Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সাতছড়ি উদ্যানে ছড়িয়েছে ভালোবাসার সুবাতাস

সাতছড়ি উদ্যানে ছড়িয়েছে ভালোবাসার সুবাতাস
সাতছড়ি উদ্যানে ঘুরতে এসে সেলফিতে ব্যস্ত দর্শনার্থীরা / ছবি: বার্তা২৪
কাজল সরকার
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
হবিগঞ্জ
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। ভালোবাসা হতে পারে প্রেমিকার সঙ্গে, পিতা-মাতা, ভাই-বোন, বন্ধুর সঙ্গে, প্রকৃতির সঙ্গে অথবা সৃষ্টিকর্তার¯সঙ্গে। তবে ভালোবাসা দিবসটি প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য বিশেষ দিন হিসেবে পরিচিত। তাই দিনটি তাদের কাছে অন্যরকম এক অনুভূতির।

`তুমি এক বিন্দু ভালোবাসা দাও, আমি এক সিন্ধু হৃদয় দেব‘, অথবা `ভালোবেসে সখি নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো-তোমার মনের মন্দিরে‘ এ ধরনের ভালোবাসার গানগুলো কানে বাজলেই প্রেমিক-প্রেমিকাদের মন চায় নিজের প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে হারিয়ে যেতে এক অন্য দিগন্তে। নয়নে-নয়ন, আর হাতে-হাত রেখে বলতে চায় ‘হে প্রিয়, ভালোবাসি তোমায়’। আবার কখনো মন চায় একই রংঙের পোষাক পরে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে হারিয়ে যেতে প্রকৃতির মাঝে।

যান্ত্রিক জীবনে ভালোবাসার মানুষগুলোকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কতটাইবা সুযোগ হয়। সময়ের ক্ষণে ক্ষণে ব্যস্ততায় কাটে প্রতিটি মানুষের জীবন। তবে শত ব্যবস্ততার মাঝেও ভালোবাস দিবসে প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে ঘুরতে বের হতে মন চায়। তাইতো ভালোবাসা দিবসের এই দিনে প্রেমিক যুগলদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। আর উদ্যানের সৌন্দর্য, বণ্যাপ্রাণি ও পাখিদের কলকাকলিতে যেন পরিপূর্ণতা পেয়েছে ভালোবাসা দিবস।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/14/1550161404654.jpg

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত রঘুসুন্দর পাহাড়ের সাতটি ছড়া থেকে মূলত নামকরণ করা হয়েছে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের। ২০০৫ সালে ২৪৩ হেক্টরের এই বনাঞ্চলকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। শত বছরের পুরনো আকাশসম বৃক্ষ, বিভিন্ন প্রজাতির বানর ও বন্যপ্রাণী আর পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে এই উদ্যান।

উদ্যানটিতে ১৪৯ প্রজাতির পাখি, ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৬ প্রজাতির উভচর প্রাণি আছে। রয়েছে ২৪ পরিবারের ত্রিপুরা আদিবাসী গ্রাম।

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সাতছড়ি উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে উদ্যানের চারপাশ। প্রেমিক যুগলদের বিচরণে পূর্ণতা পেয়েছে উদ্যানের যৌন্দর্য। রঙ-বেরঙের পোষাক পরে ছুটে চলেছেন এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। মাথায় মাথা ঠেকিয়ে কিংবা কাঁধে হাত রেখে সেলফি তুলছেন প্রিয় মানুষটির সঙ্গে। শুধু প্রেমিক যুগলই নয়, পরিবার পরিজন নিয়েও অনেকে ঘুরতে গেছেন উদ্যানের ভেতরে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পিকনিক করতেও এসেছেন দর্শনার্থীরা। ভালোবাসা যে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকারই নয়, তার প্রমাণ দিয়েছে বন্ধুর কাঁধে কাঁধ রেখে তোলা যুবকদের সেলফিগুলো।

ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া থেকে নিজের সহধর্মিনীকে নিয়ে ঘুরতে আসা মঈনুল হাসান বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে বের হওয়ার সময় হয় না। তাই ভালোবাসা দিবসকেই বেচে নিয়েছি বের হওয়ার জন্য।'

 https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/14/1550162963360.jpg

তিনি আরও বলেন, `সাতছড়ি উদ্যানটি অনেক সুন্দর। এখানে এসে অনেক ভাল লেগেছে।'

প্রেমিককে নিয়ে ঘুরতে আসা চুনারুঘাটের রুবেল মিয়া বলেন, `ভালোবাসা শুধু প্রেমিক প্রেমিকার নয়। প্রকৃতির সঙ্গেও প্রেম করা যায়। তাই সাতছড়ি উদ্যানে প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে ঘুরতে আসলাম। এতে প্রকৃতির সঙ্গেও প্রেম করা হলো।'

সাতছড়ি রেঞ্জের রেঞ্জার মাহমুদ হোসেন জানান, এখানে পর্যটকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য পর্যটন পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি গাইড নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যারা গহীন অরণ্যে যেতে চায় তাদেরকে গাইডের মাধ্যমে যেতে হবে।

তিনি বলেন, `বিভিন্ন দিবসে পর্যটকদের সংখ্যা বেড়ে যায়। তখন আমাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। তবে আমরা চেষ্টা করি পর্যটকদের সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য।'

আপনার মতামত লিখুন :

ভুঞাপু‌রে কম‌তে শুরু ক‌রে‌ছে যমুনার পা‌নি

ভুঞাপু‌রে কম‌তে শুরু ক‌রে‌ছে যমুনার পা‌নি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

টাঙ্গাই‌লের ভুঞাপু‌র উপজেলায় যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার (১৯ জুলাই) বি‌কে‌লের পর থে‌কেই পানি কমতে দেখা যায়।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ভুঞাপুরে যমুনা নদীর পা‌নি দুই সে‌ন্টি‌মিটার ক‌মে বিপদসীমার ৯৭ সে‌ন্টি‌মিটার ওপর দি‌য়ে বইছে। অথচ দুপুরেও এই পয়েন্টে পা‌নি ‌বিপদসীমার ৯৯ সে‌ন্টি‌মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

Tangail Flood

টাঙ্গাইলের পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, বি‌কে‌লের পর থে‌কে যমুনা নদী‌তে কিছুটা পা‌নি হ্রাস পে‌য়ে‌ছে। ধারণা করা হচ্ছে, শ‌নিবার (২০ জুলাই) থে‌কে পা‌নি আরও কমবে।

আরও পড়ুন: ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক মেরামতে সেনাবাহিনী

ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে পরিবার আটক

ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে পরিবার আটক
গুজব ছড়িয়ে এক পরিবারের চার সদস্যকে আটক করে স্থানীয়রা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বগুড়ায় ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে প্রাইভেট কারসহ একটি পরিবারকে আটক করে স্থানীয় পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নেতৃত্বে এলাকাবাসী। এ সময় অল্পের জন্য গণপিটুনী থেকে রক্ষা পেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরতলীর সাবগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য সরোয়ার হোসেন প্রাইভেট কার যোগে স্ত্রী সন্তান নিয়ে সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীতে বন্যার পানি দেখতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে গাবতলী পৌর সভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহেল রানার মোটরসাইকেলের সাথে প্রাইভেট কারের ধাক্কা লাগে।

এ সময় প্রাইভেট কার থামাতে বললে চালক সরোয়ার হোসেন না থামিয়ে বগুড়া শহরের দিকে যেতে থাকেন। সোহেল রানা মোটরসাইকেল নিয়ে প্রাইভেট কারের পিছু ধাওয়া করেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রাইভেট কারটি সাবগ্রাম দ্বিত্বীয় বাইপাস মহাসড়কে যানজটে আটকা পড়লে সোহেল রানা ছেলে ধরা গুজব ছড়ান। এ সময় স্থানীয় জনগণ প্রাইভেট কারে দুই শিশু দেখে তাদেরকে আটক করে। মুহূর্তের মধ্যে ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে পড়লে শত-শত জনগণ তাদেরকে ঘেরাও করে।

সরোয়ার হোসেন এ সময় স্ত্রী সন্তান নিয়ে দৌড়ে একটি দোকান ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘থানায় আসার পর ভুল বোঝাবুঝির অবসান হলে সরোয়ার হোসেন স্ত্রী সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র