Alexa

সড়ক যেন ফসল রোপণের জমি!

সড়ক যেন ফসল রোপণের জমি!

বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগের নগরী কুমিল্লা। ছবি: বার্তা২৪.কম

ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিমা লঘুচাপে কুমিল্লায় দেখা দিয়েছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। গত মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত চলে থেমে থেমে মেঘের গর্জন আর বৃষ্টি। ফলে জনদুর্ভোগের নগরীতে পরিণত হয়েছে কুমিল্লা। মহানগরীর অন্যতম ব্যস্ততম সড়কগুলো এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ সব সড়কে ছোট বড় গর্ত আর কাদামাটিতে একাকার হয়ে গেছে। যা দেখলে মনে হবে ফসল রোপণের জন্য জমি তৈরি করা হয়েছে।

এতে করে নগরবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। এসব সড়কে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বর্ষার আগেই নগরজীবনের এমন চিত্র, আর বর্ষা এলে না জানি কী হবে এনিয়ে চলছে নগর জুড়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

এদিকে সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলছেন, এক ঠিকাদার একাধিক সড়কের টেন্ডার পাওয়ায় সংস্কার কাজ শুরু করতে সময় লাগছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মহানগরীর কান্দিপাড়, ধর্মপুর, ইপিজেড রোড, শাসনগাছা, সুজানগর ও উত্তর চর্থা এলাকায় বিভিন্ন সড়কে ছোট-বড় গর্ত আর কাদামাটি একাকার হয়ে মানুষ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নগরবাসীর একটাই দাবি- এ সব সড়ক যেন বর্ষার আগেই সংস্কার করে মানুষের চলাচল উপযোগী করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/28/1551330802467.jpg

মো. দ্বীন ইসলাম জাবেদ নামে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের এক ছাত্র বার্তা২৪.কমকে জানান, নগরীর রাণীর বাজার থেকে ধর্মপুর পশ্চিম চৌমুহনী পর্যন্ত সড়কটির বেহাল অবস্থা। দীর্ঘদিনেও এ সড়কটির উন্নতি হয়নি। যার ফলে ভিক্টোরিয়া কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন এই সড়কে যাতায়াতকারীরা চরম দুর্ভোগের স্বীকার হন। বৃষ্টি হলে তো আর কথাই নেই। খানা-খন্দ আর কাদামাটি একাকার হয়ে ভোগান্তির যেন শেষ নেই। যার কারণে যাত্রী সাধারণদেরকে যানবাহনেও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

নগরীর সুজানগর এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসাইন আকাঈদ বার্তা২৪.কমকে জানান, ২০১১ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত সুজানগর সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদামাটি একাকার হয়ে সড়কে চলাচল করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। এ এলাকার গণমানুষের দাবি- বর্ষার আগেই যেন সড়কটি সংস্কার করে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তোলে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।

মো. আবু বকর সিদ্দিক নামে উত্তর চর্থার এক ব্যক্তি বার্তা২৪.কমকে জানান, কুমিল্লার মানুষের বহুল প্রত্যাশিত সিটি করপোরেশন হলেও নগরবাসীর প্রাপ্তির জায়গাটি একেবারেই নগণ্য রয়ে গেছে। সিটির কর বাড়লেও বাড়েনি নাগরিকদের সেবার মান। চর্থা চৌমুহনী থেকে মু্ন্সেফবাড়ি পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। এছাড়াও মহিলা কলেজ থেকে হালুয়া পাড়া সড়কের অবস্থাতো আরও নাজুক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Feb/28/1551330826901.jpg

এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী ইয়াসমিন রিমা বার্তা২৪.কমকে জানান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন কাগজে-কলমে বাস্তবায়ন হলেও সে হিসেবে সফলতা পাচ্ছে না জনগণ। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা না করে কর্মপরিকল্পনা করে থাকেন। যার ফলে রাস্তাঘাটসহ নানা সমস্যা ভোগ করতে থাকে নগরের বাসিন্দারা।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বার্তা২৪.কমকে জানান, এসব সড়কের অধিকাংশ টেন্ডার হয়ে গেছে।

তবে কাজ শুরু করতে ধীরগতি কেন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, একজন ঠিকাদার একাধিক টেন্ডার পেয়েছেন। তাই কাজ শুরু করতে সময় লাগছে।

তবে আগামী বর্ষার আগে সড়কের কাজ শেষ হবে কিনা এ বিষয়ে পরিষ্কার ভাবে কিছু্ই জানাননি তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :