Alexa

লালমনিরহাট বিমানবন্দরের সম্ভাব্যতা যাচাই

লালমনিরহাট বিমানবন্দরের সম্ভাব্যতা যাচাই

লালমনিরহাট বিমানবন্দরে চলছে বিমান, ছবি: বার্তা২৪

লালমনিরহাট বিমানবন্দরের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সফলভাবে ফিক্সড উইং বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ করিয়েছে বিমানবাহিনী। মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সারাদিন ওই বিমানবন্দরে দুটি বিমান একাধিকবার সফলভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে দেখা গেছে।

যদিও আন্তঃবাহিনী সংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে বুধবার (১৩ মার্চ) এ বিমানবন্দর পরিদর্শনে আসবেন বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত।

সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ও হারাটি ইউনিয়নের এক হাজার ১৬৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে ১৯৩১ সালে এ বিমান ঘাঁটি তৈরি করে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনী এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এ বিমানবন্দরটি ব্যবহার করে। ১৯৪৫ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটি অব্যবহৃত হিসেবে জৌলুস হারাতে থাকে। তবে ১৯৫৮ সালে স্বল্প পরিসরে বিমান সার্ভিস চালু হলেও তা বেশি দিন চালু ছিল না।

দেশ স্বাধীনের পর এই বিমানবন্দরটি বিমান বাহিনীর হেডকোয়ার্টার করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ফলে ৪ কিলোমিটার রানওয়ে, বিশাল টারমাক, হ্যাঙ্গার, ট্যাক্সিওয়েগুলো পরিত্যক্ত থেকে যায়। ১৯৮৩ সাল থেকে এখানে কৃষি প্রকল্প গড়ে তোলে বিমানবাহিনী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/12/1552405104130.jpg

জানা গেছে, বুড়িমারী স্থলবন্দরের পাসপোর্ট ধারী ভারত, ভুটান ও নেপালের যাত্রীদের আকাশ পথে ঢাকার সাথে যোগাযোগ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ বিমানবন্দর। এছাড়াও স্থলবন্দরসহ এ অঞ্চলের ব্যবসা প্রসারে বিমানবন্দরটি চালুর দাবি করে আসছিল জেলাবাসী। এ দাবি পূরণে বর্তমান সরকার বিমানবন্দরটি চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই পরিত্যক্ত রানওয়েতে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ পরীক্ষা করছে বিমান বাহিনীর যশোহ ঘাঁটির একটি টিম।

লালমনিরহাট বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বিমানবাহিনীর প্রকৌশলীরা এই রানওয়েতে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণ করিয়ে রানওয়ে স্ক্যান করার পাশাপাশি আকাশসীমাও পরিমাপ করেছেন। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে এটি চালু করা হবে কিনা- তা জানা যাবে। তবে বিমানবাহিনীর প্রধান সরেজমিনে এ বিমানবন্দর পরিদর্শনে বুধবার (১৩ মার্চ) লালমনিরহাট আসবেন। পরিদর্শন শেষে এ বন্দর থেকে একটি বিমানে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

বিমান বাহিনীর ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এ বিমানবন্দর চালু করতে হলে সীমানা প্রাচীরসহ বেশ কিছু কাজ করতে হবে।

বিভিন্ন দফতরে পাঠানো লালমনিরহাট বিমানবাহিনীর অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার খায়রুল মামুন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি চালু করতে সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাই বন্দরটির সম্ভবতা যাচাই করতে ফিক্সড উইং (এল ৪১০) উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে নিরাপত্তা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসকে প্রস্তুত থাকতে বলা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :