Alexa

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পথের বাধা সংসদ উপনেতার ছেলে লাবু!

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পথের বাধা সংসদ উপনেতার ছেলে লাবু!

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামান সরদারের পাশে নেই আওয়ামী লীগ নেতারা। অপরদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী শাহ জামান বাবুলের সঙ্গে জোট বেধেছে তারা।

নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর রাজনৈতিক প্রতিনিধি পুত্র শাহদাব আকবর চৌধুরী লাবুর নির্দেশের কারণে তারা বাধ্য হচ্ছেন বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে। লাবু তাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ যাকেই মনোনয়ন দিক না কেন আমার প্রার্থী বাবুল কাজী। তাকে জেতাতে হবে।

আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামান সরদার জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি। তিনি নগরকান্দা উপজেলার সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। আ.লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী শাহ জামান বাবুল কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক। বিত্তশালী হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রভাব রয়েছে তার।

মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার সময় মনিরুজ্জামানের পাশে উপজেলা আ.লীগের বর্তমান কমিটির কোন সদস্য ছিলেন না। তার পাশে ছিলেন উপজেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য খন্দকার জাকির হোসেন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার আলতাফ হোসেন।

অথচ আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শাহ জামানের সঙ্গে ছিলেন উপজেলা আ.লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুস সোবাহান মিয়া, উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি কালাম কাজী, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, উপজেলা আ.লীগের দপ্তর সম্পাদক আরিফুর রহমান পথিক, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আরিফ হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান, কাইচাইল ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেনসহ অনেকে।

উপজেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি খন্দকার জাকির হোসেন জানান, আমার রক্তে আ.লীগ। আমি নৌকার সঙ্গে বেঈমানী করতে পারি না। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে আ.লীগের নেতাদের না থাকার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শাহদাব আকবর আ.লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের ফোন করে বলেছেন, দল যাকেই মনোনয়ন দিক না কেন, আমার প্রার্থী শাহ জামান বাবুল। আপনাদের তার পক্ষে কাজ করতে হবে।’ জাকির হোসেন আরও বলেন, ‘তবে শাহদাব আমাকে কোন ফোন করেনি।’

কেন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন জানতে চাইলে উপজেলা যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী যাকে মার্কা দিয়েছেন আমাদের সকলে মিলে তার পক্ষে কাজ করা উচিত। কিন্তু আমরা তা করতে পারছি না ছোট মামার (লাবু) জন্য । তিনি বলেছেন, দল অন্য কাউকে নৌকা প্রতীক দিলেও তার প্রার্থী বাবুল কাজী।

আ.লীগ প্রার্থী মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলা ও ইউনিয়ন আ.লীগের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছে নির্বাচনে তাকে সাহায্য করতে পারবেন না। সংসদ উপনেতার ছেলে লাবু চৌধুরী স্থানীয় নেতাদের ঢাকা থেকে ডেকে নিয়ে নৌকার পক্ষে নির্বাচন না করে শাহ জামানের পক্ষে নির্বাচন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই অবস্থায় নেতা-কর্মীরা শাহদাব আকবরের ভয়ে তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং কেউ কেউ নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছেন।

এ অভিযোগের ব্যাপারে শাহদাব আকবর চৌধুরীকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। কথা হয় সংসদ উপনেতার এপিএস শফিউদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, শাহদাব প্রকাশ্যে নৌকার বিরোধিতা করেননি। তবে তার পছন্দের কথা তিনি গোপনে কাউকে কাউকে হয়তো জানিয়ে থাকতে পারেন। তিনি (শাহদাব) নৌকা বিরোধী কোন কাজও করছেন না বলেও দাবি করেন শফিউদ্দিন চৌধুরী।

উপজেলা নির্বাচনের ২য় ধাপে ১৮ই মার্চ নগরকান্দা উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী। এরা হলেন- আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জমান সরদার, আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী শাহ জামান, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য তালুকদার নাজমুল ইসলাম ও জাকের পার্টির খাইরুজ্জামান টিটু।