Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বার্তা২৪ এ সংবাদ প্রকাশ: খাঁচায় বন্দি শিশুর পাশে প্রশাসন

বার্তা২৪ এ সংবাদ প্রকাশ: খাঁচায় বন্দি শিশুর পাশে প্রশাসন
বাঁশের খাঁচায় বন্দি শিশু আল-হাশর/ ফাইল ছবি
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অনলাইন মাল্টিমিডিয়া নিউজপোর্টাল বার্তা২৪.কম এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাঁশের খাঁচায় বড় হয়ে উঠা বগুড়ার সাড়িয়াকান্দি উপজেলার শিশু আল-হাশরের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (১৮ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সারিয়াকান্দি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক শিশুটিকে দেখতে যান।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাইম হোসাইন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে শিশুটির বাড়িতে যাই। পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শিশুটি প্রতিবন্ধী হিসেবে শনাক্ত হলে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সাজেদুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শিশুটিকে আজকে হাসপাতালে ভর্তির উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু বাড়িতে কোনো পুরুষ অভিভাবক না থাকায় শিশুটিকে নিয়ে আসা যায়নি। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি করে তার চিকিৎসা শুরু হবে। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।’

উল্লেখ্য, সারিয়াকান্দি উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের জোরগাছা পূর্বপাড়া গ্রামের সুজন ইসলামের ছেলে আল হাশর (৭) জন্মের পর মাঝে মাঝে জ্বর দেখা দিত, সব সময় শরীর ও মাথা গরম থাকতো।

ঢাকা এবং বগুড়ায় অনেক চিকিৎসা করানো হয়।এদিকে শিশুটি বড় হওয়ার সাথে সাথে দেখা দেয় নতুন নতুন সমস্যা। যে কাউকে দেখলে আক্রমণ করে, একা ছেড়ে দিলে দেয়াল কিম্বা শক্ত কোনো বস্তুর সাথে মাথা আঘাত করে। সম বয়সীদের সাথে খেলাধুলা না করে সব সময় নিজেকে আড়াল করে রাখে।

এমন অবস্থায় দেড় বছর আগে দাম্পত্য কলহের কারণে আল হাশরের বাবা-মা আলাদা হয়ে যান। বাবা সুজন ইসলাম ও মা ইতিমনি খাতুন ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন। বাবা সুজন ইসলাম অসুস্থ ছেলেকে রেখে যান গ্রামের বাড়িতে শিশুটির দাদি খালেদা বেওয়ার কাছে।

খালেদা বেওয়া জানান, বাবা মা কাছে না থাকায় শিশুটি দেখাশোনা করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। এই কারণে বাড়ির আঙ্গিনায় বাঁশের খাচা তৈরি করে খড় বিছিয়ে সেখানে রাখা হয় সারাদিন। বাঁশের এই খাঁচার মধ্যেই চলে তার খেলাধুলা ও খাওয়া-দাওয়া। সন্ধ্যার পর তাকে ঘরে নেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

ফেনীতে বিএনপির ৮ নেতা আটক

ফেনীতে বিএনপির ৮ নেতা আটক
ছবি: সংগৃহীত

ফেনী জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক গাজী হাবিব উল্যাহ মানিকসহ দলের অঙ্গ সংগঠনের আট নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাতে শহরের মিজান পাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃত বাকিদের মধ্যে জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন জসিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, ফেনী পৌর যুবদলের সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন বাবরের পরিচয় জানা গেছে। আর বাকি চারজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন তাদেরকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডানাহীন সেই পাখি এইচএসসিতে পেলেন জিপিএ ৪.৩৩

ডানাহীন সেই পাখি এইচএসসিতে পেলেন জিপিএ ৪.৩৩
পুরনো ছবি

ফরিদপুরের নাঈমা সুলতানা পাখি। আর দশ জনের মতো নয়। একজন বিশেষ মানুষ। সব থাকতেও যেন কি যেন নেই। তাতে কি, পাখিকে দমিয়ে রাখা যায়নি। পাখি উড়ছে নিরবধি। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পেয়েছেন জিপিএ ৪.৩৩।

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের নাদের হোসেন ও শাহেদা বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান নাঈমা সুলতানা পাখি। জন্ম থেকে নানা রোগ ছিল দেহে। চিকিৎসার পর চিকিৎসা চলেছেই। এক পর্যায়ে বাবা-মা জানতে পারলেন অন্যসব রোগ ভালো হলেও পাখি উচ্চতায় খুব একটা লম্বা হবেন না। পাখির ২০ বছর বয়স, উচ্চতা মাত্র ২৮ ইঞ্চি।

পাখি পারিবারিক ও সামাজিক বাধা পেরিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। ফরিদপুর মুসলিম মিশন কলেজ থেকে ২০১৯ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ব্যবসা বাণিজ্য শাখা থেকে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে পাখি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘বড় হয়ে সরকারি চাকরি করতে চাই। বিসিএস ক্যাডার হতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘৯ বছর আগে বাবা যখন অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে গেলো তখন আমার পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু মা সব সময় পাশে ছিল। আর আমিও চেষ্টা করেছি। কখনো ছটো মনে করিনি নিজেকে। মানুষ হিসেবে লেখাপড়া করে গেছি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563563395502.jpg

পাখি বলেন, ‘বাবার যে জমি জমা আছে সেসব বর্গা দিয়ে যে টাকা পয়সা পাই, তা দিয়ে কোনো রকম সংসার চলছে। তার উপর তিন বোনের লেখাপড়া চালানো মায়ের জন্য কষ্টকর। তবে আমি সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা ও উপবৃত্তি পাই। তা দিয়ে আমার লেখাপড়ার অনেকটা সহায়ক হয়। সকল বাধা পেরিয়ে আমার স্বপ্ন নিয়ে লেখাপড়া করে আমি এগিয়ে চলছি। আমি সকলের দোয়া চাই।’

পাখির মা শাহেদা বেগম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘পাখির আরও দুটি বোন আছে মেজ বোন হাফছা এবার এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ছোট বোন ছামিয়া পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। স্বামী দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী।’

পাখির কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল মামুন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম বলেন, পাখি হয়তো আর দশ জনের মতো নয়। ক্লাসে প্রাণচাঞ্চল্য থাকতো সে। দেখা হলেই সবাইকে সালাম দেয়। লেখাপড়াও ভালো।’

তিনি জানান, পাখির লেখাপড়ার সুবিধার্থে মুসলিম মিশনে ফ্রিতে থাকা ও খাওয়া এবং লেখাপড়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু এবার পাশ করে অনার্সে ভর্তি হলে পাখির আরও সাহায্যের প্রয়োজন হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র