Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

আটরশি দরবারের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে

আটরশি দরবারের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে
ছবি: সংগৃহীত
রেজাউল করিম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট


  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল দরবার শরীফের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরেই দরবারের নেতৃত্ব নিয়ে আটরশির পীরের দুই ছেলে পীরজাদা আলহাজ্ব খাজা মাহ্ফুজুল হক ও পীরজাদা আলহাজ্ব খাজা মোস্তফা আমীর ফয়সালের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

তবে দুই ভাইয়ের পক্ষে বিপক্ষে মুরিদানদের দুটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও তা  এতদিন ‍গুঞ্জন ছিলো, এবার তা প্রকাশ্যে আসলো।

গত রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে পীরের নাতি জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সালের ছেলে দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সায়েম আমালী ফয়সালের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে অন্তর্দ্বন্দ্বের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/26/1551158684699.jpg

তিনি তার ফেসবুক পোস্টে যা লিখেছেন তা তুলে ধরা হলো-  “আপনাদের কাছে বিচার চাই - ড. সায়েম আমীর ফয়সাল।

এরপর তিনি লেখেন-আমার দাদা বিশ্বওলী হযরত শাহসূফী খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু:ছে:আ:) কেবলাজান ছাহেবের পবিত্র হাতে তিল-তিল করে গড়ে তোলা বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরীফ আজ ষড়যন্ত্রের শিকার এবং স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি। এমনকি, তারা বিশ্বওলীর পবিত্র রক্তধারা ও তিনার জেসমানী আওলাদের অসম্মান, অপমান, লাঞ্ছিত করতেও পিছপা হয় নাই। পাশাপাশি স্থানীয় পেটোয়া বাহিনী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক গুন্ডাদের ছত্রছায়ায় নির্লজ্জভাবে বিশ্বজাকের মঞ্জিল ফাউন্ডেশন, জাকের পার্টি ও এর সহযোগী সংগঠনসমুহ বিশেষ করে জাকের পার্টি মহিলা ও ছাত্রীফ্রন্টের সম্মানিতা মা-বোন-সদস্যা-নেত্রীদের উপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে সারা বিশ্বের জাকেরানদের আধ্যাত্মিক রাজধানী বিশ্ব জাকের মঞ্জিল থেকে বিতারিত করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু ৩২ নাম্বার থেকে সারা বাংলাদেশ পরিচালনা করেছেন। বঙ্গবন্ধু ছাড়া যেমন আওয়ামী লীগ চিন্তা করা যায় না, তেমনি ভাবে মোস্তফা আমীর ফয়সল মোজাদ্দেদী ছাড়া বিশ্ব জাকের মঞ্জিল এবং জাকের পার্টি হতে পারে না। বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরীর প্রতিষ্ঠান কিন্তু ডেকোরেশন এবং লাইটিং না। বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরীর প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মোস্তফা আমীর ফয়সল মোজাদ্দেদী। সাজানো বাগানে কিন্তু হুট করে যে কেউ বসে জেতে পারে। আমরা অত্যাচার-অবিচার সবকিছু অতিক্রম করে এসেছি। আমাদের প্রতিপক্ষ বিএনপি-জামাতকেও অতিক্রম করে এসেছি। অথচ, আজকের এই সুদিনে, সুবিধাবাদীরা আপনাদের ভাইজানকেই চিনেনা। ৩০ বছরের পরিশ্রমের ফসল বিফলে যেতে দেয়া যায় না - কেউ যাবে তো কেউ যাবে না, তা হবে না তা হবে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/26/1551158701905.jpg

বিশ্বওলী খাজাবাবা ফরিদপুরীর রক্ত আমার শরীরে প্রবাহমান, বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে আমার জন্ম। যে মহা পবিত্র পাক দরবার শরীফের পবিত্র মাটিতে আমার বেড়ে উঠা, সেই পবিত্র দরবারেও নাকি আমাকে অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হবে। আপনারা আমাকে সুশিক্ষিত করে তুলেছেন, আমাকে সকাল থেকে রাতের খাবার খাইয়েছেন। আপনারা আমাকে গাড়ি দিয়েছেন, বাড়ি দিয়েছেন, সম্মান দিয়েছেন। তাহলে আপনাদেরকে নিয়ে কেন আমাকে দরবারে ঢুকতে দেয়া হবেনা? আমরা সম্মান করি বলেই কি তার পরিণাম এই হবে? ন্যায্য অধিকার চাওয়া কি আমার দোষ ছিল?

নিজ ভূমিতে আমাদের সকল প্রকার ন্যায্য অধিকার পুনর্বহাল করা এখন সময়ের দাবি। এই স্বার্থান্বেষী অত্যাচারী নরাধমদের যথাযথ ও সুকঠিন বিচারের দায়ভার আপনাদের উপরই ছেড়ে দেয়া হলো। মনে রাখবেন, আপনারা সারা দেশের জাকেরান আশেকান ও জাকের পার্টির প্রত্যেক সদস্যই একেকজন বিশ্ব জাকের মঞ্জিল ফাউন্ডেশনের সদস্য ও সম্মানিত অংশীদার। তাই, মহা পবিত্র বিশ্ব জাকের মঞ্জিল পাক দরবার শরীফ, বিশ্ব জাকের মঞ্জিল ফাউন্ডেশন ও বিশ্বওলী কেবলাজান হুজুরের রেখে যাওয়া পবিত্র আমানতের যথাযথ সংরক্ষণ আপনাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। একতার বলে হও সবে বলিয়ান উরিবে আকাশে তব বিজয় নিশান।”

এ বিষয়ে মাহফুজুল হকের পক্ষে থাকা দরবার শরীফের এক খাদেম বাকু মল্লিক বলেন, সায়েম আমীর ফয়সাল কেন এমন বিষয় ফেসবুকে তুলে ধরলো তিনিই শুধু এ বিষয়ে বলতে পারেন। তারা বিপথগামী হয়ে গেছে। না হলে এমন করতে পারতেন না। ফেসবুকের লেখাটা দেখে অবাক হয়েছি। এমন কোন ঘটনা ঘটে নাই। মূলত তারা নেতৃত্ব চান। নেতৃত্ব পেতেও পারেন তবে তা নিয়ম মেনে। ওনারা নিয়ম মানতে চাইছেন না। মিথ্যা কথা ছড়িয়ে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করছেন। 

জাকের পার্টির প্রেস সচিব শামীম হায়দার বার্তা২৪.কম কে বলেন, দরবারের ভিতরে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী প্রকৃতির মানুষ অবস্থান নিয়েছে। তারা অনেক নারী কর্মী ও মুরীদানদের উপর হামলা করে বের করে দিয়েছে। সেখানে খুব বাজে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সাব্বির হাসান নামের এক ব্যক্তি বলেন, নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব অনেক দিন ধরেই চলছিল। কিন্তু তা প্রকাশ্যে তেমন আসেনি। গত দুই মাস হলো মোস্তফা আমীর ফয়সাল ও তার পরিবারের সদস্যরা আটরশি দরবারে আসছেন না। তারা হুজুরের বনানী দরবার শরীফে অবস্থান নিয়েছেন। এমন বিভাজনের কারণে এবার দরবার শরীফে শনিবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের ওরশে তেমন ভক্তবৃন্দ আসেন নাই।

তিনি বলেন, আগে লাখ লাখ মানুষ আসতেন। আশেপাশের এলাকায় ভিড় পড়ে যেতো। এবার সেখানে বেশি হলে ৫০ হাজার লোকের সমাগম হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

বগুড়ায় পৃথক ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজন আহত

বগুড়ায় পৃথক ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজন আহত
ছিনতাইয়ের ঘটনায় আহতরা, ছবি: বার্তা২৪.কম

কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে বগুড়া শহরে দুইটি পৃথক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নারীসহ আহত হয়েছেন চার জন। ছিনতাইকারীরা লুট করেছে নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা ও একটি সোনার চেইন।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে বগুড়া সরকারি শাহসুলতান কলেজের সামনে এবং রাতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অদূরে তেলিপুকুর নামক স্থানে পৃথক দুইটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

ছিনতাইকারীর কবলে পড়া গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসের ম্যানেজার ফরহাদ আলী (৩৭) বার্তা২৪.কমকে জানান, তিনি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থেকে মোটরসাইকেল যোগে স্ত্রী মর্জিনা ও সন্তান নাঈমকে (৪) নিয়ে কর্মস্থল জয়পুরহাট জেলায় যাচ্ছিলেন।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা বগুড়ার  প্রথম বাইপাস মহাসড়কের তেলীপুকুর এলাকায় পৌঁছানোর পর দুই জন ছিনতাইকারী মোটর সাইকেল নিয়ে তাদের গতিরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ছিনতাইকারীরা ফরহাদ আলির ঘাড়ে এবং উরুতে ছুরিকাঘাত করে।

এসময় স্ত্রী মর্জিনার গলা থেকে সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়ার সময় তিনি বাধা দিতে গেলে ছিনতাইকারীরা তার গালে ছুরিকাঘাত করে সোনার চেইন নিয়ে পালিয়ে যায়।

অপরদিকে অলিম্পিক সিমেন্ট কোম্পানীর মার্কেটিং ম্যানেজার সুদেব সরকার (৩৮) বার্তা২৪.কমকে বলেন তার কোম্পানীর ডিলার অভি সরকারকে (২৬) সাথে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে ব্যাংকে যাচ্ছিলেন।

তারা শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল বাজার থেকে নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে মঙ্গলবার (২৫ জুন) বেলা তিনটার দিকে শাহসুলতান কলেজের সামনে পৌঁছানোর পর মোটরসাইকেল যোগে দুইজন ছিনতাইকারী তাদের গতিরোধ করে এবং দুইজনকেই উপুর্যপরী ছুরিকাঘাত করে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।

ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী কালো রং এর পালসার মোটরসাইকেলে দুইজন স্মার্ট যুবক দুপুরে এবং রাতের এই ভিন্ন দুইটি ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে জড়িত।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ছিনতাই এর সাথে জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।’

উল্লেখ্য,গত রমজান মাসের শুরু থেকে বগুড়া শহরে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ঘটনা একেবারে নেই বললেই চলে। মঙ্গলবার দুপুরের পর কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে দুইটি ছিনতাই এর ঘটনা ঘটায় পুলিশও বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

মানিকগঞ্জে সবজির বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

মানিকগঞ্জে সবজির বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
সাটুরিয়ায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে স্থানীয়ভাবে সিরিআনাজ নামে পরিচিত কহি/ ছবি: বার্তা২৪.কম

অনুকূল আবহাওয়া আর যথাযথ পরিচর্যায় মানিকগঞ্জে সবিজর বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয় ও পাইকারি বাজারে চাহিদা থাকায় ও দাম পাওয়ায় সবজি চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি খরিপ মৌসুমে জেলার চার হাজার ১৭৯ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঢেঁড়স, ঝিঙ্গা, বরবটি, করলা, কাকরোল, বেগুন, কহি, জালি (চাল কুমড়া), ডাটাসহ বিভিন্ন ধরণের সবজি চাষ করেছেন কয়েক হাজার কৃষক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561479070901.jpg

বিশেষ করে- মানিকগঞ্জ সদর, সিংগাইর ও সাটুরিয়া উপজেলায় সবজির আবাদ হয় সবচেয়ে বেশি। রাজধানীর সাথে এসব এলাকার উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি পাইকারি বাজারেও এখানের সবজির বেশ চাহিদা রয়েছে।

জেলার সাটুরিয়া উপজেলার সবজি চাষি আনোয়ার হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘জমি তৈরি থেকে ফলন আসা পর্যন্ত এক বিঘা জমিতে কহি (স্থানীয়ভাবে সিরিআনাজ হিসেবে পরিচিত) চাষে খরচ হয় ৩০ হাজার টাকা। বাজারে কহির চাহিদা এবং ফলন ভালো হওয়ায় বাজারদরও বেশ ভালো। ফলে এক বিঘা জমি থেকে প্রায় লাখ টাকার কহি বিক্রি করা সম্ভব।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561479104155.jpg

একই এলাকার সবজি চাষি বাচ্চু মিয়া বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘৪০ হাজার টাকা খরচ করে দুই বিঘা জমিতে ঢেঁড়স আবাদ করেছি। এ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। বাজারদর ভালো থাকলে আরও প্রায় ৬০ হাজার টাকার ঢেঁড়স বিক্রি করা যাবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561479130964.jpg

জেলা কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক হাবিবুর রহমান চৌধুরী বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘রবি মৌসুমে জেলার ৯ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছিল। আর চলতি খরিপ (১) মৌসুমে চার হাজার ১৭৯ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন রকমের সবিজ আবাদ হয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আর বাজারদর ভালো থাকায় চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জের সবজি চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র