Alexa

আটরশি দরবারের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে

আটরশি দরবারের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে

ছবি: সংগৃহীত

রেজাউল করিম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরেই দরবারের নেতৃত্ব নিয়ে আটরশির পীরের দুই ছেলে পীরজাদা আলহাজ্ব খাজা মাহ্ফুজুল হক ও পীরজাদা আলহাজ্ব খাজা মোস্তফা আমীর ফয়সালের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

তবে দুই ভাইয়ের পক্ষে বিপক্ষে মুরিদানদের দুটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও তা  এতদিন ‍গুঞ্জন ছিলো, এবার তা প্রকাশ্যে আসলো।

গত রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে পীরের নাতি জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সালের ছেলে দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সায়েম আমালী ফয়সালের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে অন্তর্দ্বন্দ্বের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/26/1551158684699.jpg

তিনি তার ফেসবুক পোস্টে যা লিখেছেন তা তুলে ধরা হলো-  “আপনাদের কাছে বিচার চাই - ড. সায়েম আমীর ফয়সাল।

এরপর তিনি লেখেন-আমার দাদা বিশ্বওলী হযরত শাহসূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু:ছে:আ:) কেবলাজান ছাহেবের পবিত্র হাতে তিল-তিল করে গড়ে তোলা বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরীফ আজ ষড়যন্ত্রের শিকার এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি। এমনকি, তারা বিশ্বওলীর পবিত্র রক্তধারা ও তিনার জেসমানী আওলাদের অসম্মান, অপমান, লাঞ্ছিত করতেও পিছপা হয় নাই। পাশাপাশি স্থানীয় পেটোয়া বাহিনী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক গুন্ডাদের ছত্রছায়ায় নির্লজ্জভাবে বিশ্বজাকের মঞ্জিল ফাউন্ডেশন, জাকের পার্টি ও এর সহযোগী সংগঠনসমুহ বিশেষ করে জাকের পার্টি মহিলা ও ছাত্রীফ্রন্টের সম্মানিতা মা-বোন-সদস্যা-নেত্রীদের উপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে সারা বিশ্বের জাকেরানদের আধ্যাত্মিক রাজধানী বিশ্ব জাকের মঞ্জিল থেকে বিতারিত করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু ৩২ নাম্বার থেকে সারা বাংলাদেশ পরিচালনা করেছেন। বঙ্গবন্ধু ছাড়া যেমন আওয়ামী লীগ চিন্তা করা যায় না, তেমনি ভাবে মোস্তফা আমীর ফয়সল মোজাদ্দেদী ছাড়া বিশ্ব জাকের মঞ্জিল এবং জাকের পার্টি হতে পারে না। বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরীর প্রতিষ্ঠান কিন্তু ডেকোরেশন এবং লাইটিং না। বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরীর প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মোস্তফা আমীর ফয়সল মোজাদ্দেদী। সাজানো বাগানে কিন্তু হুট করে যে কেউ বসে জেতে পারে। আমরা অত্যাচার-অবিচার সবকিছু অতিক্রম করে এসেছি। আমাদের প্রতিপক্ষ বিএনপি-জামাতকেও অতিক্রম করে এসেছি। অথচ, আজকের এই সুদিনে, সুবিধাবাদীরা আপনাদের ভাইজানকেই চিনেনা। ৩০ বছরের পরিশ্রমের ফসল বিফলে যেতে দেয়া যায় না - কেউ যাবে তো কেউ যাবে না, তা হবে না তা হবে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/26/1551158701905.jpg

বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরীর রক্ত আমার শরীরে প্রবাহমান, বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে আমার জন্ম। যে মহা পবিত্র পাক দরবার শরীফের পবিত্র মাটিতে আমার বেড়ে উঠা, সেই পবিত্র দরবারেও নাকি আমাকে অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হবে। আপনারা আমাকে সুশিক্ষিত করে তুলেছেন, আমাকে সকাল থেকে রাতের খাবার খাইয়েছেন। আপনারা আমাকে গাড়ি দিয়েছেন, বাড়ি দিয়েছেন, সম্মান দিয়েছেন। তাহলে আপনাদেরকে নিয়ে কেন আমাকে দরবারে ঢুকতে দেয়া হবেনা? আমরা সম্মান করি বলেই কি তার পরিণাম এই হবে? ন্যায্য অধিকার চাওয়া কি আমার দোষ ছিল?

নিজ ভূমিতে আমাদের সকল প্রকার ন্যায্য অধিকার পুনর্বহাল করা এখন সময়ের দাবি। এই স্বার্থান্বেষী অত্যাচারী নরাধমদের যথাযথ ও সুকঠিন বিচারের দায়ভার আপনাদের উপরই ছেড়ে দেয়া হলো। মনে রাখবেন, আপনারা সারা দেশের জাকেরান আশেকান ও জাকের পার্টির প্রত্যেক সদস্যই একেকজন বিশ্ব জাকের মঞ্জিল ফাউন্ডেশনের সদস্য ও সম্মানিত অংশীদার। তাই, মহা পবিত্র বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরীফ, বিশ্ব জাকের মঞ্জিল ফাউন্ডেশন ও বিশ্বওলী কেবলাজান হুজুরের রেখে যাওয়া পবিত্র আমানতের যথাযথ সংরক্ষণ আপনাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। একতার বলে হও সবে বলিয়ান উরিবে আকাশে তব বিজয় নিশান।”

এ বিষয়ে মাহফুজুল হকের পক্ষে থাকা দরবার শরীফের এক খাদেম বাকু মল্লিক বলেন, সায়েম আমীর ফয়সাল কেন এমন বিষয় ফেসবুকে তুলে ধরলো তিনিই শুধু এ বিষয়ে বলতে পারেন। তারা বিপথগামী হয়ে গেছে। না হলে এমন করতে পারতেন না। ফেসবুকের লেখাটা দেখে অবাক হয়েছি। এমন কোন ঘটনা ঘটে নাই। মূলত তারা নেতৃত্ব চান। নেতৃত্ব পেতেও পারেন তবে তা নিয়ম মেনে। ওনারা নিয়ম মানতে চাইছেন না। মিথ্যা কথা ছড়িয়ে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করছেন। 

জাকের পার্টির প্রেস সচিব শামীম হায়দার বার্তা২৪.কম কে বলেন, দরবারের ভিতরে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী প্রকৃতির মানুষ অবস্থান নিয়েছে। তারা অনেক নারী কর্মী ও মুরীদানদের উপর হামলা করে বের করে দিয়েছে। সেখানে খুব বাজে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সাব্বির হাসান নামের এক ব্যক্তি বলেন, নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব অনেক দিন ধরেই চলছিল। কিন্তু তা প্রকাশ্যে তেমন আসেনি। গত দুই মাস হলো মোস্তফা আমীর ফয়সাল ও তার পরিবারের সদস্যরা আটরশি দরবারে আসছেন না। তারা হুজুরের বনানী দরবার শরীফে অবস্থান নিয়েছেন। এমন বিভাজনের কারণে এবার দরবার শরীফে শনিবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের ওরশে তেমন ভক্তবৃন্দ আসেন নাই।

তিনি বলেন, আগে লাখ লাখ মানুষ আসতেন। আশেপাশের এলাকায় ভিড় পড়ে যেতো। এবার সেখানে বেশি হলে ৫০ হাজার লোকের সমাগম হয়েছে।

জেলা এর আরও খবর