Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ইয়াবা ব্যবসা

১০ বছর পর ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ হয়ে ফেরেন জাফর

১০ বছর পর ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ হয়ে ফেরেন জাফর
আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া মেহেরপুরের যুবক জাফর আলী/ ছবি: সংগৃহীত
মাজেদুল হক মানিক
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
মেহেরপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

হাফেজ পাশ করার পর গত ১০ বছর ধরে নিখোঁজ যুবক জাফর আলী। জঙ্গি সম্পৃক্ততায় জড়িয়েছে নাকি মারা গেছে- এ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ছিল নানা সমালোচনা। কিন্তু সবার ভাবনা ভুল প্রমাণ করে জাফর আলী ফিরে আসেন বাড়িতে।

তবে একের পর এক সম্পত্তি ক্রয় ও গাড়ি-বাড়ির মালিক বনে যাওয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে নতুন সন্দেহ দানা বাঁধে। সেই সন্দেহ অবশেষে সত্যি হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ইয়াবা কারবারের সাথে জড়িয়ে আছেন জাফর।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাতে চট্রগ্রমের পতেঙ্গা এলাকা থেকে সাড়ে ৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করে র‌্যাব। ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ বনে যাওয়ার বিষয়টি তাই এলাকার মানুষের মাঝে এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়।

আটক যুবকের নাম জাফর আলী হলেও র‌্যাবের কাছে তিনি প্রকৃত নাম ঠিকানা গোপন করেছেন। তার পিতার নাম মৃত শাহজান আলী। বাড়ি মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মানিকনগর গ্রামে।

চট্রগ্রামের র‌্যাব-৭ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে চট্রগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন মহাজনঘাটা এলাকায় র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানে হাতে একটি ব্যাগে সাড়ে ৯ হাজার ইয়াবাসহ জাফর আলীকে আটক করে র‌্যাব।

র‌্যাব-৭ এর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আটক যুবকের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার নাম আশিকুর রহমান। বয়স ২৯। ঠিকানা কুষ্টিয়া।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/18/1552885713105.jpg

র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা জানান, র‌্যাবের দায়ের করা মামলার আসমি হিসেবে এখন চট্রগ্রামের জেল হাজতে রয়েছেন ঐ যুবক। তবে মামলার তদন্তের সময় তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে পুলিশ।

এদিকে র‌্যাবের হাতে আটকের একদিন পর বিষয়টি জানতে পারেন পরিবার ও তার গ্রামবাসী। র‌্যাব সদস্যদের মাঝে আসামি হিসেবে তার ছবি দেখে তারা নিশ্চিত হন জাফরের ইয়াবা কারবারের বিষয়টি।

আটক জাফর আলী ওরফে আশিকুর রহমানের পরিবারের লোকজন জানান, আট থেকে ১০ বছর আগে জাফর কুষ্টিয়া হরিপুর মাদ্রাসা থেকে হাফেজ পাশ করেন। এরপর থেকেই তার সাথে পরিবারের যোগাযোগ বিছিন্ন। পরিবার ধরেই নিয়েছিল, হয়তো আর বেঁচে নেই। এরই মধ্যে বছরখানে আগে আকস্মিক তিনি বাড়ি ফেরেন এবং পরিবারকে জানান, চট্রগ্রামে একটি দোকান নিয়ে কাপড় ব্যবসা করেন এবং তার স্ত্রী গার্মেন্টসে চাকরি করেন।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, জাফর বাড়ি ফিরে একের পর জমি ক্রয় করেন। প্রথমে মানিকনগর গ্রামের আব্দুস সবুরের কাছ থেকে ৭ কাঠা জমি কেনেন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। এর পরে একই গ্রামের মাসুদ মল্লিকের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকায় ৫ কাঠা জমি কেনে। সর্বশেষ বল্লভপুর গ্রামের সিরাজ উদ্দীনের ৪ কাঠা কেনে ৬ লাখ টাকায়। এছাড়া মানিকনগর আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসা মার্কেটে ৬ লাখ টাকায় ৩টি দোকান ঘর বরাদ্দ নেন।

আড়াই লাখ টাকা মূল্যের একটি মোটর সাইকেল কিনেছেন। জমি ও মোটর সাইকেল ক্রয়ের পাশাপাশি প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচে বসতবাড়িতে এক আকর্ষণীয় মডেলের ঘর নির্মাণ করছেন। ছোট ভাই জাহাঙ্গীর প্রায়ই ভারতে যাওয়া আসা করেন। তিনিও জাফরের কোনো কাজের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন কিনা তা নিয়েও এলাকার মানুষের মাঝে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক জাফরের পিতা প্রয়াত শাহজাহান আলী ছিলেন স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। এলাকায় সুনামধারী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। জাফরের এই অপকর্মে পরিবারের পাশাপাশি এলাকার মানুষও বিব্রত।

আপনার মতামত লিখুন :

ভুঞাপু‌রে কম‌তে শুরু ক‌রে‌ছে যমুনার পা‌নি

ভুঞাপু‌রে কম‌তে শুরু ক‌রে‌ছে যমুনার পা‌নি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

টাঙ্গাই‌লের ভুঞাপু‌র উপজেলায় যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার (১৯ জুলাই) বি‌কে‌লের পর থে‌কেই পানি কমতে দেখা যায়।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ভুঞাপুরে যমুনা নদীর পা‌নি দুই সে‌ন্টি‌মিটার ক‌মে বিপদসীমার ৯৭ সে‌ন্টি‌মিটার ওপর দি‌য়ে বইছে। অথচ দুপুরেও এই পয়েন্টে পা‌নি ‌বিপদসীমার ৯৯ সে‌ন্টি‌মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

Tangail Flood

টাঙ্গাইলের পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, বি‌কে‌লের পর থে‌কে যমুনা নদী‌তে কিছুটা পা‌নি হ্রাস পে‌য়ে‌ছে। ধারণা করা হচ্ছে, শ‌নিবার (২০ জুলাই) থে‌কে পা‌নি আরও কমবে।

আরও পড়ুন: ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক মেরামতে সেনাবাহিনী

ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে পরিবার আটক

ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে পরিবার আটক
গুজব ছড়িয়ে এক পরিবারের চার সদস্যকে আটক করে স্থানীয়রা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বগুড়ায় ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে প্রাইভেট কারসহ একটি পরিবারকে আটক করে স্থানীয় পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নেতৃত্বে এলাকাবাসী। এ সময় অল্পের জন্য গণপিটুনী থেকে রক্ষা পেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরতলীর সাবগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য সরোয়ার হোসেন প্রাইভেট কার যোগে স্ত্রী সন্তান নিয়ে সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীতে বন্যার পানি দেখতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে গাবতলী পৌর সভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহেল রানার মোটরসাইকেলের সাথে প্রাইভেট কারের ধাক্কা লাগে।

এ সময় প্রাইভেট কার থামাতে বললে চালক সরোয়ার হোসেন না থামিয়ে বগুড়া শহরের দিকে যেতে থাকেন। সোহেল রানা মোটরসাইকেল নিয়ে প্রাইভেট কারের পিছু ধাওয়া করেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রাইভেট কারটি সাবগ্রাম দ্বিত্বীয় বাইপাস মহাসড়কে যানজটে আটকা পড়লে সোহেল রানা ছেলে ধরা গুজব ছড়ান। এ সময় স্থানীয় জনগণ প্রাইভেট কারে দুই শিশু দেখে তাদেরকে আটক করে। মুহূর্তের মধ্যে ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে পড়লে শত-শত জনগণ তাদেরকে ঘেরাও করে।

সরোয়ার হোসেন এ সময় স্ত্রী সন্তান নিয়ে দৌড়ে একটি দোকান ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘থানায় আসার পর ভুল বোঝাবুঝির অবসান হলে সরোয়ার হোসেন স্ত্রী সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র