Alexa

কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে লাঠিখেলা

কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে লাঠিখেলা

ছবি: বার্তা২৪.কম

এক সময় ইতিহাস-সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বাঙালির রক্তে মিশে ছিল ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। যা কালের বিবর্তনে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

তবে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মশান গ্রামের দিশা কমপ্লেক্স চত্বরে দেখা মিলল ঐতিহ্যবাহী এই লাঠিখেলার। নানা বয়সী মানুষ আগ্রহ নিয়ে ভিড় করেছিল সেখানে। আগের মতো লাঠিখেলা দেখা না গেলেও ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির ধারক হিসেবে কুষ্টিয়ার কয়েকটি এলাকার লাঠিয়াল দল এখনো ধরে রেখেছেন গ্রামবাংলার এই খেলাটি।

বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনীর সদর দপ্তর এই কুষ্টিয়ায়। ওস্তাদ মরহুম সিরাজুল ইসলামের হাতে গড়া সেই লাঠিয়াল বাহিনীরা এখনো কুষ্টিয়াসহ আশপাশের জেলায় লাঠিখেলা প্রদর্শন করে থাকেন।

জানা গেছে, জীবনের প্রয়োজনে সভ্যতার শুরু থেকেই বাঁশের লাঠি হাতে তুলে নিয়েছিল মানুষ। কখনো প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে, কখনো বা হিংস্র জীবজন্তুকে প্রতিরোধ করতে লাঠি চালানোর নানা কৌশল আবিষ্কার করেছিল মানুষ। কালক্রমে সেই বাঁশের লাঠি থেকেই ‘লাঠিয়াল’ নামে নতুন পেশার সৃষ্টি হয়েছিল। কালের বিবর্তনে সমাজজীবন থেকে সেই লাঠিয়াল বাহিনীর বিলুপ্তি ঘটলেও রূপান্তর ঘটিয়ে লোকজ ঐতিহ্যে স্থান করে নেয় লাঠিখেলা।

বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনীর আরেক ওস্তাদ আলাউদ্দিন জানান, প্রাচীনকালে জমিদাররা শক্র দমনে লাঠিয়াল পুষতেন। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর লাঠিয়ালদের প্রয়োজন ফুরালেও তাদের বংশধররা এটাকে খেলা হিসেবে আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন।

তিনি জানান, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে ওস্তাদ ভাই লাঠিখেলা বাঁচিয়ে রাখতে ও সারা দেশের লাঠিয়ালদের সংগঠিত করতে একটি সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করেন। তিনি ১৯৩৩ সালে কুষ্টিয়ায় প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনী। আর্থিক দৈন্যতাসহ নানা কারণে লাঠিয়ালদের সেইভাবে সংগঠিত করা সম্ভব না হলেও তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

কুষ্টিয়ার বেসরকারি এনজিও দিশার নির্বাহী পরিচালক রবউল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, লাঠিখেলা দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা। তবে আধুনিক খেলাধুলার ভিড়ে এই ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা হারিয়ে যেতে বসেছে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগে একে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটিকে ধরে রাখতে।

লাঠিখেলাপ্রেমী দর্শকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা যায়, লাঠিখেলা গ্রামাঞ্চলের মানুষের নির্মল বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। লাঠিখেলায় শুধু লাঠি দিয়ে খেলাই হয় না, সঙ্গে প্রদর্শন করা হয় নানা রকম শারীরিক কসরত। যেসব বাঙালি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, গ্রামীণ খেলাধুলা কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে, তার মধ্যে অন্যতম একটি লাঠিখেলা। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে লাঠিখেলাকে টিকিয়ে রাখার দাবি সবার।

আপনার মতামত লিখুন :