Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হাত হারানো শাহাকুলের হার না মানার গল্প

হাত হারানো শাহাকুলের হার না মানার গল্প
হাত হারানো শাহাকুলের হার না মানার গল্প। ছবি: বার্তা২৪.কম
মাজেদুল হক মানিক
 ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
মেহেরপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতিবন্ধী মানেই অন্যের গলগ্রহ হয়ে বেঁচে থাকা নয়, পরিবার কিংবা সমাজের বোঝাও নয়। আত্মসম্মান জলাঞ্জলি দিয়ে দান-দক্ষিণার জন্য অন্যের দুয়ারে দুয়ারে ছুটে চলা স্বাভাবিক পন্থা। কিন্তু এর ব্যতিক্রম কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করে অনেকেই এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। তাদেরই একজন মেহেরপুর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের শাহাকুল ইসলাম।

আত্মমর্যাদা বোধ থেকেই ভিক্ষাবৃত্তি ও পরনির্ভরশীলতার বিপরীতে স্রোতের যাত্রী তিনি। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ দুটি হাত হারালেও আত্মশক্তিতে বলীয়ান। একটি ছাগলের খামার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে রোজগারের রাস্তা তৈরি করেছেন। এ যেন দরিদ্রতার বিরুদ্ধে যুদ্ধের এক আলোক মশাল।

জীবনের চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েও হার মানেননি শাহাকুল। একমাত্র মানসিক শক্তি দিয়েই প্রতিকূলতা জয় করার চেষ্টা করছেন। শোনালেন জীবনের চরম বাস্তব দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/11/1549886376690.jpg

শাহাকুল ইসলাম জানান, তার বয়স যখন ১১ বছর, তখন মাঠে ছাগল চরাতে গিয়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির স্পর্শে বিদ্যুতায়িত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাতের বিভিন্ন অংশে পচন ধরে। এ সময় তার দুই হাতই কেটে ফেলতে হয়। চিকিৎসার জন্য পরিবারকে গুনতে হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। অভাবের সংসারে আদরের শিশু ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার সাগরে হাবুডুবু খেতে থাকে বাবা জামাত আলী আর মা বুলুজান খাতুন। তাদের কষ্টের কথা ভেবে অনেকেই শাহাকুলকে ভিক্ষাবৃত্তির পরামর্শ দেয়। কিন্তু বাঁধ সাধে আত্মমর্যাদাবোধ। না, ভিক্ষাবৃত্তি ভালো নয়, কারো অনুগ্রহ নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। বলছিলেন শাহাকুল।

তিনি আরও জানান, নদীর বাঁধ ভাঙা জোয়ারের মতোই একের পর এক সমস্যা সামনে এসে দাঁড়াচ্ছিল। ধারদেনা পরিশোধ তো দূরের কথা, সংসারের নিত্যকার খরচই জোগানের মতো অবস্থা ছিল না বাবা-মায়ের। আর দুই হাত হারানো শাহাকুলতো কাজ করতে পারবে না। তাকে কেউ কাজও দেবে না। তাই বলে কী আর থেমে থাকা যায়?

দরিদ্রতা ঘোচানোর চরম যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রতিবন্ধী শাহাকুল। পরিবারের শেষ সম্বল দিয়ে ৫টি ছাগল কেনেন। এখান থেকেই পরিবর্তনের যাত্রা শুরু। গ্রামের পার্শ্ববর্তী মাঠে ছাগল চরানোর পাশাপাশি তার সার্বক্ষণিক দেখভালের কাজ করেন তিনি। লালন-পালনের মধ্য দিয়ে বাড়তে থাকে ছাগলের সংখ্যা। কয়েক বছরের মধ্যেই ওই ছাগলের সংখ্যা বেড়ে একটি খামারে পরিণত হয়। ধরা দিতে থাকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ছাগল বিক্রির আয় দিয়েই চলতে থাকে সংসারের খরচ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/11/1549886402437.jpg

শাহাকুল জানান, কয়েক বছর আগে বিয়ে করেছেন তিনি। দাম্পত্য জীবনে এক সন্তানের জনক। বাবা-মা ও স্ত্রী সন্তান নিয়ে কোনো মতে সংসার চলে। তারপরেও শারীরিক এ অবস্থা নিয়ে আয়-রোজগার করতে পারা গর্বের ও প্রশান্তির।

হার না মানা এই প্রতিবন্ধীর স্ত্রী তারিফা খাতুন জানান, স্বামী অক্ষম হলেও তার কর্মে তিনি গর্বিত। বুঝে-শুনেই তার সঙ্গে সংসার পেতেছেন। ব্যক্তিগত ও সংসারের আবদার তেমন মেটাতে না পারলেও তাদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন এটাই বড় পাওয়া।

শাহাকুলের বাবা জামাত আলী জানান, ছাগল বিক্রির টাকা দিয়ে সংসার চলে তাদের। তাই সরকারি ভাবে ঋণ পেলে খামারটি বাড়াতে পারবেন।

গ্রামের দুলাল মিয়া জানান, প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়, এটি প্রমাণ করেছেন শাহাকুল। তার এ সাফল্যে গর্ববোধ করে এলাকাবাসী। এ ধরনের প্রতিবন্ধীদের সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতার দাবি করেন তিনি।

সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আশরাফুর জানান, প্রতিবন্ধীরা যাতে পরনির্ভরশীল না থাকে সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। যারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায় তাদের ঋণ সহযোগিতার মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রতারণা: নাইজেরিয়ান নাগরিক জেমস ২ দিনের রিমান্ডে

প্রতারণা: নাইজেরিয়ান নাগরিক জেমস ২ দিনের রিমান্ডে
নাইজেরিয়ান নাগরিক জিম ওরফে জেমস। ছবি: সংগৃহীত

নাটোরে ফেসবুক বন্ধুর কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার সময় গ্রেফতারকৃত নাইজেরিয়ান নাগরিক জিম ওরফে জেমসের বিরুদ্ধে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মামুনুর রশীদ এ আবেদন মঞ্জুর করেন।

এর আগে নাটোর ডিবি পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক লিটন কুমার সাহা গ্রেফতারকৃত জেমসের বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ৪ জুলাই শহরের চকরামপুর এলাকা থেকে প্রতারণাকালে জেমসকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত জেমস নাইজেরিয়ার বেনিন শহরের ইয়ারীর ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেমস নামে ওই নাইজেরিয়ান নাগরিক গুরুদাসপুর উপজেলার পুরুলিয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক দেলোয়ার জাহানের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে বিভিন্নভাবে শিক্ষক দেলোয়ারকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া এবং ব্যবসা করে অনেক টাকা লাভের লোভ দেখান। এভাবে দেলোয়ার জাহানের কাছ থেকে ২ লাখ ৯২ টাকা হাতিয়ে নেন জেমস। এরই এক পর্যায়ে জেমস পুনরায় তার কাছে আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ হলে নাটোরের গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে বিষয়টি জানান দেলোয়ার জাহান। গত ৪ জুলাই সকালে শহরের চকরামপুর এলাকা থেকে জেমসকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও একটি ভিসার কাগজ পাওয়া যায়।

নাটোর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈকত দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পাটুরিয়া ঘাটে দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি

পাটুরিয়া ঘাটে দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত বইছে। নৌরুটে দেখা দিয়েছে ফেরির স্বল্পতা। এ অবস্থায় ধীর গতিতে চলছে পারাপার। ফলে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি।

পারাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের। জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক, বাস ও ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি পারাপারে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পণ্যবাহী ট্রাকের চালকেরা।

নৌরুট পারাপারের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের এসব ভোগান্তি নিত্যদিনের। তবে খুব সহসাই এর থেকে তাদের রেহাই মিলছে না বলে জানায় ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের ব্যবস্থাপক সালাউদ্দিন হোসেন জানান, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকালে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ৩ শতাধিক গাড়ি অপেক্ষামান ছিল। এসবের বেশির ভাগই পণ্যবাহী ট্রাক।

Paruria Ghat

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের এজিএম জিল্লুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করায় প্রচণ্ড স্রোত রয়েছে। একারণে ফেরি চলাচলে সময় লাগছে আগের চেয়ে বেশি। এছাড়াও নৌরুটে থাকা ছোট একটি ফেরি মেরামতে রয়েছে। বাকি ১৪টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে যানবাহন পারাপার কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি জানান, মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে চারটি এবং মাওয়া ঘাটে একটি ফেরি রয়েছে। ঈদের আগেই মেরামত সম্পন্ন হয়ে নৌরুটে যুক্ত হবে ওই ফেরিগুলো। এর আগ পর্যন্ত পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যানবাহনের বাড়তি চাপ পড়লে পারাপারে কিছুটা সময় অপেক্ষামান থাকতে হতে পারে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র