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। পদ্মা পাড়ের মানুষ একরকম জন্মলগ্ন থেকেই পানির সাথে যুদ্ধ করে বেচেঁ আছেন। তবে কৃষি নির্ভর হওয়ায় কোনোরকম নিজেদের রক্ষা করলেও গবাদি পশু ও বিস্তৃর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী জেলার সদর উপজেলা, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায়ই ১৫ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563578899227.jpg

বন্যায় ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল, ডিগ্রিরচর, চরমাধবদিয়া ও আলিয়াবাদ এবং চরভদ্রাসন উপজেলার চরঝাউকান্দা, হাজিগঞ্জ, চরহরিরামপুর ও গাজিরটেক, সদরপুর উপজেলার চরনাছিরপুর, দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া, ঢেউখালী ও চরমানাইর ইউনিয়নের বসতবাড়ী, কয়েক হাজার একর বিস্তৃর্ণ ফসলী জমি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে।

এছাড়া সদরপুর উপজেলার ৪৪টি ও ভাঙ্গা উপজেলায় ১৪টিসহ মোট ৫৮টি বসত ভিটা গত দুদিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান মোস্তাক জানান, পানিতে তার ইউনিয়নের ৩০০ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে কৃষকরা মারত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এছাড়া আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অনেকেই গরু পালন করেছে তারাও তাদের গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, পানি বেড়েই চলছে। ফলে ভাঙনও বেড়েছে। আমরা প্রবল ভাঙন কবলিত এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে কাজ করছি।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, ‘গত তিনদিনে তিন উপজেলায় ৪০ মেট্রিকটন চালের পাশাপাশি শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। আশা করি সকলের সহযোগিতায় আপদকালীন সময় মোকাবিলা করতে পারব।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোখসানা রহমান জানান, ফরিদপুর এখনো বন্যা দুর্গত জেলায় পরিণত হয়নি। যেসব এলাকায় পানির তীব্রতা বেশি সেসব এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।

ফেনীতে বিএনপির ৮ নেতা আটক

ফেনীতে বিএনপির ৮ নেতা আটক
ছবি: সংগৃহীত

ফেনী জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক গাজী হাবিব উল্যাহ মানিকসহ দলের অঙ্গ সংগঠনের আট নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাতে শহরের মিজান পাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃত বাকিদের মধ্যে জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন জসিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, ফেনী পৌর যুবদলের সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন বাবরের পরিচয় জানা গেছে। আর বাকি চারজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন তাদেরকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র