Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মেহেরপুর মুখরিত অতিথি পাখির কলরবে

মেহেরপুর মুখরিত অতিথি পাখির কলরবে
মেহেরপুর মুখরিত অতিথি পাখির কলরবে। ছবি: বার্তা২৪.কম
মাজেদুল হক মানিক
 ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
মেহেরপুর
বার্তা২৪.কম 


  • Font increase
  • Font Decrease

অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত মেহেরপুরের মাথাভাঙ্গা মরানদী। নাম না জানা এসব পাখি স্থানীয়দের কাছে অতিথির মতোই সমাদরে আছে। পাখিদের বিচরণ মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করে আশপাশের মানুষের হৃদয় জয় করেছে।

জানা গেছে, গাংনী উপজেলার মহাম্মদপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় মাথাভাঙ্গা মরা নদীর অংশে শীতের শুরুতেই পাখির মিলন মেলা বসে। বর্তমানে হাজারো পাখির বিচরণে আশপাশে এক ভিন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত গোটা এলাকা। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত নাম না জানা এসব অতিথি পাখির বিচরণে মুদ্ধ এলাকাবাসী।

নদী পাড়ে প্রতিদিনই আশপাশের লোকজন পাখি দেখতে আসেন। নদীতে ভেসে থাকা কচুরিপানার উপরেই আবাস গেড়েছে পাখিরা। নদীর পানিতে গোসল ও ভেসে বেড়িয়ে সময় পার করে ভিন্ন প্রজাতির পাখিগুলো।

অপরদিকে পাখিরা যখন দলবেঁধে আকাশে ওড়ে, তখন এক ছন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি করে।

মহাম্মদপুর গ্রামের বৃদ্ধ সিরাজুল ইসলাম জানান, বেশ কয়েক বছর ধরেই পাখিগুলো আসছে। এবার সবচেয়ে বেশি হাজার হাজার পাখি এসেছে। শীতকালে পাখিগুলোর দেখা মেলে। শীত পেরিয়ে গেলে আবারো ফিরে যায় আপন গন্তব্যে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/18/1550493130949.jpg

এদিকে গ্রামের ছেলে বুড়ো সকলের কাছেই সমাদর পাচ্ছে পাখিগুলো। বিশেষ করে স্কুলগামী ছেলেমেয়েদের মাঝে পাখি নিয়ে কৌতূহল ও পাখি দেখার আগ্রহের সীমা নেই।

স্থানীয় নবম শ্রেণির ছাত্রী ফারহানা হক বলে, ‘আমরা রাতে ঘুমাতে যাই পাখির কিচিরমিচির ডাক শুনে। আবার একই ডাকে সকালে ঘুম থেকে উঠি। স্কুল থেকে ফিরে বিকেলে নদীপাড়ে পাখি দেখি। এদের বিচরণ খুব ভালো লাগে। এরা যদি সারা বছর থাকত তাহলে আরও ভালো লাগত।’

মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল আহম্মেদ জানান, ‘ওরা আমাদের অতিথি। ওদের ওপর যাতে শিকারিদের কোনো আক্রমণ না হয়, সে ব্যাপারে স্থানীয়দের বলা হয়েছে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণুপদ পাল বলেন, ‘তীব্র শীতের কারণে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে হয়তো পাখিগুলো এসেছে। পাখি থাকার স্থানে দর্শনার্থীদের সুবিধা বাড়াতে কী করা যায় তা আমরা ভেবে দেখছি।’

আপনার মতামত লিখুন :

বেগমগঞ্জে অস্ত্রসহ তিনজন আটক

বেগমগঞ্জে অস্ত্রসহ তিনজন আটক
অস্ত্রসহ আটককৃতরা, ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- বেলাল হোসেন (৩০) সাদ্দাম হোসেন সুমন (২৮) ও কাজল মিয়া (৪০)। একই উপজেলার বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বেগমগঞ্জ থানার রাজগঞ্জ পুলিশ ক্যাম্পের এসআই সহিদ উল্যা ও এএসআই আলমগীরসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার মহব্বতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে, তাদেরকে আটক করে । এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন-উর-রশিদ জানান, উপজেলার মহব্বতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশ। আটককৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। এ সময় মামলার পর আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি: ৭ শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি: ৭ শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যু
কুড়িগ্রামে বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। এরইমধ্যে বন্যার পানিতে নৌকা ডুবির ঘটনায় ৪ শিশুসহ ৫ জন এবং পানিতে ডুবে ৩ শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অনন্তপুর এলাকায় মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকেলে নৌকা ডুবির ঘটনায় ৪ শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে আরো ২ জন।

নৌকা ডুবিতে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: হাফিজুর রহমান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563281707536.jpg

স্থানীয়রা জানায়, নতুন অনন্তপুর গ্রামের কয়েকজন মহিলা ১৪ থেকে ১৫ জন শিশুকে নিয়ে একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে বন্যার পানিতে ঘুরতে পার্শ্ববর্তী একটি বিলে যান। এ সময় অতিরিক্ত ভারের কারণে বিলের পানিতে নৌকাটি ডুবে যায়।

স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে অবগত করে নৌকা নিয়ে তাদের উদ্ধার করতে যায়। তারা শিশুসহ কয়েকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই দুইজনের মৃত্যু হয়। আর এক শিশুর মা নিহত রুনা বেগম (৩৫) তার সন্তানকে বাঁচাতে নিজে পানিতে ডুবে দুই হাতে সন্তানকে পানির উপর ভাসিয়ে রাখেন। স্থানীয়রা তার শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও দীর্ঘক্ষণ পানিতে ডুবে থাকায় মা রুনাকে বাঁচাতে পারেননি।

নিহত অপর ৪ শিশুরা হলেন, অনন্তপুর গ্রামের ব্যাপারীপাড়ার আয়নাল হকের পুত্র হাসিবুল (৭) একই গ্রামের মহসিন আলীর কন্যা রুপা মনি (৮), মনছুর আলীর পুত্র মোরসালিন সুমন (১০)এবং রাশেদের কন্যা শিশু রুকু মনি (৭)।

অন্যদিকে কুড়িগ্রামের রৌমারী ও নাগেশ্বরী উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই যুবক নিখোঁজ হয়েছে। এদের মধ্যে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আরেকজনের লাশ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাসহ স্থানীয় লোকজন পানির নিচে সম্ভাব্য স্থানগুলোতে খুঁজে বেড়াচ্ছে।

নিখোঁজ যুবকেরা হলেন, রৌমারী উপজেলার চাক্তাবাড়ী গ্রামের আব্দুস ছালামের পুত্র সাইফুল ইসলাম (২৩) এবং নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের মাদাইখাল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আ.ন.ম মুসার পুত্র আল মামুন (৪০)।

নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ রওশন কবির জানান, মাদাইখাল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আ.ন.ম মুসা সোমবার নিজে বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বড় ছেলে আল মামুন নাগেশ্বরী উপজেলা শহর থেকে তার বাবাকে নিতে বাড়ির দিকে রওনা দেন। পথে বন্যার পানি ভেঙে পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় বাড়ির পাশে মাদাইখাল এলাকায় খাদে পড়ে নিখোঁজ হয়। পরে অনেক খোঁজাখুজির পর মঙ্গলবার দুপুর নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা পার্শ্ববর্তী জায়গা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563281725035.jpg

রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ আবু মো: দিলওয়ার হাসান ইনাম জানান, রৌমারী উপজেলার চাক্তাবাড়ী এলাকায় বেরিবাঁধ ভেঙে প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়ে। বাঁধ ভাঙ্গা বন্যার পানিতে ঘর-বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সকালে সাইফুর ইসলাম বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কলা গাছের ভেলায় উঠিয়ে উঁচু স্থানের দিকে যাওয়ার সময় বিদ্যুতের তারের সাথে ধাক্কা লেগে পানিতে পড়ে যায়। এরপর স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোন সন্ধান পাননি।

এছাড়াও গত রোববার ও সোমবার দুইদিনে বন্যার পানিতে ডুবে চিলমারীতে ২ এবং উলিপুরে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা: এসএম আমিনুল ইসলাম।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ১১৭ সেন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তার পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

এতে করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার ৯ উপজেলার ৫৬ ইউনিয়নের ৪০৭ টি গ্রাম। বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে প্রায় ৪ লাখের বেশি মানুষ। বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গো-খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে বানভাসি মানুষ 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র