Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

ফরিদপুরে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

ফরিদপুরে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা, ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ফরিদপুর
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুর শহরের বেসরকারি মেডিকেল টেকনোলজি কলেজ কমিউনিটি ম্যাটস এর শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন।

রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনের মুজিব সড়কে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে শিক্ষার্থীরা। পরে তারা যৌন হয়রানি ও প্রতারণার বিষয়টি উল্লেখ করে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের মোট ৪ বছরের কোর্স। ৩ বছর একাডেমিক ও ১ বছর ইন্টার্নি। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের ভর্তির পূর্বে বিএমডিসি’র অনুমোদন রয়েছে উল্লেখ করলেও এখন তারা বিএমডিসির সনদ দিতে পারছেন না। পরে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন এই কলেজের বিএমডিসির কোন অনুমোদনই নেই। 

দুপুরে ফরিদপুর শহরের পশ্চিমখাবাসপুর এলাকার কমিউনিটি ম্যাটস কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি মুজিব সড়ক হয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে দুই শতাধীক শিক্ষার্থী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। মানববন্ধন শেষে তারা জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপার এর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে। মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে, মো. আবদুল্লাহ আল নোমান, সজিব হাসান, আশিক, আন্না আকতার, মুক্তা আক্তার প্রমুখ বক্তব্য দেন।  

একাধিক নারী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ভাইবা পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দিবে, নাম্বার কম দেবেসহ নানা অযুহাতে তাদের যৌন হয়রানি করা হয়। তাদেরকে ফরিদপুরের বাইরে ট্যুরে যাওয়ারও অফার দেয়া হয়। অনেক মেয়েই এসব কারণে কলেজ ত্যাগ করেছে বলে উল্লেখ করে তারা।

কলেজের ছাত্রী রিয়া বলেন, ভর্তি হওয়ার আগে তাদের বলা হয়েছিল বিএমডিসি থেকে সনদ দেয়া হবে এখন তা দেয়া হচ্ছে না। কলেজের প্রতিটি মেয়েই কোন না কোনভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

নাহিদ হাসান নামে এক ছাত্র জানান, ভাইবা পরীক্ষায় কোন টাকা নেয়ার কথা না থাকলেও ছাত্রদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেয়া হয়, আর ছাত্রীদের কু প্রস্তাব দেয়া হয়। রাজী না হলে ভাইবাতে ইচ্ছে করে ফেল করিয়ে দেয়া হয়। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজ অধ্যক্ষকে তারা কখনোই পান না। যে কোন ধরনের অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে চাইলে পরিচালকদের সাথে কথা বলতে হয়।

সরেজমিনে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, ৪ তলা ভবনের নিচ তলায় একটি ফার্নিচারের শো’রুম। আর উপরের ৩ টি ফ্লোরের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও শির্ক্ষার্থীদের আবাসিক হোস্টেল নিয়ে চলছে কলেজটি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী পাওয়া গেল না কলেজ অধ্যক্ষকে। 

কলেজের  পরিচালক মো. মহসিন এর সাথে যৌন হয়রানির বিষয়টিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন। বিএমডিসির অনুমোদন নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএমডিসি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। আমরা স্টেট মেডিকেল বোর্ড অব ফ্যাকাল্টি থেকে সনদ দিয়ে থাকি। বিএমডিসি’র অনুমোদন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমরা আবেদন করেছি, এই মাসেই তাদের পরিদর্শনের আসার কথা। আশা করছি বিএমডিসির অনুমোদনও পেয়ে যাবো।’

আপনার মতামত লিখুন :

পেকুয়ায় র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জলদস্যু নিহত

পেকুয়ায় র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জলদস্যু নিহত
কক্সবাজার, ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের পেকুয়ায় র‍্যাবের সঙ্গে জলদস্যুদের বন্দুকযুদ্ধে কামাল হোসেন বাদশা (৩৩) নামের এক জলদস্যু নিহত হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ভোররাতে পেকুয়ার মগনামাঘাটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বাদশা চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কচুয়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। বাদশা দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গোপসাগরের বাঁশখালী চ্যানেল দিয়ে জলদস্যু বাহিনী পরিচালনা করে আসছিল।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইন কমান্ডার আজিম আহমেদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে রোহিঙ্গাদের মতামত নেয়া হচ্ছে

প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে রোহিঙ্গাদের মতামত নেয়া হচ্ছে
রোহিঙ্গাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মিয়ানমারের দেয়া প্রত্যাবাসনের তালিকায় যে সব রোহিঙ্গার নাম রয়েছে তাদের মতামত নেয়া হচ্ছে। তাদের মতামতের ওপর ভিত্তি করেই শুরু হবে প্রথমবারের মতো মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে কক্সবাজার টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরে এ মতামত নেয়া শুরু হয়েছে।

শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন বলছে, মূলত মিয়ানমার যাদের নাম দিয়েছে তাদের মতামত নেয়া হচ্ছে। তাদের মতামতের ওপর নির্ভর করছে আগামী ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসনের সূচনা হবে কী হবে না। মতামত নেয়ার কাজ করছে ইউএনএইচসিআর ও আরআরআরসি’র প্রতিনিধিরা। রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের পৃথকভাবে মতামত নেয়া হচ্ছে।

টেকনাফের জাদিমোরা শালবন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিআইসি) মোহাম্মদ খালেদ হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘প্রত্যাবাসনের তালিকায় নাম থাকা রোহিঙ্গাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। এজন্য ক্যাম্প ইনচার্জ অফিসের পাশে বেশ কয়েকটি প্লাস্টিকের ঘর তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ৩ হাজার ৩১০ জনের পর্যায়ক্রমে মতামত নেওয়া হবে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যদি স্ব-ইচ্ছে যেতে রাজি হয় তাহলে আমরা চূড়ান্ত প্রত্যাবাস প্রক্রিয়া শুরু করব। তাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছুই করব না আমরা। তাই তাদের মতামত নেয়া হচ্ছে।’

উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। পুরনোসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩০টি শিবিরে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।

জাতিগত নিধন ও গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র