Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে লাঠিখেলা

কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে লাঠিখেলা
ছবি: বার্তা২৪.কম
এসএম জামাল
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
কুষ্টিয়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

এক সময় ইতিহাস-সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বাঙালির রক্তে মিশে ছিল ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। যা কালের বিবর্তনে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

তবে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মশান গ্রামের দিশা কমপ্লেক্স চত্বরে দেখা মিলল ঐতিহ্যবাহী এই লাঠিখেলার। নানা বয়সী মানুষ আগ্রহ নিয়ে ভিড় করেছিল সেখানে। আগের মতো লাঠিখেলা দেখা না গেলেও ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির ধারক হিসেবে কুষ্টিয়ার কয়েকটি এলাকার লাঠিয়াল দল এখনো ধরে রেখেছেন গ্রামবাংলার এই খেলাটি।

বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনীর সদর দপ্তর এই কুষ্টিয়ায়। ওস্তাদ মরহুম সিরাজুল ইসলামের হাতে গড়া সেই লাঠিয়াল বাহিনীরা এখনো কুষ্টিয়াসহ আশপাশের জেলায় লাঠিখেলা প্রদর্শন করে থাকেন।

জানা গেছে, জীবনের প্রয়োজনে সভ্যতার শুরু থেকেই বাঁশের লাঠি হাতে তুলে নিয়েছিল মানুষ। কখনো প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে, কখনো বা হিংস্র জীবজন্তুকে প্রতিরোধ করতে লাঠি চালানোর নানা কৌশল আবিষ্কার করেছিল মানুষ। কালক্রমে সেই বাঁশের লাঠি থেকেই ‘লাঠিয়াল’ নামে নতুন পেশার সৃষ্টি হয়েছিল। কালের বিবর্তনে সমাজজীবন থেকে সেই লাঠিয়াল বাহিনীর বিলুপ্তি ঘটলেও রূপান্তর ঘটিয়ে লোকজ ঐতিহ্যে স্থান করে নেয় লাঠিখেলা।

বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনীর আরেক ওস্তাদ আলাউদ্দিন জানান, প্রাচীনকালে জমিদাররা শক্র দমনে লাঠিয়াল পুষতেন। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর লাঠিয়ালদের প্রয়োজন ফুরালেও তাদের বংশধররা এটাকে খেলা হিসেবে আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন।

তিনি জানান, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে ওস্তাদ ভাই লাঠিখেলা বাঁচিয়ে রাখতে ও সারা দেশের লাঠিয়ালদের সংগঠিত করতে একটি সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করেন। তিনি ১৯৩৩ সালে কুষ্টিয়ায় প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনী। আর্থিক দৈন্যতাসহ নানা কারণে লাঠিয়ালদের সেইভাবে সংগঠিত করা সম্ভব না হলেও তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

কুষ্টিয়ার বেসরকারি এনজিও দিশার নির্বাহী পরিচালক রবউল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, লাঠিখেলা দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা। তবে আধুনিক খেলাধুলার ভিড়ে এই ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা হারিয়ে যেতে বসেছে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগে একে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটিকে ধরে রাখতে।

লাঠিখেলাপ্রেমী দর্শকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা যায়, লাঠিখেলা গ্রামাঞ্চলের মানুষের নির্মল বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। লাঠিখেলায় শুধু লাঠি দিয়ে খেলাই হয় না, সঙ্গে প্রদর্শন করা হয় নানা রকম শারীরিক কসরত। যেসব বাঙালি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গ্রামীণ খেলাধুলা কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে, তার মধ্যে অন্যতম একটি লাঠিখেলা। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে লাঠিখেলাকে টিকিয়ে রাখার দাবি সবার।

আপনার মতামত লিখুন :

বজ্রপাত ঠেকাতে তাল গাছের চারা রোপণ

বজ্রপাত ঠেকাতে তাল গাছের চারা রোপণ
দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাল গাছের চারা রোপণ

বজ্রপাত থেকে নিরাপদে থাকার জন্য কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে তাল গাছের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুরে দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম সরওয়ার জাহান বাদশাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরওয়ার জাহান বাদশাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী বজ্রপাত থেকে নিরাপদে থাকার জন্য সারা দেশে এ কার্যক্রম চলছে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধানের জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে আমাদের দেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ মানুষ বজ্রপাতে মারা যায় তা অনেকাংশে রোধ করা যাবে। তাই জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেকেরই একটি করে তাল গাছ রোপণ করা উচিৎ।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দীন রিমন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, জেলা পরিষদের সদস্য মায়াবী রোমান্স মল্লিক, আওয়ামী লীগ নেতা সরদার আতিয়ার রহমান আতিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ ছাদিকুজ্জামান সুমন প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাল গাছের চারা রোপণ করেন অতিথিরা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দফতর এ বছর ৫ হাজার তাল গাছের চারা বিতরণ করছে।

কুমিল্লায় গোমতী নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

কুমিল্লায় গোমতী নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
নিহত দুই শিশু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কুমিল্লার গোমতী নদীতে গোসল করতে নেমে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২১ আগস্ট) বিকালে মুরাদনগর উপজেলা সদরের রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন নিমাইকান্দি ঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের শুশুন্ডা গ্রামের ইব্রাহীমের ছেলে ইয়ামিন (৬) এবং ইব্রাহীমের ভাই চট্টগ্রাম থেকে বেড়াতে আসা রাজীবের ছেলে নাহিদ (৬)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানান, উপজেলা রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন নিমাইকান্দি এলাকার ভাড়াটিয়া জাহাপুর ইউনিয়নের শুশুন্ডা গ্রামের ইব্রাহীম মিয়ার ছেলে ইয়ামিন ও চট্টগ্রাম থেকে তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসা ইব্রাহীমের ভাই রাজীবের ছেলে নাহিদ দু'জনে বিকালে অভিভাবকদের অগোচরে গোমতী নদীতে গোসল করতে যায়। এক পর্যায়ে নদীতে গোসল করতে নেমে উভয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়।

স্বজনরা তাদেরকে দীর্ঘক্ষণ না দেখে বিভিন্ন দিকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। এক পর্যায়ে গোমতীতে ভেসে উঠে দু'জনের লাশ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে।

মুরাদনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নাহিদ আহাম্মেদ বার্তাটোয়েন্টেফোর.কমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র