Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

বিএনপি নেতার মনোনয়ন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

বিএনপি নেতার মনোনয়ন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
পুলিশ প্রহরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ রুবেল (ডান থেকে দ্বিতীয়)/ ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপি নেতা মাফতুন আহম্মেদ রুবেলের মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। এ সময় বাধা দিতে গেলে বিএনপির এই নেতাকে মারধর করা হয়।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বিএনপি নেতা রুবেল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে থাকেন। বিকাল সাড়ে ৫টায় তিনি পুলিশ প্রহরায় বাসায় ফিরে যান।

সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।

বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল বার্তা২৪.কমকে জানান, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী তার পিছু নেন। তাদের গতিবিধি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত রিটার্নিং অফিসারের কক্ষে প্রবেশ করেন।

ঐ কক্ষের মধ্যেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার হাত থেকে মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে রুবেলের সাথে থাকা নেতাকর্মীদের সাথে ছাত্রলীগ নেতাদের ধস্তাধস্তি শুরু হলে তিনি রিটার্নিং অফিসারের হাতে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এক পর্যায়ে রিটার্নিং অফিসারের কক্ষের সামনে বারান্দায়  রুবেলের সাথে আসা সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আপেল মাহমুদ, শহর বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক আতিকুল ইসলাম ও নুনগোলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলামকে বেদম মারধর করা হয়।

রিটার্নিং অফিসার এ দৃশ্য দেখে পুলিশ ডাকেন। পুলিশ পৌঁছলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখান থেকে বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেন। ফলে রুবেল অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মাফতুন আহম্মেদ রুবেল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হলে পুলিশ প্রহরায় তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেবে না, সেটা প্রতিপক্ষ প্রার্থীও জানেন। কিন্তু জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে আমি মনোনয়ন জমা দিতে এসেছি। এখানে রিটার্নিং অফিসারের  উপস্থিতিতে মনোনয়ন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাসহ যা ঘটেছে আমি লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচনে অংশ নেব না।’

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কর্তব্যরত সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুরুল হক ভুঞা বার্তা২৪.কমকে বলেন  ‘দুর্বৃত্তরা মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে- এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। কিন্তু এর আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।‘

তিনি বলেন, ‘রুবেলকে কেউ অবরুদ্ধ করে রাখেননি। তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর স্বেচ্ছায় বসে ছিলেন। তার নিরাপত্তার জন্য বাহিরে পুলিশ অবস্থান নিয়েছিল।’

রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রায়হানা ইসলাম বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে হট্টগোল হয়েছে। তবে মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেলের মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে।‘

আপনার মতামত লিখুন :

সিরাজগঞ্জে বরবাহী মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ১০

সিরাজগঞ্জে বরবাহী মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ১০
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় বরবাহী মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কা লাগার ঘটনায় ১০ জন নিহত হয়েছেন । এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫ জন।

সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- সিরাজগঞ্জ শহরের কান্দাপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে রাজন (২৫), উল্লাপাড়া পৌর শহরের এনায়েতপুর গুচ্ছ গ্রামের আব্দুল গফুর শেখের মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (১৯), সয়াধানগড়ার সুরুজ শেখের ছেলে সবুজ (২১), রামগাতী গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে আব্দুস সামাদ (৫৫) ও তার ছেলে শাকিল হোসেন (২১), সয়াগোবিন্দ মিলন মোড় এলাকার মৃত একরামুলের ছেলে মাইক্রোবাসের চালক স্বাধীন (৪০) ও দিয়ারধানগড়া আলতাফ হোসেনের ছেলে শরীফ (২৬), কালিয়া হরিপুর চুনিয়াহাটির মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে ভাষা শেখ (৫৫) । বাকি ২ জনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563214174332.jpg

আহতরা হলেন- নাদেম তালুকদার (১৮), বায়েজিদ (১৮), নীরব তালুকদার (১৪), সুমন (২৭), নাজমুল আহসান (২৫) ও ইমরান (২০)।

আহতদের সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, দুর্ঘটনার পর ট্রেনটি প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকা পড়ে থাকে।

উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল হামিদ জানান, বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস উল্লাপাড়া থেকে বেতকান্দি যাবার পথে সলপ এলাকায় রেলক্রসিং পার হবার সময় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রায় ২০০ গজ দূরে গিয়ে ট্রেনটি থামার পর মাইক্রোবাস থেকে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563214198607.jpg

উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যার ‍দিকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলপে একটি মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয় পদ্মা এক্সপ্রেস নামে একটি ট্রেন। এতে মাইক্রোবাসের ১০ জন নিহত হওয়ার খবর জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছেছে। উদ্ধার কাজ চলছে। পরে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

সাজাপ্রাপ্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ১৭ বছর পর আত্মসমর্পণ

সাজাপ্রাপ্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ১৭ বছর পর আত্মসমর্পণ
ছবি: সংগৃহীত

যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাইদুল আলম লাভলু ফেনীর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। ২০০০ সালে তিনি তৎকালীন ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।

সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেলে তিনি ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু হান্নানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত তাকে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ফেনীতে একজনকে খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০০২ সালের ৩০ জুন ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মাইদুল আলম লাভলুর যাবজ্জীবন সাজা হয়। তখন তিনি পলাতক ছিলেন।

এছাড়া তিনি সোমবার আরও একটি দণ্ডপ্রাপ্ত মামলায় ফেনীর যুগ্ম জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ১৯৯৬ সালের ৮ জুলাই তৎকালীন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মাসুদকে অপহরণ করে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় তার বাবা আবদুল খালেক ভূঁঞা ফেনী থানায় মামলা করেন।

২০০৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ওই মামলায় রায় প্রদান করা হয়। এতে আসামি মাইদুল আলম লাভলুকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

সোমবার তিনি ফেনীর যুগ্ম জেলা জজ (১ম আদালত) ফরিদা ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেয়।

পৃথক মামলায় যাবজ্জীবন এবং পাঁচ বছর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আদালতে আত্মসমর্পণ ও কারাগারে প্রেরণের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু।

উল্লেখ্য, মাইদুল আলম লাভলু ২০০০ সালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি থাকা অবস্থায় বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে কানাডায় পাড়ি দেন। ১৯ বছর প্রবাসে কাটিয়ে কয়েক দিন আগে দেশে ফিরেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র