Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাঁশের খাঁচায় বড় হচ্ছে শিশু আল-হাশর

বাঁশের খাঁচায় বড় হচ্ছে শিশু আল-হাশর
দিনের বেলা এই বাঁশের খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয় শিশু আল-হাশরকে/ ছবি: বার্তা২৪.কম
গনেশ দাস
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সাত বছর বয়সী আল-হাশরের বাবা-মা থেকেও নেই। সমবয়সীদের সাথে হেসে-খেলে স্কুলে যাওয়ার কথা তার। সেই বয়সে তাকে বন্দি করে রাখা হচ্ছে বাঁশের তৈরি খাঁচায়। শিশুটি জানে না তার কী অপরাধ, কেনই বা তাকে হিংস্র প্রাণীর মতো খাাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়।

খাঁচার মধ্যেই চলে তার খাওয়া দাওয়া ও খেলা ধুলা। সন্ধ্যা হলে খাঁচা থেকে বের করা হয় আল হাশরকে। এভাবেই  গত এক বছর ধরে খাঁচার মধ্যে বেড়ে উঠছে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের জোরগাছা পুর্বপাড়া গ্রামের সুজন ইসলাম ও ইতিমনি খাতুন দম্পতির সন্তান আল-হাশর।

আল-হাশরের বাবা-মা দুজনেই গার্মেন্টস কর্মী। দাম্পত্য কলহের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ না হলেও দেড় বছর ধরে পৃথকভাবে বসবাস করেন ঢাকায়।

সুজন ইসলামের বড় ভাই আলমগীর হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সুজন স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় একসাথে কাজ করতো। তাদের একমাত্র সন্তান  আল-হাশর জন্মগ্রহণের পর কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। মাথাসহ শরীর সব সময় গরম থাকত। মাঝে মধ্যেই শরীরে জ্বর দেখা দিত।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/15/1550187789673.gif

‘শিশুটি বড় হওয়ার সাথে সাথে সমস্যা বাড়তে থাকে। একা ছেড়ে দেওয়া হলেই শক্ত কোনো বস্তুর সাথে মাথা আঘাত করতো। অন্যান্য শিশুদের থেকে সব সময় নিজেকে দূরে রাখত। এই অবস্থায় ঢাকা ও বগুড়ায় শিশুটির অনেক চিকিৎসা করানোর পরেও চিকিৎসক তার রোগ নির্ণয় করতে পারেননি।’

এদিকে বছর দেড়েক আগে আল-হাশরের বাবা-মা আলাদা বসবাস শুরু করেন। এমতাবস্থায় আল-হাশরকে রেখে যাওয়া হয় গ্রামে দাদির কাছে। গ্রামে এসেও একই অবস্থা। ফলে বাড়ির উঠানে বাঁশ দিয়ে বড় আকারের খাঁচা তৈরি করে খড় বিছিয়ে সেখানে রাখা হয় আল-হাশরকে। খাঁচার মধ্যেই চলছে খাওয়া দাওয়া আর খেলা ধুলা। সন্ধ্যার পর খাঁচা থেকে বের করে ঘরে নিলে ঘুমিয়ে পড়ছে দাদির সাথে।

আলমগীর হোসেন আরও বলেন, ‘আল-হাশর দিন দিন বড় হওয়ার পাশাপাশি তার আচরণও হিংস্র হচ্ছে। তার দাদি ছাড়া অন্য কেউ কাছে গেলে তাকে আক্রমণ করে। সমবয়সী ছেলেদের সাথে খেলতে গেলেও তাদেরকে মারধর করে। সেই সাথে ইটের দেয়াল কিম্বা বড় গাছ দেখলেই মাথাদিয়ে আঘাত করে সেখানে। ফলে বাধ্য হয়ে তাকে রাখা হয় খাাঁচাবন্দি করে।’

আল-হাশরের দাদি আজিরন বেওয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শিশুটির কষ্ট না পারছি দেখতে, আবার না পারছি সহ্য করতে। বাবা-মা থেকেও নেই। তারা কোনো খবর রাখে না। আমরা গরিব মানুষ, টাকার অভাবে ভাল কোনো চিকিৎসাও করাতে পারছি না। সামাজের কেউ এগিয়েও আসে না অবুঝ শিশুটির চিকিৎসার জন্য। খাঁচায় বন্দি করে রাখা ছাড়া আমাদের আর কী করার আছে?’

আপনার মতামত লিখুন :

ছেলের বিয়ের বাজার শেষে বাড়ি ফেরা হলো না আজিজুলের

ছেলের বিয়ের বাজার শেষে বাড়ি ফেরা হলো না আজিজুলের
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় মোটরসাইকেল-আলমসাধুর মুখোমুখি সংঘর্ষে আজিজুল হক (৫৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। তিনি মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকালে উপজেলার মুন্সিগঞ্জে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজিজ দামুড়হহুদা উপজেলার পুরাতন বাজার পাড়ার মৃত মোজাফফর হোসেনের ছেলে।

নিহতের স্বজনেরা জানান, ছেলের বিয়ে উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শুক্রবার কুষ্টিয়ার পোড়াদহে কেনাকাটা করতে যান আজিজুল। ফেরার পথে তিনি মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পরিবারের সদস্যরা ফিরছিলেন সিএনজিচালিত অটোরিকশায়।

মুন্সিগঞ্জের নিগার সিদ্দিক কলেজের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অবৈধ আলমসাধুর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মারাত্মকভাবে জখম হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বগুড়ায় আমন চাষের ধুম পড়েছে

বগুড়ায় আমন চাষের ধুম পড়েছে
জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কৃষক ঘরে বসে নেই, চলছে আমনের চারা রোপণ/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতের পর বগুড়ায় আমন চাষের ধুম পড়েছে। জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কৃষক ঘরে বসে নেই। একদিকে চলছে জমি চাষ অন্যদিকে চলছে চারা রোপণের কাজ। চারা এবং শ্রমিকের মূল্য কম থাকায় কেউ জমি ফেলে রাখছেন না। বোরো চাষের লোকসান আমন চাষের পুষিয়ে নেয়ার জন্যই কৃষকের এই উদ্যোগ। তবে এবার বন্যার কারণে বগুড়া জেলার পূর্ব অঞ্চলের সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় আমন চাষ দেরিতে শুরু হবে।

বগুড়া জেলার অধিকাংশ জমি তিন ফসলি। এ কারণে কৃষক বোরো ধান ঘরে তোলার পর এক থেকে দেড় মাস জমি ফেলে রাখে। আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি থেকে আমন চাষ শুরু করেন। কিন্তু এবার আষাঢ় মাসে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেকেই আগাম চাষের জন্য সেচ মেশিনের পানি দিয়ে আমন চাষ শুরু করেন।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, আমন চাষের মৌসুম পহেলা শ্রাবণ থেকে শুরু হয়। কিন্তু  আলু চাষের কারণে বগুড়া অঞ্চলের কৃষক ১৫-২০দিন আগে থেকেই আমন চাষের প্রস্তুতি নেন। এবার আষাঢ় মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় আগাম আমন চাষ করতে পারেন নি। তবে মৌসুমের শুরুতেই ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষক ঘরে বসে নেই।

গাবতলী উপজেলার খলিশাকুড়ি গ্রামের শাহিন ইসলাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, তিনি পেশায় গৃহ নির্মাণ শ্রমিক। অন্যের জমি পত্তন নিয়ে তিনি চাষাবাদ করেন। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে থাকায় শ্রমিক না নিয়ে নিজেই আমন চারা রোপণ করছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563539343944.gif

শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির বার্তা টোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, এবার আমন চাষে খরচ তেমন হবে না। জমিতে পর্যাপ্ত পানি এবং ঘরের বীজ রয়েছে। শুধু চারা রোপণের শ্রমিক এবং জমি চাষের খরচ। পাওয়ার টিলার দিয়ে এক বিঘা জমি চাষ করতে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ হয়। এবার শ্রমিকের দাম কম রয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোন জমি ফাঁকা নেই, কেউ চাষ করছেন আবার কেউ চারা রোপণ করছেন।

নন্দীগ্রাম উপজেলার রিধইল গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, বোরো চাষ করে লোকসান হয়েছে। দাম কম থাকায় এখনও ধান বিক্রি করা হয়নি। লোকসান পুষিয়ে নেয়ার জন্য এবার ১৭ বিঘা জমিতে আমন ধানের চারা রোপণের কাজ শুরু করেছি। আমন ধান ঘরে তোলার পর একই জমিতে আলু চাষ করব।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পহেলা শ্রাবণ থেকে আমন চাষ শুরু করা হয় এবং তা চলে ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলে। এছাড়াও বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর চরে আশ্বিন মাস পর্যন্ত গাইঞ্জা ধানের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু বন্যার কারণে এবার চরাঞ্চলের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আমন মৌসুমে জেলার ১২ উপজেলায় এক লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র