Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

অবৈধ দখলে বারীণ মজুমদারের জন্মভিটা

অবৈধ দখলে বারীণ মজুমদারের জন্মভিটা
অবৈধ দখলে থাকা বারীণ মজুমদারের বাড়ির পুকুর / ছবি: বার্তা২৪
আরিফ আহমেদ সিদ্দিকী
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
পাবনা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বারীণ মজুমদার। শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রখ্যাত পণ্ডিত হিসেবে খ্যাত। পাবনা শহরের রাধানগর মজুমদার পাড়ায় মুজুমদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সংগীত শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে আজীবন সংগ্রামী এই শিল্পীর জন্মভিটা এখন ভূমিগ্রাসীদের অবৈধ দখলে। আর অযত্ন অবহেলায় ধ্বংস হচ্ছে তার সব স্মৃতি চিহ্ন। তাই স্মৃতি ধরে রাখতে শিগগিরই সংগ্রহশালা ও সংগীত একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি স্থানীয়দের।

তথ্যানুসারে, ১৯১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পাবনা পৌর এলাকায় রাধানগর মজুমদার পাড়ায় প্রখ্যাত জমিদার বংশ মজুমদার পরিবারে জন্ম নেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী ওস্তাদ বারীণ মজুমদার। জমিদার বাবা নীশেন্দ্রনাথ মজুমদার শাস্ত্রীয় সংগীতের ভক্ত ছিলেন। দেশ বিদেশের প্রখ্যাত শিল্পীদের নিয়ে বাড়িতে নিয়মিত বসত আসর। সেখান থেকেই সংগীতের প্রতি আসক্তি বারীণের। চর্চায় বাদ সাধেনি পরিবারও।

১৯৩৯ সালে লক্ষ্মৌ’র মরিস কলেজ থেকে সংগীতে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। দেশবিভাগের সময় ১৯৪৭ সালে ফিরে আসেন বাংলাদেশে। জমিদারির বিষয় সম্পত্তি ফেলে মন প্রাণ সপে দেন শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রসারে। তাঁর প্রচেষ্টাতেই ১৯৬৩ সালে ঢাকার কাকরাইলে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম সংগীত মহাবিদ্যালয়। তালিম দিয়েছেন বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতেও। সংগীত সাধনায় তাঁর খ্যাতি ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ে পুরো উপমহাদেশে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/22/1550844046954.JPG

অবদানের স্বীকৃতিতে পাকিস্তান আমলেই পেয়েছেন ‘তমঘায়ে ইমতিয়াজ’ খেতাব, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক, ২০০২ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার।

পাবনার খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী, আওয়ামী শিল্পগোষ্ঠীর সভাপতি প্রলয় চাকী বার্তা২৪.কমকে জানান, ছোটবেলা থেকে জমিদারির বিত্ত বিলাসেই বড় হয়েছেন বারীণ মজুমদার। বেদখলে থাকা রাধানগরের পুকুর ঘাটের জমিদার বাড়িতে তিনি আসলে আশেপাশের জেলা থেকে গুণী শিল্পী ও যন্ত্রীরা ছুটে আসতেন। মজুমদার পরিবারের দান করা জমিতেই গড়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ, রাধানগর মজুমদার একাডেমিসহ আরও নানা স্থাপনা।

তিনি বলেন, ‘সুর সাম্রাজ্যে নিমগ্ন থাকায় বিষয় সম্পত্তি নিয়ে ভাবনা ছিল না বারীন মজুমদারের। এমন উদাসীনতায় সমস্ত সম্পদ চলে যেতে শুরু করে ভূমিদস্যুদের দখলে। লজ্জায়, অভিমানে প্রতিবাদটুকু করেননি তিনি। এক সময় মাথা গোঁজার শেষ ঠাঁইটুকুও বেহাত হলে তিনি মৃত্যুর আগপর্যন্ত আর পাবনায় আসেননি।

বারীন মজুমদারের জেষ্ঠ্য পুত্র সংগীত পরিচালক পার্থ সারথি মজুমদার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘পাবনায় আমাদের পূর্বপুরুষের বাড়ি। আমাদের ওইসব জমি ভূমিগ্রাসীরা জাল কাগজ তৈরি করে দখল করে নেয়। যাদেরকেই বাবা আশ্রয় দিয়েছেন, তারাই বাবার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/22/1550844060874.jpg

বারীন মজুমদারের কনিষ্ঠ পুত্র জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী বাপ্পা মজুমদার বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষের মাটিতে আমাদের দাঁড়ানোর জায়গা নেই। আইনি লড়াইয়ে প্রতারণা প্রমাণিত হয়েছে। তারপরও অবৈধ দখলদাররা আমাদের সম্পত্তি ফিরিয়ে দিচ্ছেন না। এ ব্যপারে আমরা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহযোগিতা চাইছি।’

পাবনার জেষ্ঠ্য আইনজীবী পুলক কুমার চক্রবর্তী জানান, ১৯৭৮ সালে বারীন মজুমদারের মা মৃত কমলা রাণী মজুমদারকে জীবিত দেখিয়ে ২০০৫ সালে শোলে সূত্রে ডিক্রি করে বারীণ মজুমদারের সম্পত্তি নিজেদের করে নিতে চেষ্টা করে একটি চক্র। পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জালিয়াতির প্রমাণ পেয়ে এ সম্পত্তি বারীণ মজুমদারের উত্তরাধিকারীদের বলে রায় দিয়েছেন।

অভিযুক্তরা নির্ধারিত সময়ে দখল না ছাড়ায়, প্রথম সাব জজ আদালতে একটি উচ্ছেদ মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা পেলে বারীণ মজুমদারের সম্পত্তি উত্তরসূরিদের ফিরিয়ে দিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্মৃতি ধরে রাখতে যে কোনো উদ্যোগে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

এদিকে পাবনাবাসীর প্রত্যাশা বারীণ মজুমদার তথা তার উত্তরাধিকাররা পাবনার সম্পদ। তাদেরকে পাবনামুখি করতে, পাবনায় তাদের পদচারণার দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন :

পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পায়নি বন্যার্তরা, হতবাক প্রতিমন্ত্রী

পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পায়নি বন্যার্তরা, হতবাক প্রতিমন্ত্রী
ত্রাণ বিতরণকালে বন্যার্তদের উদ্দেশে কথা বলছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বন্যার্তদের পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট না দেয়ার কথা জানতে পেরে হতবাক হয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। এ সময় বন্যার্তদের মধ্যে দ্রুত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার কসবা এলাকায় (বিবিয়ানা পাওয়ার প্ল্যান্টের কাছে) একটি মাঠে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট না দেয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করেন তিনি।

ত্রাণ বিতরণকালে বন্যার্তদের উদ্দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, ‘আপনারা সবাই পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পেয়েছেনতো ?’ এ সময় ত্রাণ নিতে আসা কয়েক শতাধিক নারী পুরুষ এক সঙ্গে বলেন না, পাইনি’। বিষয়টি শুনে অনেকটা হতবাক হন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি প্রশাসনের লোকজনের দিকে তাকিয়ে থাকেন। পরে বন্যার্তদের পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেন।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদ-বিন হাসান বলেন, ‘আমি যথেষ্ট পরিমাণে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পাইনি। এ কারণে শুধুমাত্র আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে দিতে পেরেছি। মাঠ পর্যায়ে দেয়া সম্ভব হয়নি।’

কুশিয়ারা খনন ও বাঁধ নির্মাণে ৫১২ কোটি টাকার প্রকল্প

কুশিয়ারা খনন ও বাঁধ নির্মাণে ৫১২ কোটি টাকার প্রকল্প
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

কুশিয়রার নদীর পাঁচ কিলোমিটার জায়গায় বাঁধ নির্মাণ ও খননের জন্য ৫১২ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম।

তিনি বলেছেন, ‘হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় পারকুল থেকে কসবা পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর পাঁচ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামতে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। চলতি বছরেই এই কাজ শুরু হতে পারে। সফলভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্ষাকালে আর বাড়ি-ঘর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলার কসবা এলাকায় বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণকালে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

এনামুল হক শামীম বলেন, ‘বন্যার এক সপ্তাহ পূর্বেই আমরা সতর্ক বার্তা পেয়েছি। সেই অনুযায়ী দুর্যোগ মোকাবেলায় শুকনো খাবার ও নগদ টাকাসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ মজুদ করে সব জেলায় পৌঁছে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে ভালবাসেন বলেই বন্যা দুর্গতদের পাশে মন্ত্রীদের পাঠিয়েছেন। তাঁর মতো পৃথিবীর আর কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী জনগণের পাশে দাঁড়ান না।’

Nabiganj

এসময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বন্যার্তদের পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। অনুষ্ঠানে এক হাজার বন্যার্তের মধ্যে ত্রাণ দেওয়া হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে- চাল, ডাল, তেল, মসলা, নুডলস, লবণ, সেমাই ইত্যাদি।

এতে বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আলমগীর চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান প্রমুখ।

আরও পড়ুন: পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পায়নি বন্যার্তরা, হতবাক প্রতিমন্ত্রী

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র