Alexa

বার্তা২৪ এ সংবাদ প্রকাশ: খাঁচায় বন্দি শিশুর পাশে প্রশাসন

বার্তা২৪ এ সংবাদ প্রকাশ: খাঁচায় বন্দি শিশুর পাশে প্রশাসন

বাঁশের খাঁচায় বন্দি শিশু আল-হাশর/ ফাইল ছবি

অনলাইন মাল্টিমিডিয়া নিউজপোর্টাল বার্তা২৪.কম এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাঁশের খাঁচায় বড় হয়ে উঠা বগুড়ার সাড়িয়াকান্দি উপজেলার শিশু আল-হাশরের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (১৮ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সারিয়াকান্দি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক শিশুটিকে দেখতে যান।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাইম হোসাইন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে শিশুটির বাড়িতে যাই। পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটি প্রতিবন্ধী হিসেবে শনাক্ত হলে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সাজেদুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শিশুটিকে আজকে হাসপাতালে ভর্তির উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু বাড়িতে কোনো পুরুষ অভিভাবক না থাকায় শিশুটিকে নিয়ে আসা যায়নি। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি করে তার চিকিৎসা শুরু হবে। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।’

উল্লেখ্য, সারিয়াকান্দি উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের জোরগাছা পূর্বপাড়া গ্রামের সুজন ইসলামের ছেলে আল হাশর (৭) জন্মের পর মাঝে মাঝে জ্বর দেখা দিত, সব সময় শরীর ও মাথা গরম থাকতো।

ঢাকা এবং বগুড়ায় অনেক চিকিৎসা করানো হয়।এদিকে শিশুটি বড় হওয়ার সাথে সাথে দেখা দেয় নতুন নতুন সমস্যা। যে কাউকে দেখলে আক্রমণ করে, একা ছেড়ে দিলে দেয়াল কিম্বা শক্ত কোনো বস্তুর সাথে মাথা আঘাত করে। সম বয়সীদের সাথে খেলাধুলা না করে সব সময় নিজেকে আড়াল করে রাখে।

এমন অবস্থায় দেড় বছর আগে দাম্পত্য কলহের কারণে আল হাশরের বাবা-মা আলাদা হয়ে যান। বাবা সুজন ইসলাম ও মা ইতিমনি খাতুন ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন। বাবা সুজন ইসলাম অসুস্থ ছেলেকে রেখে যান গ্রামের বাড়িতে শিশুটির দাদি খালেদা বেওয়ার কাছে।

খালেদা বেওয়া জানান, বাবা মা কাছে না থাকায় শিশুটি দেখাশোনা করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। এই কারণে বাড়ির আঙ্গিনায় বাঁশের খাচা তৈরি করে খড় বিছিয়ে সেখানে রাখা হয় সারাদিন। বাঁশের এই খাঁচার মধ্যেই চলে তার খেলাধুলা ও খাওয়া-দাওয়া। সন্ধ্যার পর তাকে ঘরে নেওয়া হয়।