Alexa

রুম না পেয়ে ফুটপাতে পর্যটক

রুম না পেয়ে ফুটপাতে পর্যটক

হোটেলে হোটেলে ঘুরে রুম পাচ্ছে না পর্যটকরা, ছবি: বার্তা২৪.কম

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে টানা তিনদিনের ছুটির ফাঁদে পড়েছে দেশ। ছুটির দিনগুলো পরিবার বা প্রিয়জনের সঙ্গে কাটাতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের নগরী কক্সবাজারে ছুটে এসেছে ভ্রমণপিপাসুরা। ভ্রমণ করছেন পাহাড়-সমূদ্রঘেরা মেরিনড্রাইভ সড়ক ও সৈকতের ১১টি পয়েন্টে। আর আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিন্তু রাতে হোটেল-মোটেলে রুম না পেয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে অবস্থান নিয়েছে হাজারও পর্যটক।

জানা যায়, টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে সাগরের নীল জলরাশি ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন প্রায় ৩ লাখ পর্যটক। শহরের ৪ শতাধিকের বেশি হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে এখন ‘ঠাঁই নেই’ অবস্থা। পর্যটকরা সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা, ইনানী, হিমছড়িসহ ৬টি পয়েন্ট ছাড়াও ভ্রমণ করেছেন, দরিয়ানগর, হিমছড়ি ঝর্না, রামুর বৌদ্ধ বিহার, রেডিয়েন্ট ফিশ ওর্য়াল্ড, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া ও সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। পর্যটকদের সরব উপস্থিতিতে সমুদ্রের পাড় যেন উৎসবে পরিণত হয়েছে। কেউ রুম পেয়ে আনন্দে মেতে উঠলেও না পেয়ে হতাশ অর্ধ-লক্ষাধিক পর্যটক।

বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক পৌনে ১১টা। সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছে ঢাকা থেকে আগত দেড় শতাধিক পর্যটক। সকাল থেকে হোটেল-মোটেলে চেষ্টা করেও রুম পাননি। এখন শুধুই ভরসা ফুটপাত। এরকম বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত দেড় লক্ষাধিক পর্যটক সড়কের পাশে অবস্থান করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/21/1550770863039.jpg

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মুবিনুল হক জানান, ছুটি পেয়ে খুশি হয়েছিলাম বন্ধু-বান্ধব মিলে বেড়াতে আসলাম। কিন্তু রুম না পাওয়ায় পুরো ভ্রমণের আনন্দই মাটি।

রুম না পেয়ে ফুটপাতে বসে থাকা শামসুল আলম বলেন, ছুটি পেয়ে আমরা বন্ধুরা গ্রুপ করে কক্সবাজার বেড়াতে এসেছি। এখানে না এলে বোঝা যাবে না এই জায়গা কতো সুন্দর। সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়ালেই মনে আনন্দ লাগে। কিন্তু রাতে সে আনন্দ মাটি করে দিলো হোটেল রুম। রুম না পেয়ে ১৭ বন্ধুসহ এখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি।

টাঙ্গাইল থেকে এসেছেন রায়সুল আবেদীন। তিনি বলেন, রুম এক ধরণের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। তারা পর্যটকদের জিম্মি করে বাড়তি ভাড়া দাবি করছে। যা নিয়মের চেয়ে যার গুণ বেশি। আমরা এর প্রতিকার চাই।

হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম বার্তা ২৪.কমকে জানান, বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা অঙ্গীকারাবদ্ধ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নৈশ্যপ্রহরীসহ পুরো হোটেল-মোটেল জোন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যাতে কেউ পর্যটকের ক্ষতি করতে না পারে।

রুমের বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক আগে থেকে অনলাইনের মাধ্যমে রুম বুকিং চলছে। যেহেতু বেশিরভাগ অনলাইনে বুকিং এখানে বাড়তি টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের এসপি মো. জিল্লুর রহমান বার্তা ২৪.কমকে বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটেছে কক্সবাজারে। বিশেষ দিবসে আগত পর্যটকরা যেন কোনো ধরনের হয়রানি কিংবা দুর্ঘটনায় কবলে না পড়েন সেজন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পর্যটক জোনগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া পর্যটকদের তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :