Alexa

৮১-তেও বয়স্ক ভাতা মেলেনি কাপ্তানের নেছার

৮১-তেও বয়স্ক ভাতা মেলেনি কাপ্তানের নেছার

মুরাদনগরের ৮১ বছর বয়সী কাপ্তানের নেছা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

বয়সের ভারে ন্যুব্জ রুগ্ন শরীর নিয়ে তপ্ত দুপুরে খাবারের সন্ধানে সড়কে হাঁটছেন এক বৃদ্ধা মহিলা। পরনে একটি পুরনো কাপড় তাও বেশ কয়েক জায়গায় ছেড়া, বয়স বাড়ার সাথে সাথে শ্রবন শক্তিও কমে গেছে তার। উচ্চস্বরে কথা না বললে বুঝতে পারেন না তিনি।

৮১ বছর বয়সী স্বামীহারা এই বৃদ্ধা হলেন কুমিল্লার মুরাদনগরের বাসিন্দা কাপ্তানের নেছা। এই বয়সেও কোনো প্রকার সরকারি ভাতা জোটেনি কাপ্তানের নেছার। উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের এই বৃদ্ধার সহায় সম্বল বলতে কিছু নেই।

স্বামী কেরামত আলী মারা গেছেন প্রায় ৩০ বছর আগে, ছেলে নেই, একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বিধবা কাপ্তানের নেছার ভিটেমাটি বলতে কিছু নেই, থাকেন প্রতিবেশির একটি রান্না ঘরে। রাত পোহালে খাবারের সন্ধানে হাঁটতে থাকেন গ্রামে গ্রামে। খাবার না পেলে না খেয়েই থাকেন এই বৃদ্ধা। এভাবেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন কাপ্তানের নেছা।

জানা গেছে, সরকারি ভাতার আশায় স্থানীয় মেম্বার মনির হোসেন মোল্লার কাছে এক বছর আগে আইডি কার্ড জমা দিয়েছেন কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। ভাতার আশায় মেম্বারের বাড়িতে প্রায়ই যান তিনি। হাসপাতালে গিয়ে টাকা খরচ করে চিকিৎসা করানো তার কাছে অলীক কল্পনা।

কাপ্তানের নেছা বার্তা২৪.কম-কে জানান, ‘আমার ভিটেমাটি নেই, আত্মীয় স্বজনও নেই। সরকার থেকে যদি একটি ঘরের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি একটি ভাতা চালু করে দিতো, তাহলে আমার কষ্টের কিছুটা লাগব হতো।‘

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির হোসেন মোল্লা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমার কাছে বৃদ্ধার আইডি কার্ডটি আছে, চেষ্টা করবো তাকে সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্যে।’

উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কবির আহম্মেদ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘ইউনিয়ন কমিটি এই বিষয়টি আমার নজরে না আনার ফলে এতোদিন তার ভাতার ব্যবস্থা হয়নি। মহিলার আইডি কার্ড জমা নিয়ে দ্রুত ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মিতু মরিয়ম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘কাপ্তানের নেছার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যত দ্রুত সম্ভব তার আইডি কার্ডটি সংগ্রহ করে সরকারিভাবে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :