Alexa

ইয়াবা ব্যবসা

১০ বছর পর ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ হয়ে ফেরেন জাফর

১০ বছর পর ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ হয়ে ফেরেন জাফর

আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া মেহেরপুরের যুবক জাফর আলী/ ছবি: সংগৃহীত

মাজেদুল হক মানিক, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, মেহেরপুর, বার্তা২৪.কম

হাফেজ পাশ করার পর গত ১০ বছর ধরে নিখোঁজ যুবক জাফর আলী। জঙ্গি সম্পৃক্ততায় জড়িয়েছে নাকি মারা গেছে- এ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ছিল নানা সমালোচনা। কিন্তু সবার ভাবনা ভুল প্রমাণ করে জাফর আলী ফিরে আসেন বাড়িতে।

তবে একের পর এক সম্পত্তি ক্রয় ও গাড়ি-বাড়ির মালিক বনে যাওয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে নতুন সন্দেহ দানা বাঁধে। সেই সন্দেহ অবশেষে সত্যি হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ইয়াবা কারবারের সাথে জড়িয়ে আছেন জাফর।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাতে চট্রগ্রমের পতেঙ্গা এলাকা থেকে সাড়ে ৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করে র‌্যাব। ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ বনে যাওয়ার বিষয়টি তাই এলাকার মানুষের মাঝে এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়।

আটক যুবকের নাম জাফর আলী হলেও র‌্যাবের কাছে তিনি প্রকৃত নাম ঠিকানা গোপন করেছেন। তার পিতার নাম মৃত শাহজান আলী। বাড়ি মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মানিকনগর গ্রামে।

চট্রগ্রামের র‌্যাব-৭ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে চট্রগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন মহাজনঘাটা এলাকায় র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। অভিযানে হাতে একটি ব্যাগে সাড়ে ৯ হাজার ইয়াবাসহ জাফর আলীকে আটক করে র‌্যাব।

র‌্যাব-৭ এর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আটক যুবকের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার নাম আশিকুর রহমান। বয়স ২৯। ঠিকানা কুষ্টিয়া।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/18/1552885713105.jpg

র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা জানান, র‌্যাবের দায়ের করা মামলার আসমি হিসেবে এখন চট্রগ্রামের জেল হাজতে রয়েছেন ঐ যুবক। তবে মামলার তদন্তের সময় তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে পুলিশ।

এদিকে র‌্যাবের হাতে আটকের একদিন পর বিষয়টি জানতে পারেন পরিবার ও তার গ্রামবাসী। র‌্যাব সদস্যদের মাঝে আসামি হিসেবে তার ছবি দেখে তারা নিশ্চিত হন জাফরের ইয়াবা কারবারের বিষয়টি।

আটক জাফর আলী ওরফে আশিকুর রহমানের পরিবারের লোকজন জানান, আট থেকে ১০ বছর আগে জাফর কুষ্টিয়া হরিপুর মাদ্রাসা থেকে হাফেজ পাশ করেন। এরপর থেকেই তার সাথে পরিবারের যোগাযোগ বিছিন্ন। পরিবার ধরেই নিয়েছিল, হয়তো আর বেঁচে নেই। এরই মধ্যে বছরখানে আগে আকস্মিক তিনি বাড়ি ফেরেন এবং পরিবারকে জানান, চট্রগ্রামে একটি দোকান নিয়ে কাপড় ব্যবসা করেন এবং তার স্ত্রী গার্মেন্টসে চাকরি করেন।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, জাফর বাড়ি ফিরে একের পর জমি ক্রয় করেন। প্রথমে মানিকনগর গ্রামের আব্দুস সবুরের কাছ থেকে ৭ কাঠা জমি কেনেন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। এর পরে একই গ্রামের মাসুদ মল্লিকের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকায় ৫ কাঠা জমি কেনে। সর্বশেষ বল্লভপুর গ্রামের সিরাজ উদ্দীনের ৪ কাঠা কেনে ৬ লাখ টাকায়। এছাড়া মানিকনগর আমিনিয়া আলিম মাদ্রাসা মার্কেটে ৬ লাখ টাকায় ৩টি দোকান ঘর বরাদ্দ নেন।

আড়াই লাখ টাকা মূল্যের একটি মোটর সাইকেল কিনেছেন। জমি ও মোটর সাইকেল ক্রয়ের পাশাপাশি প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচে বসতবাড়িতে এক আকর্ষণীয় মডেলের ঘর নির্মাণ করছেন। ছোট ভাই জাহাঙ্গীর প্রায়ই ভারতে যাওয়া আসা করেন। তিনিও জাফরের কোনো কাজের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন কিনা তা নিয়েও এলাকার মানুষের মাঝে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক জাফরের পিতা প্রয়াত শাহজাহান আলী ছিলেন স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। এলাকায় সুনামধারী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। জাফরের এই অপকর্মে পরিবারের পাশাপাশি এলাকার মানুষও বিব্রত।

জেলা এর আরও খবর