Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

৮১-তেও বয়স্ক ভাতা মেলেনি কাপ্তানের নেছার

৮১-তেও বয়স্ক ভাতা মেলেনি কাপ্তানের নেছার
মুরাদনগরের ৮১ বছর বয়সী কাপ্তানের নেছা/ ছবি: বার্তা২৪.কম
জাহিদ পাটোয়ারী
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
কুমিল্লা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বয়সের ভারে ন্যুব্জ রুগ্ন শরীর নিয়ে তপ্ত দুপুরে খাবারের সন্ধানে সড়কে হাঁটছেন এক বৃদ্ধা মহিলা। পরনে একটি পুরনো কাপড় তাও বেশ কয়েক জায়গায় ছেড়া, বয়স বাড়ার সাথে সাথে শ্রবন শক্তিও কমে গেছে তার। উচ্চস্বরে কথা না বললে বুঝতে পারেন না তিনি।

৮১ বছর বয়সী স্বামীহারা এই বৃদ্ধা হলেন কুমিল্লার মুরাদনগরের বাসিন্দা কাপ্তানের নেছা। এই বয়সেও কোনো প্রকার সরকারি ভাতা জোটেনি কাপ্তানের নেছার। উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের এই বৃদ্ধার সহায় সম্বল বলতে কিছু নেই।

স্বামী কেরামত আলী মারা গেছেন প্রায় ৩০ বছর আগে, ছেলে নেই, একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বিধবা কাপ্তানের নেছার ভিটেমাটি বলতে কিছু নেই, থাকেন প্রতিবেশির একটি রান্না ঘরে। রাত পোহালে খাবারের সন্ধানে হাঁটতে থাকেন গ্রামে গ্রামে। খাবার না পেলে না খেয়েই থাকেন এই বৃদ্ধা। এভাবেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন কাপ্তানের নেছা।

জানা গেছে, সরকারি ভাতার আশায় স্থানীয় মেম্বার মনির হোসেন মোল্লার কাছে এক বছর আগে আইডি কার্ড জমা দিয়েছেন কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। ভাতার আশায় মেম্বারের বাড়িতে প্রায়ই যান তিনি। হাসপাতালে গিয়ে টাকা খরচ করে চিকিৎসা করানো তার কাছে অলীক কল্পনা।

কাপ্তানের নেছা বার্তা২৪.কম-কে জানান, ‘আমার ভিটেমাটি নেই, আত্মীয় স্বজনও নেই। সরকার থেকে যদি একটি ঘরের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি একটি ভাতা চালু করে দিতো, তাহলে আমার কষ্টের কিছুটা লাগব হতো।‘

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির হোসেন মোল্লা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমার কাছে বৃদ্ধার আইডি কার্ডটি আছে, চেষ্টা করবো তাকে সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্যে।’

উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কবির আহম্মেদ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘ইউনিয়ন কমিটি এই বিষয়টি আমার নজরে না আনার ফলে এতোদিন তার ভাতার ব্যবস্থা হয়নি। মহিলার আইডি কার্ড জমা নিয়ে দ্রুত ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মিতু মরিয়ম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘কাপ্তানের নেছার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যত দ্রুত সম্ভব তার আইডি কার্ডটি সংগ্রহ করে সরকারিভাবে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

মেহেরপুরে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিনিময়, নিহত ১

মেহেরপুরে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিনিময়, নিহত ১
হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয় নিহতের মরদেহ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভিপুর গ্রামে দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে হামিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। 

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) রাত ৩টার দিকে গোভিপুর গ্রামের মাথাভাঙ্গা মোড় নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে। নিহত হামিদুল ইসলাম সদর উপজেলার বুড়িপোতা গ্রামের আরোজ আলীর ছেলে।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ দারা খান জানান, রাত ৩টার দিকে গোভিপুর গ্রামে দুই দল মাদক ব্যবসায়ী মধ্যে গুলিবিনিময় হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ একজনের মরদেহ পাওয়া যায়। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, দুই রাউন্ড গুলি ও ১২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

মাদক ব্যবসার বিরোধ নিয়ে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বলেও জানান।

কমছে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি, রয়েছে বন্যার প্রভাব

কমছে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি, রয়েছে বন্যার প্রভাব
পানিতে তলিয়ে আছে সড়ক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে থাকলেও জামালপুরে বন্যার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সড়কগুলোর যোগাযোগ কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও রেল পথ বন্ধ রয়েচে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ২৫ হাজার ৯০০ হেক্টর ফসলি জমি ও ৪ লাখ ৫০ হাজার গবাদি পশু পাখি এবং পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ায় খামারিদের লোকসান হয়েছে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা।

গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ২৭ সেন্টিমিটার কমে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সকালে যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করা জেলার ৬২ টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563849958030.JPG

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বন্যায় জামালপুর-শেরপুরে সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকায় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে আছে। দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ী উপজেলায় রেল লাইনে পানি উঠায় ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ। বন্যা কবলিত এলাকায় ১ হাজার ১২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, পানি কমতে থাকলেও খাবারের অভাব ও বিশুদ্ধ পানি এবং গো খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে ।
বন্যা কবলিত এলাকায় ৬০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছে ৪২ হাজার ৭৩০জন বানভাসি মানুষ। এখন পর্যন্ত বন্যার পানিতে মারা গেছে শিশুসহ ২২জন মানুষ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র