Alexa

ফরিদপুরে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

ফরিদপুরে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা, ছবি: বার্তা২৪

ফরিদপুর শহরের বেসরকারি মেডিকেল টেকনোলজি কলেজ কমিউনিটি ম্যাটস এর শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন।

রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনের মুজিব সড়কে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে শিক্ষার্থীরা। পরে তারা যৌন হয়রানি ও প্রতারণার বিষয়টি উল্লেখ করে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের মোট ৪ বছরের কোর্স। ৩ বছর একাডেমিক ও ১ বছর ইন্টার্নি। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের ভর্তির পূর্বে বিএমডিসি’র অনুমোদন রয়েছে উল্লেখ করলেও এখন তারা বিএমডিসির সনদ দিতে পারছেন না। পরে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন এই কলেজের বিএমডিসির কোন অনুমোদনই নেই। 

দুপুরে ফরিদপুর শহরের পশ্চিমখাবাসপুর এলাকার কমিউনিটি ম্যাটস কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি মুজিব সড়ক হয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে দুই শতাধীক শিক্ষার্থী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। মানববন্ধন শেষে তারা জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপার এর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে। মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে, মো. আবদুল্লাহ আল নোমান, সজিব হাসান, আশিক, আন্না আকতার, মুক্তা আক্তার প্রমুখ বক্তব্য দেন।  

একাধিক নারী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ভাইবা পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দিবে, নাম্বার কম দেবেসহ নানা অযুহাতে তাদের যৌন হয়রানি করা হয়। তাদেরকে ফরিদপুরের বাইরে ট্যুরে যাওয়ারও অফার দেয়া হয়। অনেক মেয়েই এসব কারণে কলেজ ত্যাগ করেছে বলে উল্লেখ করে তারা।

কলেজের ছাত্রী রিয়া বলেন, ভর্তি হওয়ার আগে তাদের বলা হয়েছিল বিএমডিসি থেকে সনদ দেয়া হবে এখন তা দেয়া হচ্ছে না। কলেজের প্রতিটি মেয়েই কোন না কোনভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

নাহিদ হাসান নামে এক ছাত্র জানান, ভাইবা পরীক্ষায় কোন টাকা নেয়ার কথা না থাকলেও ছাত্রদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেয়া হয়, আর ছাত্রীদের কু প্রস্তাব দেয়া হয়। রাজী না হলে ভাইবাতে ইচ্ছে করে ফেল করিয়ে দেয়া হয়। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজ অধ্যক্ষকে তারা কখনোই পান না। যে কোন ধরনের অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে চাইলে পরিচালকদের সাথে কথা বলতে হয়।

সরেজমিনে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, ৪ তলা ভবনের নিচ তলায় একটি ফার্নিচারের শো’রুম। আর উপরের ৩ টি ফ্লোরের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও শির্ক্ষার্থীদের আবাসিক হোস্টেল নিয়ে চলছে কলেজটি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী পাওয়া গেল না কলেজ অধ্যক্ষকে। 

কলেজের  পরিচালক মো. মহসিন এর সাথে যৌন হয়রানির বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন। বিএমডিসির অনুমোদন নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএমডিসি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। আমরা স্টেট মেডিকেল বোর্ড অব ফ্যাকাল্টি থেকে সনদ দিয়ে থাকি। বিএমডিসি’র অনুমোদন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমরা আবেদন করেছি, এই মাসেই তাদের পরিদর্শনের আসার কথা। আশা করছি বিএমডিসির অনুমোদনও পেয়ে যাবো।’