Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বার্তা২৪ এ সংবাদ প্রকাশ: বাঁশের খাঁচা থেকে হাসপাতালে আল-হাশর

বার্তা২৪ এ সংবাদ প্রকাশ: বাঁশের খাঁচা থেকে হাসপাতালে আল-হাশর
সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আল-হাশর, ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অবশেষে চিকিৎসা শুরু হয়েছে বাঁশের খাঁচায় আটকে রাখা শিশু আল-হাশরের (৭)। মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর আগে সকাল ১১টার দিকে দাদি খালেদা বেওয়ার কোলে চড়ে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে আসে আল-হাশর।

হাসপাতাল ক্যাম্পাসে শিশুটিকে ছেড়ে দিলে দেখা যায়, মাটিতে মাথা আছড়ে আঘাত করছে। কেউ কাছে গেলে তার উপরও চড়াও হচ্ছে। দুপুর ১টার দিকে জোরগাছা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. তোফায়েল হোসেন ফেরদৌসের সহযোগিতায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. উত্তম কুমার রায় শিশু ওয়ার্ডে আল-হাশরকে ভর্তি করে নেন। বর্তমানে শিশুটি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ৯নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আগের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) দেখে ডা. তোফায়েল হোসেন ফেরদৌস বার্তা২৪.কমকে বলেন, শিশুটি মানসিক সমস্যায় ভুগছে। মা-বাবার দাম্পত্য কলহের মধ্যে বেড়ে ওঠা শিশুদের মধ্যে এ ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। স্বাস্থ্য বিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা বাড়িতে গিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর উদ্যোগ নেই।

আল-হাশরের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডা. সাজেদুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, হাসপাতালে প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর উন্নত চিকিৎসার ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নিউজ পোর্টাল বার্তা২৪.কমে বাঁশের খাঁচায় বেড়ে ওঠা শিশু আল-হাশরকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. সাজেদুল ইসলাম ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাইম হোসাইন সারিয়াকান্দি উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের জোরগাছা গ্রামে শিশুটির বাড়িতে যান। কিন্তু পুরুষ অভিভাবক না থাকায় ওই দিন রাতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জেরাগাছা গ্রামের সুজন ইসলাম ও ইতিমনি খাতুনের একমাত্র সন্তান আল-হাশর। বাবা-মা দুজনেই ঢাকায় পোশাক কারখানায় কর্মরত। বাবা-মার সাথে থাকা অবস্থায় শিশুটি মানসিক সমস্যায় ভুগতো। দেড় বছর আগে দাম্পত্য কলহের কারণে সুজন ইসলাম ও ইতিমনি ঢাকা থেকেই আলদাভাবে বসবাস শুরু করেন। তখন সুজন ইসলাম আল-হাশরকে গ্রামের বাড়িতে রেখে যায়।

সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর আল-হাশরের দাদি খালেদা বেওয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, মা ইতিমনি সন্তানের কোনো খোঁজ খবর রাখে না। আমি তাকে মানুষ করছি। কিন্তু তাকে ছেড়ে দিয়ে রাখা যায় না। হাতের কাছে যা পায় তাই দিয়ে মাথায় আঘাত করে। অনেক চিকিৎসা করানো হয়েছে, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে বাঁশের খাচায় আটকে রাখতাম।

আপনার মতামত লিখুন :

ফেনীতে বিএনপির ৮ নেতা আটক

ফেনীতে বিএনপির ৮ নেতা আটক
ছবি: সংগৃহীত

ফেনী জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক গাজী হাবিব উল্যাহ মানিকসহ দলের অঙ্গ সংগঠনের আট নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাতে শহরের মিজান পাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃত বাকিদের মধ্যে জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন জসিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, ফেনী পৌর যুবদলের সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন বাবরের পরিচয় জানা গেছে। আর বাকি চারজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন তাদেরকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডানাহীন সেই পাখি এইচএসসিতে পেলেন জিপিএ ৪.৩৩

ডানাহীন সেই পাখি এইচএসসিতে পেলেন জিপিএ ৪.৩৩
পুরনো ছবি

ফরিদপুরের নাঈমা সুলতানা পাখি। আর দশ জনের মতো নয়। একজন বিশেষ মানুষ। সব থাকতেও যেন কি যেন নেই। তাতে কি, পাখিকে দমিয়ে রাখা যায়নি। পাখি উড়ছে নিরবধি। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পেয়েছেন জিপিএ ৪.৩৩।

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের নাদের হোসেন ও শাহেদা বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান নাঈমা সুলতানা পাখি। জন্ম থেকে নানা রোগ ছিল দেহে। চিকিৎসার পর চিকিৎসা চলেছেই। এক পর্যায়ে বাবা-মা জানতে পারলেন অন্যসব রোগ ভালো হলেও পাখি উচ্চতায় খুব একটা লম্বা হবেন না। পাখির ২০ বছর বয়স, উচ্চতা মাত্র ২৮ ইঞ্চি।

পাখি পারিবারিক ও সামাজিক বাধা পেরিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। ফরিদপুর মুসলিম মিশন কলেজ থেকে ২০১৯ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ব্যবসা বাণিজ্য শাখা থেকে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে পাখি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘বড় হয়ে সরকারি চাকরি করতে চাই। বিসিএস ক্যাডার হতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘৯ বছর আগে বাবা যখন অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে গেলো তখন আমার পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু মা সব সময় পাশে ছিল। আর আমিও চেষ্টা করেছি। কখনো ছটো মনে করিনি নিজেকে। মানুষ হিসেবে লেখাপড়া করে গেছি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563563395502.jpg

পাখি বলেন, ‘বাবার যে জমি জমা আছে সেসব বর্গা দিয়ে যে টাকা পয়সা পাই, তা দিয়ে কোনো রকম সংসার চলছে। তার উপর তিন বোনের লেখাপড়া চালানো মায়ের জন্য কষ্টকর। তবে আমি সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা ও উপবৃত্তি পাই। তা দিয়ে আমার লেখাপড়ার অনেকটা সহায়ক হয়। সকল বাধা পেরিয়ে আমার স্বপ্ন নিয়ে লেখাপড়া করে আমি এগিয়ে চলছি। আমি সকলের দোয়া চাই।’

পাখির মা শাহেদা বেগম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘পাখির আরও দুটি বোন আছে মেজ বোন হাফছা এবার এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ছোট বোন ছামিয়া পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। স্বামী দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী।’

পাখির কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল মামুন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম বলেন, পাখি হয়তো আর দশ জনের মতো নয়। ক্লাসে প্রাণচাঞ্চল্য থাকতো সে। দেখা হলেই সবাইকে সালাম দেয়। লেখাপড়াও ভালো।’

তিনি জানান, পাখির লেখাপড়ার সুবিধার্থে মুসলিম মিশনে ফ্রিতে থাকা ও খাওয়া এবং লেখাপড়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু এবার পাশ করে অনার্সে ভর্তি হলে পাখির আরও সাহায্যের প্রয়োজন হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র