Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

২৩ বছরেও হয়নি আকসু নির্বাচন, স্থবির কর্মকাণ্ড

২৩ বছরেও হয়নি আকসু নির্বাচন, স্থবির কর্মকাণ্ড
বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের ছাত্র সংসদ ভবন / ছবি: বার্তা২৪
গনেশ দাস
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে ভবন থাকলেও নেই ছাত্র সংসদ। ১৯৯৬ সালের পর কলেজটিতে দীর্ঘ ২৩ বছরেও কোনো ছাত্র সংসদ (আকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করার মতো কেউ নেই। পাশাপাশি নেতৃত্বের কোনো বিকাশ ঘটছে না, মান সম্পন্ন ছাত্র নেতাও তৈরি হচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি থেকে। একই সঙ্গে স্থবির হয়ে আছে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড।

তবে ডাকসু নির্বাচনের ঘোষণা আসার পর থেকে ছাত্র ইউনিয়ন আকসু নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। তারা মিছিল, মিটিং থেকে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নির্বাচনের আমেজ তৈরির কাজ করে যাচ্ছে। ছাত্রলীগও নির্বাচনের দাবি জানিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে মিছিল সমাবেশ করেছে।

জানা গেছে, ১৯৯৬-৯৭ শিক্ষাবর্ষে সর্বশেষ ছাত্র সংসদ চালু ছিল। ওই সময় ছাত্রদল থেকে রাশেদুজ্জামান মাসুম ভিপি, ছাত্র শিবিরের ইউছুব আলী জিএস এবং ছাত্রলীগের আমিনুল ইসলাম ডাবলু এজিএস নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর পার হয়ে গেলেও আর কখনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। অথচ ২০০৯ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের থেকে ভর্তির সময় ২৫ টাকা করে ছাত্র সংসদের জন্য জমা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিন ছাত্র সংসদ ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার পর ছাত্র-ছাত্রীদের দাবির মুখে ২০১৭ সালে মেরামত ও সংস্কার করে ছাত্রদের কমন রুম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ছাত্র সংসদ না থাকায় খেলাধুলা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চা স্থবির হয়ে আছে বছরের পর বছর।

আজিজুল হক কলেজে বর্তমানে ২৩টি বিভাগে ৩৭ হাজার ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়নরত। কলেজে ছাত্র সংসদ (আকসু) চালু থাকাকালে সব রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলো প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করত। ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কলেজে ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবির প্রভাব বিস্তার শুরু করে। সে সময় কলেজের আধিপত্য নিয়ে ছাত্র শিবির এবং ছাত্রদলের মধ্যে সহিংসতা চলত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/18/1550462114942.jpg

এরপর দুই বছর জরুরি অবস্থা চলাকালে সকল রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ২০০৯ সাল থেকে আবারও শুরু হয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। ছাত্র শিবিরের সঙ্গে ছাত্র লীগের কয়েক দফা সংঘর্ষের পর কলেজ থেকে ছাত্র শিবির রাজনৈতিকভাবে বিদায় নেয়। পরে ছাত্রদলও প্রকাশ্যে আসতে পারে না কলেজ ক্যাম্পাসে। ফলে গত ১০ বছর ধরে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার করছে ছাত্রলীগ। কিন্তু তারাও এতদিন ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে জোরাল ভূমিকা রাখেনি।

মিথুন, নয়ন, পারভেজের মতো কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া জরুরি। কলেজের সাধারণ ছাত্রদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার মতো কেউ না থাকায় তাদেরকে নানা কাজে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কোনো সমস্যায় পড়লে সাধারণ ছাত্রদেরকে রাজনৈতিক ছাত্রগংঠনের নেতাদের কাছে ধরনা দিতে হচ্ছে। এছাড়া ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতারা সাধারণ ছাত্রদেরকে সাধারণ হিসেবেই মূল্যায়ন করে থাকে।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ছাত্ররাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু ছাত্র প্রতিনিধিত্ব না থাকায় দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না।

ছাত্র ইউনিয়নের বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি নাদিম মাহমুদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বর্তমানে আজিজুল হক কলেজে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন এবং প্রগতিশীল ছাত্র জোট প্রকাশ্যে তাদের কর্মসূচি করছে। অন্য ছাত্র সংগঠনগুলোর দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি নেই। ছাত্র ইউনিয়ন সর্ব প্রথম ৩ জানুয়ারি আকসু নির্বাচন নিয়ে কর্মসূচি দেয়। ইতোমধ্যেই ছাত্র ইউনিয়ন কলেজ ক্যাম্পাসে মিছিল, সমাবেশ, ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতনা বাড়ানোর জন্য লিফলেট বিতরণ এবং শহরে পোস্টারিং করেছে।’

আজিজুল হক কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সারা দেশেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন রাজনৈতিক কারণে বন্ধ ছিল। ডাকসু নির্বাচনের দিকে আমরা তাকিয়ে আছি। তার পরও আকসু নির্বাচনের দাবিতে ছাত্রলীগ ইতোমধ্যেই কলেজ ক্যাম্পাসে মিছিল সমাবেশ করেছে।’

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং ১৯৯৬-৯৭ শিক্ষা বর্ষে আকসু জিএস আমিনুল ইসলাম ডাবলু বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘রাজনীতিতে মান সম্পন্ন নেতৃত্ব তৈরিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন জরুরি। দীর্ঘদিন ছাত্র সংসদ নির্বাচন না থাকায় দক্ষ নেতা তৈরির অন্তরায় হয়ে উঠেছে। এছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ না থাকলে জবাবদিহিতা থাকে না।’

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শাজাহান আলী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা পেলে এবং সরকার ইচ্ছা পোষণ করলেই আকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে কলেজ প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

ভুঞাপু‌রে কম‌তে শুরু ক‌রে‌ছে যমুনার পা‌নি

ভুঞাপু‌রে কম‌তে শুরু ক‌রে‌ছে যমুনার পা‌নি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

টাঙ্গাই‌লের ভুঞাপু‌র উপজেলায় যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার (১৯ জুলাই) বি‌কে‌লের পর থে‌কেই পানি কমতে দেখা যায়।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ভুঞাপুরে যমুনা নদীর পা‌নি দুই সে‌ন্টি‌মিটার ক‌মে বিপদসীমার ৯৭ সে‌ন্টি‌মিটার ওপর দি‌য়ে বইছে। অথচ দুপুরেও এই পয়েন্টে পা‌নি ‌বিপদসীমার ৯৯ সে‌ন্টি‌মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

Tangail Flood

টাঙ্গাইলের পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, বি‌কে‌লের পর থে‌কে যমুনা নদী‌তে কিছুটা পা‌নি হ্রাস পে‌য়ে‌ছে। ধারণা করা হচ্ছে, শ‌নিবার (২০ জুলাই) থে‌কে পা‌নি আরও কমবে।

আরও পড়ুন: ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক মেরামতে সেনাবাহিনী

ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে পরিবার আটক

ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে পরিবার আটক
গুজব ছড়িয়ে এক পরিবারের চার সদস্যকে আটক করে স্থানীয়রা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বগুড়ায় ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে প্রাইভেট কারসহ একটি পরিবারকে আটক করে স্থানীয় পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নেতৃত্বে এলাকাবাসী। এ সময় অল্পের জন্য গণপিটুনী থেকে রক্ষা পেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরতলীর সাবগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য সরোয়ার হোসেন প্রাইভেট কার যোগে স্ত্রী সন্তান নিয়ে সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীতে বন্যার পানি দেখতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে গাবতলী পৌর সভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহেল রানার মোটরসাইকেলের সাথে প্রাইভেট কারের ধাক্কা লাগে।

এ সময় প্রাইভেট কার থামাতে বললে চালক সরোয়ার হোসেন না থামিয়ে বগুড়া শহরের দিকে যেতে থাকেন। সোহেল রানা মোটরসাইকেল নিয়ে প্রাইভেট কারের পিছু ধাওয়া করেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রাইভেট কারটি সাবগ্রাম দ্বিত্বীয় বাইপাস মহাসড়কে যানজটে আটকা পড়লে সোহেল রানা ছেলে ধরা গুজব ছড়ান। এ সময় স্থানীয় জনগণ প্রাইভেট কারে দুই শিশু দেখে তাদেরকে আটক করে। মুহূর্তের মধ্যে ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে পড়লে শত-শত জনগণ তাদেরকে ঘেরাও করে।

সরোয়ার হোসেন এ সময় স্ত্রী সন্তান নিয়ে দৌড়ে একটি দোকান ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘থানায় আসার পর ভুল বোঝাবুঝির অবসান হলে সরোয়ার হোসেন স্ত্রী সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র