Barta24

সোমবার, ১৫ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

সোয়া কোটি টাকার ভবন নির্মাণের শুরুতেই অনিয়ম

সোয়া কোটি টাকার ভবন নির্মাণের শুরুতেই অনিয়ম
নিম্নমানের সামগ্রী দিয়েই চলছে ইউপি ভবন নির্মাণের কাজ, ছবি: বার্তা২৪
গনেশ দাস
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রায় সোয়া কোটি টাকার ভবন নির্মাণ কাজ নিজের নামে ঠিকাদারি নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন যুবলীগ নেতা। চড়া দামে ওই কাজ আরেক ঠিকাদার কিনে নিয়ে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করছেন। আর এ কারণেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। ফলে চাপে পড়ে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন ঠিকাদার। আর একারণেই সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী কাজ স্থগিত করে দিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বগুড়ার দুপচাাঁচিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ কাজ নিয়ে চলছে এসব ঘটনা। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) এর অধীনে দুপচাচিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় গত বছর। বগুড়ার শেরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান ভুট্টুর মালিকানাধীন মেসার্স মোল্লা ট্রেডার্স সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পান।

ঠিকাদারি কাজ বিক্রি করার নিয়ম না থাকলেও তিনি শর্ত ভঙ্গ করে এবং স্থানীয় প্রকৌশলীদেরকে ম্যানেজ করে শতকরা ১০ ভাগ লাভে কাজটি বিক্রি করে দেন দুঁপচাচিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিমু কনসট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আবুল কালামের কাছে। তিনি চড়া দামে কাজটি কিনে নেয়ার পর অনিয়মের মধ্য দিয়েই কাজ শুরু করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/18/1550437996825.jpg

সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গোবিন্দপুর বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের পার্শ্বে একটি পুকুর ভরাট করে সেখানে চলছে নতুন ভবন নির্মাণ কাজ। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন নিম্নমানের খোয়া দিয়ে ভবনের কলাম তৈরির কাজ শুরু করে ঠিকাদার আবুল কালাম। বিষয়টি তারা ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি কাজ বন্ধ করে দেন। এরপর ঠিকাদার আবারও কাজ শুরু করেন নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে।

দুপঁচাচিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক গোবিন্দপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রভাষক নজরুল ইসলাম বার্তা ২৪.কম-কে বলেন, 'আমিও শুনেছি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছি। কাজ তদারকি করবে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, কিন্তু সেখানে কোন প্রকৌশলীকে একদিনও আমার চোখে পড়েনি।'

একই অভিযোগ করেন গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোকছেদ আলী বাবু। তিনি বলেন, 'নিম্নমানের খোয়া দিয়ে কলাম ঢালাই করা হচ্ছিল। এ কারণে চেয়ারম্যান কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।'

গোবিন্দপুর ইউপি চেয়ারম্যান এসএম হেলাল বার্তা২৪.কম-কে বলেন, '২৬ শতাংশ জায়গার ওপর দ্বিতল ইউপি ভবন নির্মাণ কাজে ঠিকাদার শুরুতেই অনিয়ম করেছে। নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের কারণে কাজ বন্ধ করে দিয়ে বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।'

তবে ঠিকাদার আবুল কালাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'খোয়ার মান পরীক্ষা না করে বলা যাবে না নিম্নমানের। কাজ যথাযথ ভাবে হচ্ছে। এক কোটি ১৬ লাখ টাকার কাজটি তিনি মোল্লা ট্রেডার্স থেকে কিনে নিয়ে বাস্তবায়ন করছেন।'

দুপঁচাচিয়া উপজেলা প্রকৌশল অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজের কথা স্বীকার করে বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের কারণে রবিবার কলাম ঢালাই কাজ বন্ধ রাখা হয়। নানা জটিলতার কারণে নির্মাণ কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এপর্যন্ত মাত্র ২৫ শতাংশ কাজ হয়েছে।'

আপনার মতামত লিখুন :

সিরাজগঞ্জে বরবাহী মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কা: নিহত ১০

সিরাজগঞ্জে বরবাহী মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কা: নিহত ১০
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় বরবাহী মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কা লাগার ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন । এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫ জন।

সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- সিরাজগঞ্জ শহরের কান্দাপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে রাজন (২৫), উল্লাপাড়া পৌর শহরের এনায়েতপুর গুচ্ছ গ্রামের আব্দুল গফুর সেখের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (১৯), সয়াধানগড়ার সুরুজ শেখের ছেলে সবুজ (২১), রামগাতী গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে আব্দুস সামাদ (৫৫) ও তার ছেলে শাকিল হোসেন (২১), সয়াগোবিন্দ মিলন মোড় এলাকার মৃত একরামুলের ছেলে মাইক্রোবাসের চালক স্বাধীন (৪০) ও দিয়ারধানগড়া আলতাফ হোসেনের ছেলে শরীফ (২৬), কালিয়া হরিপুর চুনিয়াহাটির মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে ভাষা শেখ (৫৫) । বাকি ২ জনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

আহতরা হলেন- নাদেম তালুকদার (১৮), বায়েজিদ (১৮), নীরব তালুকদার (১৪), সুমন (২৭), নাজমুল আহসান (২৫) ও ইমরান (২০)।

আহতদের সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার পর ট্রেনটি প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকে।

উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল হামিদ জানান, বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস উল্লাপাড়া থেকে বেতকান্দি যাবার পথে ওই এলাকায় রেলক্রসিং পার হবার সময় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রায় ২০০ গজ দূরে গিয়ে ট্রেনটি থামার পর মাইক্রোবাস থেকে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার ‍দিকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলপে একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয় পদ্মা এক্সপ্রেস নামে একটি ট্রেন। এতে মাইক্রোবাসের ১০ জন নিহত হওয়ার খবর জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছেছে। উদ্ধার কাজ চলছে। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

সাজাপ্রাপ্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ১৭ বছর পর আত্মসমর্পণ

সাজাপ্রাপ্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ১৭ বছর পর আত্মসমর্পণ
ছবি: সংগৃহীত

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাইদুল আলম লাভলু ফেনীর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। ২০০০ সালে তিনি তৎকালীন ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।

সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেলে তিনি ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু হান্নানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত তাকে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ফেনীতে একজনকে খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০০২ সালের ৩০ জুন ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মাইদুল আলম লাভলুর যাবজ্জীবন সাজা হয়। তখন তিনি পলাতক ছিলেন।

এছাড়া তিনি সোমবার আরও একটি দণ্ডপ্রাপ্ত মামলায় ফেনীর যুগ্ম জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ১৯৯৬ সালের ৮ জুলাই তৎকালীন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মাসুদকে অপহরণ করে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় তার বাবা আবদুল খালেক ভূঁঞা ফেনী থানায় মামলা করেন।

২০০৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ওই মামলায় রায় প্রদান করা হয়। এতে আসামি মাইদুল আলম লাভলুকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

সোমবার তিনি ফেনীর যুগ্ম জেলা জজ (১ম আদালত) ফরিদা ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেয়।

পৃথক মামলায় যাবজ্জীবন এবং পাঁচ বছর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আদালতে আত্মসমর্পণ ও কারাগারে প্রেরণের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু।

উল্লেখ্য, মাইদুল আলম লাভলু ২০০০ সালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি থাকা অবস্থায় বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে কানাডায় পাড়ি দেন। ১৯ বছর প্রবাসে কাটিয়ে কয়েক দিন আগে দেশে ফিরেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র